প্রতিনিধি ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৫৫:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের ৩০ সুপারিশের মধ্যে আটটি বাস্তবায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের ২৮ থেকে ৩৭ দফায় বেশ কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বাকি সুপারিশগুলো নির্বাহী বিভাগের আদেশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তবে বাস্তবায়নের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন।তিনি বলেন,আমরা যে সুপারিশগুলো করেছিলাম,এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।ঐকমত্য কমিশনে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বিএনপি ও অন্যরা আমাদের মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেনি।তবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না।আবার আপত্তিও দিচ্ছে না।’
বিচার বিভাগের সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয় সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম।অংশীজন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব করে কমিশন।২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৩৫২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিশনের প্রধান বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান।ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়,প্রতিবেদন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।
এরই মধ্যে যেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে,তার মধ্যে রয়েছে– সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ কমিশন গঠন, ইনফরমেশন ডেস্ক স্থাপন,নারী ও শিশুদের জন্য আদালতে স্বতন্ত্র স্থান নির্ধারণ,আইনজীবীর বিরুদ্ধে করা মামলায় অন্য পক্ষে অন্য আইনজীবী নিয়োগে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি,আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে সংযুক্তকরণ,দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন সংশোধন।এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তামিন হোসেন শাওন বলেন,গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।এর মধ্যে হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগে আইন ও স্বতন্ত্র সচিবালয় আইন নীতিগত অনুমোদন হয়েছে।এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন বাকি।
দেওয়ানি ও ফৌজদারি
আইন পৃথক হয়েছে,অধস্তন আদালতের পদ সৃজনের ক্ষমতা বিচার বিভাগকে দেওয়া হয়েছে।এগুলো সরকারের ভালো পদক্ষেপ।স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠনের খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি।তিনি বলেন,আমাদের প্রতিবেদনের প্রতিটি অধ্যায়ে অনেক সুপারিশ আছে।কিছু সুপারিশ জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার শাওন বলেন,এ সরকার কিছু কিছু ভৌত অবকাঠামোর কাজ শুরু করতে পারবে,কিন্তু শেষ করতে পারবে না।এর মধ্যে ঢাকা কোর্ট ভবন সংস্কার কাজ রয়েছে। বাণিজ্যিক আদালত স্থাপনের কাজ এগোচ্ছে।এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে মামলা ব্যবস্থাপনায় কমিশনের অনেক সুপারিশ আছে। তবে প্রধান বিচারপতি একটাও বাস্তবায়ন করেননি।তিনি বলেন,প্রতিবেদন পাওয়ার পরে কমিশনের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট বসে পর্যালোচনা করলে বাস্তবায়ন কার্যক্রম আরও গতি পেত। যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তাতে অনেক সন্তুষ্ট তিনি।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে– উপজেলায় আদালত সম্প্রসারণ,বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও সম্প্রসারণ,সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়, বিচারক নিয়োগে পৃথক কমিশন গঠনের সুপারিশ,অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগে পরামর্শ,স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠন,স্বতন্ত্র তদন্ত সংস্থা গঠন,বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন।

















