অপরাধ-আইন-আদালত

শায়েস্তাগঞ্জ থানায় প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ও হুমকি: রাষ্ট্রের চোখের সামনে এসআই সন্তোষ হত্যার দম্ভ

  প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:২৮:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

শায়েস্তাগঞ্জ থানায় প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ও হুমকি: রাষ্ট্রের চোখের সামনে এসআই সন্তোষ হত্যার দম্ভ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষকে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানানো হলো থানার ভেতরেই।হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে ঘটনার স্বীকৃতি দিয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।অভিযোগ অনুযায়ী,সেদিন বানিয়াচং থানার সব পুলিশ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে একদল ব্যক্তি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।সেনাবাহিনী সেই দাবিতে রাজি না হলেও,শেষ পর্যন্ত এসআই সন্তোষকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।পরে তাঁকে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে,যা ঘটনার ভয়াবহতা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরে।ওই প্রতিবেদনের পরও স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রাষ্ট্রের নীরবতা নিয়ে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে,আজ হবিগঞ্জ জেলার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত মেহেদীসহ কয়েকজন ব্যক্তি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় প্রবেশ করে ওসির সামনে দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।শুধু তাই নয়—তারা থানার ভেতরেই হুমকি প্রদর্শন করে,ওসির টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে কার্যত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভীত করার চেষ্টা করে।

এই পরিস্থিতি প্রশ্ন তুলছে— যেখানে থানার ভেতরেই হত্যার দম্ভ দেখানো হয়,যেখানে ওসির টেবিলেও নিরাপত্তা থাকে না, সেখানে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার পর যদি অভিযুক্তরা থানায় ঢুকে প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি ও হুমকি দিতে পারে,অথচ তাত্ক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা না হয়—তবে তা রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের জন্য গভীর অশনিসংকেত।

এ বিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশ্লেষকরা বলছেন,এই ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভিডিও ফুটেজ জব্দ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হলে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

আরও খবর

Sponsered content