জাতীয়

নির্বাচনের আগেই রাষ্ট্রীয় কুটচাল? বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে ‘ইলেকশন মেডলিং’-এর নগ্ন নীলনকশা

  প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:২৭:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনের আগেই রাষ্ট্রীয় কুটচাল? বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে ‘ইলেকশন মেডলিং’-এর নগ্ন নীলনকশা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা (২০ জানুয়ারি) সামনে রেখে যে চিত্রটি উন্মোচিত হচ্ছে,তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর থেকে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত নির্বাচনী কুটচালের ইঙ্গিত।একাধিক বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রের তথ্যমতে,সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশ পরিকল্পিতভাবে বিএনপির প্রার্থীদের টার্গেট করছে,যাতে নির্বাচন শুরুর আগেই বিরোধী শক্তিকে কোণঠাসা করা যায়।

মনোনয়নের আগেই ‘বেকায়দা অপারেশন’

সূত্রগুলোর ভাষ্য,মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে—

হঠাৎ মামলা ও তদন্ত,

প্রশাসনিক আপত্তিতে মনোনয়ন বাতিল,

অদৃশ্য চাপ ও ভয়ভীতি

চালু করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক পরিভাষায় এটিই Election Meddling—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।

উপদেষ্টা মহলের ভূমিকা: রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ

তথ্য অনুযায়ী,সরকারের অন্তত তিনজন উপদেষ্টা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।সাম্প্রতিক এক ঘটনায় একটি জাতীয় দৈনির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সামনে এক উপদেষ্টার বক্তব্য—

> “জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে এত দেরি কেন?”

এই উক্তি কেবল রাজনৈতিক পছন্দ প্রকাশ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় পদে থেকে নির্বাচনী সমীকরণ নির্ধারণের নগ্ন ইঙ্গিত।

৭৮ সচিবের গোপন রিপোর্ট: প্রশাসন কি নিরপেক্ষ?

আরও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে কথিত ৭৮ জন সচিবের গোপন মূল্যায়ন রিপোর্টে।সেখানে বলা হয়েছে—

৬৫ জন সচিব আদর্শিকভাবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতঘেঁষা

মাত্র ১৩ জন তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ

অভিযোগ রয়েছে,এই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে শর্তসাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে—একটি মাত্র উদ্দেশ্যে: নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিশ্চিত করা।

বিএনপি জিতবে জেনেও এই ষড়যন্ত্র কেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন স্পষ্ট—

যদি বিএনপি বড় ব্যবধানে জয়ের পথে থাকে, তবে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়োজন কার?

কারা চায় একটি বিতর্কিত ফলাফলের মাধ্যমে ক্ষমতার দরকষাকষি?

উত্তর মিলছে একটি জায়গায়—নির্বাচনের বৈধতা দুর্বল করে পর্দার আড়ালে ক্ষমতা পুনর্বণ্টন।

জামায়াত–এনসিপি: ‘গুপ্ত জামায়াত’-এর বি-টিম কৌশল

জুলাই আন্দোলনের সময় যাদের ‘গণতান্ত্রিক মুখ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল,তাদের নিয়েই এখন গুরুতর অভিযোগ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—

জামায়াত সরাসরি সামনে না এসে এনসিপিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে

নাহিদ–নাসির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী শুরু থেকেই আদর্শিকভাবে জামায়াতঘেঁষা

শেষ মুহূর্তে মাত্র ৩০টি আসনে নির্বাচন করে জোটের নাটক

এটি ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করে শেষ সময়ে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশের কৌশল।

সিনিয়র নেত্রীদের পদত্যাগ: ভেতরের সত্য ফাঁস

এনসিপির ভেতরের ভাঙন প্রকাশ্যে আসে যখন—

ডা. তাসনুভা জাবীন,

ডা. তাসনীম জারা সহ সাতজন সিনিয়র নেত্রী একযোগে পদত্যাগ করেন।

ডা. তাসনুভা জাবীনের প্রকাশ্য পোস্টে দল গঠনের পেছনের পরিকল্পিত কাঠামো ও জামায়াত-সংযোগের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত উঠে আসে।

উগ্র হুংকার বনাম বাস্তব অযোগ্যতা

একদিকে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন উগ্র বক্তব্য,অন্যদিকে নিজের দলে সাতজন যোগ্য নারী নেত্রী ধরে রাখতে ব্যর্থতা—এই দ্বিচারিতা এনসিপির রাজনৈতিক ফাঁপা অবস্থানকেই নগ্ন করে।

উপসংহার: রাষ্ট্র কোন পথে?

এই অনুসন্ধান একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে—

নির্বাচন কি জনগণের ভোটে হবে,নাকি রাষ্ট্রের ভেতরের গোপন জোট ও কুটচালে?

অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়,তবে এটি সংবিধান,গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।আর যদি মিথ্যা হয়, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব—স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি অভিযোগের জবাব দেওয়া।

একটি বিষয় পরিষ্কার—এই নির্বাচন আর শুধু নির্বাচন নেই; এটি রাষ্ট্র বনাম জনগণের বিশ্বাসের লড়াই।

আরও খবর

Sponsered content