সারাদেশ

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওলজি বিভাগের সরকারি পরীক্ষার মূল্য তালিকা প্রকাশ

  প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৩৯:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল প্রতিনিধি:বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষার সরকারি মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ মোট ১৮ ধরনের পরীক্ষার নির্ধারিত ফি উল্লেখ করা হয়েছে,যা সাধারণ রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়,সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বল্প খরচে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবা নিশ্চিত করাই এই মূল্য তালিকার মূল উদ্দেশ্য।দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের কাছ থেকে পরীক্ষার খরচ নিয়ে বিভ্রান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকায় কর্তৃপক্ষ এই নির্ধারিত তালিকা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী,ডিজিটাল এক্স-রে (৮×১০ ফিল্ম) পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা এবং (১০×১৪ ফিল্ম) এক্স-রের জন্য ২০০ টাকা।আইভিইউ, এমসিইউ ও ওসিজি পরীক্ষার জন্য সরকারি ফি ধার্য করা হয়েছে ৮০০ টাকা।

বেরিয়াম সংক্রান্ত পরীক্ষার মধ্যে—বেরিয়াম মিল (এস/ডি) পরীক্ষার ফি ৬০০ টাকা,বেরিয়াম ফলো থ্রো ১ হাজার টাকা,বেরিয়াম সোয়ালো (ইসোফেগাস) ৫০০ টাকা,বেরিয়াম ইনেমা (লার্জ গাট) ৮০০ টাকা এবং বেরিয়াম ইনেমা ডবল কনট্রাস্ট পরীক্ষার ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় পুরো পেটের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২২০ টাকা এবং অন্যান্য আলট্রাসনোগ্রামের জন্য ১১০ টাকা।আলট্রাসনোগ্রাম গাইডেড এফএনসি পরীক্ষার জন্য ফি ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।এছাড়া সিটি স্ক্যান গাইডেড এফএনসি পরীক্ষায় এক ফিল্মসহ খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা।

সিটি স্ক্যান পরীক্ষার ক্ষেত্রে ব্রেইনের জন্য ২ হাজার টাকা, চেস্ট সিটি স্ক্যানে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং অ্যাবডোমেন সিটি স্ক্যানে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমআরআই পরীক্ষার মধ্যে ব্রেইন (ইনডিভিজুয়াল প্লেইন) ও এলএসএস পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। কনট্রাস্টসহ এমআরআই পরীক্ষার জন্য রোগীদের দিতে হবে ৪ হাজার টাকা।

রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি এই মূল্য তালিকা মেনে নিয়মিত পরীক্ষা করা গেলে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।অনেকেই অভিযোগ করেন,অতীতে নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,প্রকাশিত মূল্য তালিকার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।কেউ নির্ধারিত দামের বেশি টাকা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,মূল্য তালিকাটি দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হলে সরকারি হাসপাতালের সেবার ওপর মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

আরও খবর

Sponsered content