জাতীয়

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি মিডিয়ার উদাসীনতা: জনগণের কণ্ঠ হারাচ্ছে সংবাদ

  প্রতিনিধি ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৪:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দেখা যাচ্ছে,স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কার্যক্রম এবং বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের উদাসীনতা স্পষ্ট।মূল খবরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো,বিশেষ করে বিএনপির প্রার্থীরা।

এতে জনগণকে সকল প্রার্থীর অবস্থান সমানভাবে বোঝার সুযোগ না পাওয়া,তথ্যের পক্ষপাত,এবং মিডিয়ার উপর আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।সংবাদ যখন নিরপেক্ষ থাকে না,তখন তা আর সংবাদ নয়—তা হয়ে যায় রাজনৈতিক প্রচারণা।

সংবাদকেন্দ্রিক পক্ষপাত

উদাহরণ: মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার একটি নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী একদিনের প্রচারণার পর স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।সেই ঘটনার খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়নি।অন্যদিকে,বিএনপির প্রার্থীর এক ছোট সভার সংবাদ প্রধান পত্রিকায় এবং টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে।

বিশ্লেষণ: এটি স্পষ্ট করে যে সংবাদমাধ্যম পক্ষপাতিত্ব করছে,যা সংবাদ পরিবেশকে বিকৃত করছে।

প্রচারণা বনাম সংবাদ

সংবাদমাধ্যমের কাজ হল সত্য প্রকাশ করা, কিন্তু কিছু সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেল এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংবাদ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বড় দলের খবর দেখানো হচ্ছে।

এতে নিরপেক্ষতার অভাব এবং তথ্যের অসমতা জন্ম নিচ্ছে।

জনগণের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি আলাপ থেকে জানা গেছে: “আমাদের মতামত বা দাবিগুলো মিডিয়ায় উঠে না। শুধু দলের বড় প্রার্থীদের খবর দেখানো হয়। আমরা মিডিয়ার দিকে আর বিশ্বাস করতে পারি না।”

এতে স্পষ্ট হয়,মিডিয়া জনগণের কণ্ঠ না হলে জনগণও মিডিয়াকে মানবে না।

মিডিয়া বিশ্লেষণ

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে,১০টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের মধ্যে শুধুমাত্র ১টি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ প্রদান করেছে।

অন্য মিডিয়াগুলো শুধুমাত্র বিএনপি বা দলীয় প্রার্থীদের কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একই ধরনের পক্ষপাত লক্ষ্য করা গেছে,যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্ট বা সভার খবর গুরুত্ব পাচ্ছে না।

প্রস্তাবনা

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্প্রচার:

সংবাদমাধ্যমকে উচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বক্তব্য, সভা ও কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা।

সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা:

সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক পক্ষের প্রভাব ছাড়াই জনগণের সমস্যা ও ঘটনার সত্য তুলে ধরুন।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ:

জনগণকেও নিজ উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ ও শেয়ার করতে হবে, যাতে মিডিয়ার পক্ষপাত দূর হয়।

সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব:

মিডিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কার্যক্রমকে বাদ না দিয়ে, সব প্রার্থীর তথ্য সমানভাবে পরিবেশন করুন।

উপসংহার

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংবাদ উদাসীনতার কারণে গণমাধ্যম আজ জনগণের কণ্ঠ নয়। এটি তথ্যের অসমতা সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কমাচ্ছে। গণমাধ্যমকে অবশ্যই সকল প্রার্থীর সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, যাতে জনগণ বিশ্বাস রাখতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content