প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৪৩:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।“আমি কি অপরাধ করছি? আমার সাথে জোর কইরা করছে,আমি তো অপরাধ করি নাই।তাইলে আমারে কেন দোষারোপ করা হইতাছে বারবার?”—বরিশালের এক কিশোরীর এই প্রশ্ন আজ মানবাধিকার,শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিশ্বাসের জায়গায় ভয়াবহ অভিযোগ
বরিশাল নগরীর নয়গাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নবম/দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে,শিক্ষিকার অনুপস্থিতিতে তার ছেলে জিহাদ ওরফে সজীব জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়,ঘটনার ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল,প্রাণনাশের হুমকি এবং এসিড মারার ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করে।
অভিযুক্তের মায়ের ভূমিকা ঘিরে বিতর্ক
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে অভিযুক্তের মা—নয়গাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুরুন্নাহার বেগমের বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগী পরিবার জানায়,রক্তমাখা চাদর দেখে সব বুঝলেও তিনি ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।একইসঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এমনকি অভিযোগ রয়েছে,ছাত্রীকে “পুত্রবধূ করার আশ্বাস” দেখিয়ে ছেলের অপকর্ম আড়াল ও সহযোগিতা করেছেন তিনি।
বিচার চাইতেই শিক্ষাবঞ্চনা
ঘটনার পর মামলা হলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি (Transfer Certificate) দিয়ে বিদায় করা হয় বলে অভিযোগ। এতে করে মেয়েটির পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে সে স্কুলে যেতে পারছে না; সামাজিকভাবে দোষারোপের শিকার হচ্ছে এবং পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ডিজিটাল প্রমাণের পাহাড়
ভুক্তভোগী পরিবার ও অনুসন্ধানে জানা গেছে,এই ঘটনায় অডিও ও ভিডিওসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।এতে অভিযুক্তের বক্তব্য,হুমকি,পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কথোপকথন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এসব প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
মামলা হলেও পলাতক অভিযুক্ত
ভুক্তভোগীর পরিবার বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করলেও অভিযুক্ত জিহাদ ওরফে সজীব এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভিকটিমকে চরিত্রহীন প্রমাণের অপচেষ্টা
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে,মামলা দায়েরের পর একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীকে ‘চরিত্রহীন’ প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে,যাতে মূল অপরাধ আড়াল হয়ে যায় এবং ভিকটিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,এটি স্পষ্টভাবে সেকেন্ডারি ভিকটিমাইজেশন,যা প্রচলিত আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের নীরবতা
অভিযোগ অনুযায়ী,জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি।বরং অভিযুক্ত পক্ষ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাইকোর্টে রিটের প্রস্তুতি
ভুক্তভোগীর পক্ষে মানবাধিকার সংগঠনের বিজ্ঞ আইনজীবীরা হাইকোর্টে রিট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।তাদের ভাষ্য—এটি কেবল একটি ধর্ষণ মামলা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিচ্ছবি।
দাবি ও আহ্বান
ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল দ্রুত—
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার,
ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,
সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা,
এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।















