প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:১৫:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী—যার বয়স রাষ্ট্রীয় নথিতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত—তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ভুল নয়। এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা,আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার এক ভয়াবহ চিত্র।গাজীপুরে তাহরিমা জান্নাত সুরভীর ঘটনায় আমরা দেখছি,আইন নয়—ক্ষমতা ও স্বেচ্ছাচারই কীভাবে শেষ কথা হয়ে উঠছে।

শিশু আইন,২০১৩ শুধু একটি সাধারণ আইন নয়; এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য একটি নৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার।সেই অঙ্গীকার ভেঙে যখন একটি শিশুকে বেআইনিভাবে রিমান্ডে পাঠানো হয়,তখন তা কেবল একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্ত বা পুলিশের আবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—তা রাষ্ট্রকেই অভিযুক্ত করে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,বয়স সংক্রান্ত সরকারি জন্ম সনদ থাকা সত্ত্বেও সেটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।এটি সরাসরি প্রশ্ন তোলে—রাষ্ট্রীয় নথির মূল্য তাহলে কোথায়?যদি জন্ম সনদও একজন শিশুকে রক্ষা করতে না পারে,তবে দরিদ্র ও প্রান্তিক শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?
এই ঘটনা আমাদের আরও একটি নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়—দায়মুক্তির সংস্কৃতি।মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিমান্ড আবেদন,তথ্য গোপন,শিশু আইন লঙ্ঘন—এসবের পরও যদি কোনো জবাবদিহি না থাকে,তবে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে।আজ সুরভী,কাল অন্য কোনো নাম।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিষয়টি গুরুতর।বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র।কিন্তু বাস্তবে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নীতি উপেক্ষা করে এমন আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মানবাধিকার অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির গল্প তখন বিশ্বাসযোগ্য থাকে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন নয়,নাগরিক—বিশেষত শিশুদের—সুরক্ষা নিশ্চিত করা।একজন শিশুকে রিমান্ডে পাঠানো মানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া,যা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।
এই সম্পাদকীয়র মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—সুরভীর ঘটনায় অবিলম্বে রিমান্ড আদেশ বাতিল,মামলাটি শিশু আদালতে স্থানান্তর এবং দায়ী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্ত করা জরুরি।নইলে শিশু আইন কেবল কাগজে থাকবে,আর বাস্তবে শিশুদের জন্য রাষ্ট্র নিজেই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় হুমকি।
আজ প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি তার শিশুদের রক্ষা করবে,নাকি ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দিয়ে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে?
কঠোর ও স্পষ্ট শিরোনাম যুক্ত করে দিয়েছি।
এখন রিপোর্ট ও সম্পাদকীয়—দুটোতেই মূল অভিযোগটি এক লাইনে আঘাত করে উঠে এসেছে:
> “প্রাপ্য বয়স না দেখিয়ে রিমান্ড”
— যা সরাসরি আদালত ও পুলিশের দায় প্রশ্নবিদ্ধ করে।













