প্রতিনিধি ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৪৭:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।তাহরিমা জান্নাত সুরভী সংক্রান্ত মামলা সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।এ ঘটনা কেবল একটি নারী নির্যাতন বা পাল্টা মামলার বিষয় নয়; বরং এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা, প্রভাবশালী পরিচয়ের অপব্যবহার,গণমাধ্যমের দায়িত্ব এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা—সবকিছুই গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী,সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় নিজেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে পরিচিত করে অপ্রাপ্তবয়স্ক সুরভীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।ভিকটিমকে অবিবাহিত দাবি করে বিশ্বাস অর্জনের পর দৈহিক সম্পর্কের প্রস্তাব,ভ্রমণের আমন্ত্রণ এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার থানায় অভিযোগ জানালেও তদন্তের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
বিশেষ করে,তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত মুছে ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মামলাটিকে নতুন মাত্রা দেয়। এতে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে।
পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন অভিযুক্ত সাংবাদিক দুর্জয় ভিকটিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হানিট্রাপের পাল্টা অভিযোগ তোলেন।কোনো ব্যবসায়ীর সরাসরি অভিযোগ ছাড়াই ‘৫০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি’ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়।পরে জানা যায়,দায়ের করা মামলার টাকার অঙ্ক ও ঘটনার বিবরণ বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো—১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ২১ বছর দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন এবং গ্রেপ্তারের ১১ দিন পর আদালতের অনুমোদন।আইনজ্ঞদের মতে,বয়স সংক্রান্ত এ ধরনের অসঙ্গতি ও বিলম্বিত রিমান্ড আবেদন মানবাধিকার ও ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশ পায়।বিষয়টি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নজরে এলে তিনি হস্তক্ষেপ করেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সঠিক পথে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে,এটি প্রভাবশালী মহলের চাপের বাইরে গিয়ে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

















