প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৫৫:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা উপজেলার অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,দিনের পর দিন নদীর বুক কেটে বালু নেওয়ার কারণে প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের জমিদার বাড়িসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি,ফসলি জমি ও স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।যেকোনো সময় এসব বসতভিটা ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়,দীর্ঘদিন ধরে হিজলা অংশে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন চলছে।এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীররক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উলানিয়া এলাকার তীরভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মেজবাউদ্দিন ফরহাদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“এই বালুমহল থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা কার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে এবং কারা এই অর্থ ভোগ করছে?কেন এখনো এই অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?”
তার ওই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।ফলে সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ,দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং নদী তীর সংরক্ষণে জরুরি প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।














