ব্যবসা ও বাণিজ্য সংবাদ

নির্ধারিত দামের বাইরে সিলিন্ডার গ্যাস: ১৩০৬ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়-নিয়ন্ত্রণহীন বাজার, নজরদারির ঘাটতিতে ভোক্তা জিম্মি

  প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২০:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত দামের বাইরে সিলিন্ডার গ্যাস: ১৩০৬ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়-নিয়ন্ত্রণহীন বাজার, নজরদারির ঘাটতিতে ভোক্তা জিম্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক ঘোষিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৩০৬ টাকা। অথচ বাস্তবে কোথাও এই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ এলাকায় ১,৫০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার মিলছে না; কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়।

মাঠপর্যায়ের চিত্র

রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম,বরিশাল,খুলনা,রাজশাহী ও মফস্বল শহর ঘুরে দেখা গেছে—খুচরা বিক্রেতারা সরকারি মূল্য তালিকা মানছেন না।দোকানিরা বলছেন,ডিলার পর্যায় থেকেই বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বরিশালের এক খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

> “আমরা যদি ১,৩০৬ টাকায় বিক্রি করি,তাহলে লোকসান গুনতে হবে। ডিলাররাই আমাদের ১,৬০০–১,৭০০ টাকার নিচে দেয় না।”

ডিলারদের যুক্তি

ডিলারদের দাবি,পরিবহন ব্যয়,ঘাটতি,কমিশন এবং কোম্পানির চাপের কারণে তারা নির্ধারিত দামে সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা অনুমোদন নেই।

আইন কী বলে?

বিইআরসি আইন,২০০৩ অনুযায়ী—

কমিশন নির্ধারিত দামের বাইরে জ্বালানি বিক্রি অপরাধ

অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে

কিন্তু বাস্তবে এসব বিধান কার্যকর হচ্ছে না বলেই অভিযোগ ভোক্তাদের।

ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন

ভোক্তারা বলছেন,সিলিন্ডার গ্যাস এখন বিলাস নয়, প্রয়োজন।রান্না,হোটেল-রেস্তোরাঁ,ক্ষুদ্র ব্যবসা—সবখানেই এলপিজির উপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন দামে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ঢাকার এক গৃহিণী বলেন,

> “সরকার দাম ঠিক করে দিলেও সেটা কাগজেই আছে। বাজারে গেলে সবাই নিজের মতো দাম হাঁকে।”

নজরদারির ঘাটতি

বিশেষজ্ঞদের মতে,মূল সমস্যা হলো—

মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং নেই

ডিলার–কোম্পানি–খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা

ভোক্তা অভিযোগের কার্যকর ব্যবস্থা নেই

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য,

> “লিটার ও কেজি ভিত্তিক বিক্রির পার্থক্য,ঘনত্বের অজুহাত দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফা করা হচ্ছে।”

বিইআরসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বিইআরসি নিয়মিত দাম ঘোষণা করলেও বাস্তব বাজার তদারকিতে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযান বা জরিমানার খবরও খুব কমই দেখা যায়।

দাবি ও সুপারিশ

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো দাবি জানিয়েছে—

ডিলার ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম

দোকানে দৃশ্যমান মূল্য তালিকা বাধ্যতামূলক করা

হটলাইন ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা

উপসংহার

সরকার নির্ধারিত ১,৩০৬ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার যখন বাজারে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হয়,তখন তা শুধু মূল্যবৃদ্ধি নয়—এটি স্পষ্টভাবে ভোক্তা অধিকার ও আইনের লঙ্ঘন।কার্যকর নজরদারি ছাড়া এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে না—এটাই বাস্তবতা।

আরও খবর

Sponsered content