প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ , ২:৩৪:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের লাগোয়া মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে লাগাতার সংঘর্ষের মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এ বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান।

রোববার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ সংলগ্ন কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, “সম্প্রতি পুরো মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলছে।যার প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেও এসে পড়েছে।প্রতিনিয়ত সেখানকার অস্থিতিশীল অবস্থা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।এহেন পরিস্থিতিতে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বিজিবি মহাপরিচালক রোববার কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিদর্শন করেন।”
সীমান্তের ওপারে টানা গোলাগুলির শব্দে এপারে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।এর মধ্যে শনিবার বিকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উলুবনিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে একটি গুলিও এস পড়ে।
গৃহকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার মেয়ের জামাইয়ের বসতঘরে টিনের দরজা ছিদ্র হয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে গুলি। আমরা আতঙ্কের মধ্যে পড়ে গেছি।”
পরে বিজিবি সদস্যরা এসে উঠান থেকে গুলিটি নিয়ে যায় বলে জানান নুরুল ইসলাম।
উলুবনিয়া সীমান্তের আরেক বাসিন্দা মো. সোলেমান বলেন, “মিয়ানমারের ওপারে গোলাগুলির শব্দে বাড়িঘরে থাকতে পারতেছি না।শনিবার নুরুল ইসলামের বসতঘরে এসে পড়লো একটি গুলি।এক সপ্তাহে ধরে সীমান্তের ওপারে মর্টার শেল ও গুলির শব্দে অনিরাপদ মনে করছি।আমাদের ভয়ের মধ্যেই দিনরাত কাটছে।”
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, “উলুবনিয়া,তুলাতুলি ও কাঞ্জরপাড়া সীমান্তের মিয়ানমারের ওপারের সপ্তাহজুড়ে গোলাগুলিতে ভয়ে আমরা বাড়িঘরে থাকতে পারতেছি না। চিংড়ি ঘেরেও যেতে পারতেছি না।”
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যায় গুলির শব্দ বেশি পাওয়া যায়।”
এ অবস্থায় সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন,রাখাইনের সংঘাতের কারণে নতুন করে যাতে কোনো ‘অনুপ্রবেশ’ না ঘটে,তা তারা দেখছেন।
সীমান্তে এই উত্তেজনার মধ্যে রোববার কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধীন উখিয়ার পালংখালী বিওপি (বর্ডার আউপটপোস্ট),বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু বিওপি ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধীন হোয়াইক্যং বিওপি ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিজিবি মহাপরিচালক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে দায়িত্বরত সকল পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।”
বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা,কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার,রামু সেক্টর কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোর অধিনায়করা বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে ছিলেন।















