অপরাধ-আইন-আদালত

লাইভ ভিডিওতে শারীরিক সম্পর্কের স্বীকৃতি,কিন্তু প্রশ্নে চাঁদাবাজির নাটক ও প্রতারণার অভিযোগ

  প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৫৮:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

লাইভ ভিডিওতে শারীরিক সম্পর্কের স্বীকৃতি,কিন্তু প্রশ্নে চাঁদাবাজির নাটক ও প্রতারণার অভিযোগ

সাংবাদিক দুর্জয়কে ঘিরে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।নিজের ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও,পরে ঘটনাটিকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কেন—এই প্রশ্ন ঘিরে কালবেলার সাংবাদিক দুর্জয়কে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও ও অডিও কনটেন্টে দেখা যায়,দুর্জয় নিজেই লাইভে স্বীকার করেন যে তার সঙ্গে ভুক্তভোগীর শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল।তবে পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন,পুরো বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত চাঁদাবাজির অংশ এবং তিনি প্রতারণার শিকার।

প্রতারণা পূর্বক শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

ভুক্তভোগী সুরভীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে,দুর্জয় নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।পরবর্তীতে জানা যায়,তিনি বিবাহিত—যা শুরু থেকেই গোপন রাখা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী,এই মিথ্যা পরিচয়ের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো হয়,যা আইন অনুযায়ী প্রতারণা পূর্বক ধর্ষণের আওতায় পড়তে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,যদি প্রমাণ হয় যে বিবাহিত পরিচয় গোপন রেখে সম্মতি আদায় করা হয়েছে,তবে সেটি ‘consent obtained by deception’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে অসংগতি

দুর্জয়ের দাবি অনুযায়ী,ঘটনার দিন তিনি অপহরণের শিকার হন এবং তার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।তবে এই দাবির সঙ্গে বিদ্যমান তথ্য ও টাইমলাইনের একাধিক অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে—

কথিত ঘটনার সময় ও স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ

সংশ্লিষ্ট সময়ের বিকাশ লেনদেনের স্টেটমেন্ট

পিজা দোকান ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি

কক্সবাজার ভ্রমণ সংক্রান্ত কল রেকর্ড ও অডিও

—এই বিষয়গুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চাঁদাবাজির অভিযোগকে একতরফাভাবে গ্রহণ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্বের অভিযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন

দুর্জয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে।অভিযোগ রয়েছে—

দেশ টিভির সাংবাদিক পরিচয় ভুয়া ভাবে ব্যবহার করে পুরস্কার গ্রহণের,যা পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়

একটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে ধর্ষণের বিষয়ে অশালীন ও দম্ভপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার

অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে বরখাস্ত হওয়ার

এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য—সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

আপস নয়,আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

সুরভীর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তারা কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার পথে যাচ্ছেন না। তাদের দাবি,প্রকৃত সত্য আদালতের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসুক।

তদন্তই দেবে চূড়ান্ত উত্তর

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত—আবেগ নয়,নিরপেক্ষ তদন্তই পারে সত্য উদঘাটন করতে। আদালতে সাক্ষ্য, ডিজিটাল প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে—

আদৌ চাঁদাবাজির চেষ্টা হয়েছিল কি না

নাকি প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে

আইনের দৃষ্টিতে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ দোষী নন—এই নীতিই বহাল থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content