রাজনীতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কার্যক্রম থাকবে না,এটা কীভাবে সম্ভব-জাহিদুল ইসলাম

  প্রতিনিধি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ , ৫:৪২:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেছেন,গত সাড়ে ১৫ বছর বাংলাদেশের মানুষ এক নির্মম ফ্যাসিবাদের মধ্য দিয়ে গেছে। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পালিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে স্বাধীনতার এক নতুন অরুণোদয় ঘটেছে।বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের শুরু থেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও আন্দোলন করে এসেছে।তবে ‘৩৬ জুলাইয়ের’ বৈপ্লবিক সফলতা শুধুমাত্র ছাত্রশিবিরের একক প্রচেষ্টায় নয়—বরং দল, মত,ধর্ম,বর্ণ,শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব বাংলাদেশির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।সঙ্গত কারণেই এ আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট সবার।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের অবস্থান তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কার্যক্রম থাকবে না,এটা কীভাবে সম্ভব!!’

তিনি বলেন,সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সাদিক কায়েম ভাইয়ের ফ্যাসিবাদ ও ছাত্ররাজনীতি সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেকে এই আন্দোলনের সব ক্রেডিট ছাত্রশিবিরের বলে মন্তব্য করছেন। অথচ ঢাবি সভাপতি তার পোস্টে এরকম কোনও দাবি করেননি।বরং শুরু থেকেই ছাত্রশিবির এ আন্দোলনের সফলতার কৃতিত্ব দল-মত নির্বিশেষে বৈপ্লবিক ছাত্র-জনতাকে দিয়ে এসেছে।আমরা মনে করি,সবাই নিজের দলীয় কিংবা গোষ্ঠী পরিচয় পেছনে রেখে জাতীয় স্বার্থে এক কাতারে শামিল হতে পারা এ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।এ জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন,ছাত্রশিবির তার পথচলার শুরু থেকে ছাত্রদের আল্লাহভীরু নৈতিকতাসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।তবে আমাদের এ পথচলা কখনও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না।বিশেষত বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আমাদের লাখ লাখ কর্মী-সমর্থক নানামুখী জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।আমাদের শত শত ভাই শাহাদাতবরণ করেছেন।অনেক ভাই পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। হাজার হাজার ভাইকে কারাবন্দি হতে হয়েছে। ৬ জন ভাই এখনও গুম অবস্থায় আছেন।অসংখ্য ভাই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।এমনকি সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আমাদের সংগঠন পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়েছে।এরপরও একটি দিনের জন্যও আমাদের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। এটা একান্ত আল্লাহর সাহায্য ও কৌশল।’

জাহিদুল ইসলাম বলেন,ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম অনেকের কাছে নতুনত্ব মনে হচ্ছে।মূলত ফ্যাসিস্টরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ ছাত্র-জনতার জানার সুযোগ কম ছিল।হয়তো এ কারণে অনেকের কাছে ছাত্রশিবির নতুন করে কার্যক্রম শুরু করছে বলে মনে হতে পারে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির পরিচয় মিডিয়ার সামনে আসায় অনেকেই অবাক হচ্ছেন।আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন,১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকেই ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়। অথচ সেই ঢাবিতে শিবিরের কার্যক্রম থাকবে না, এটা কীভাবে সম্ভব!!’

আরও খবর

Sponsered content