প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০২৩ , ৮:৪৭:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার দাউদপুরের মাফিয়া ডন অব টপটেয়র মাদক সম্রাজ্ঞী ও দেহব্যবসায়ী সালমা বেগম।বরিশাল রেঞ্জের সাবেক এক ডিআইজির কথিত মেয়ে পরিচয়ে সমাজের নিকৃষ্টতম জঘন্য অপরাধ কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়।তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশ ও সাংবাদিক এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষ সালমার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।সালমার নানাবিধ অপরাধে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। পেশাদার পতিতা ও ইয়াবা ব্যবসায়ী।মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত।জালটাকার ব্যবসা করে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক।ইয়াবা সুন্দরী সালমা কুট-কৌশলে বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সম্পর্ক গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে বহু পুরুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।পুরুষখেকো নারীর জালে আটকা পড়ে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়েছে।তার পেশা দেহ ব্যবসা।প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে কুট-কৌশলে সম্পর্কের পর যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এমন ভঙ্গিতে ভিডিও কল করে যৌন মিলনের প্রস্তাব দেন।তার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তার সাথে টাকার বিনিময়ে কেউ মেলামেশা করতে গেলে গোপনে সেই ভিডিও করে পরে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।


এছাড়া টাকার বিনিময়ে মেলামেশা করে পরে তার করা মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফেঁসে নিঃস্ব হয়েছে বেশ কয়েকজন।তার এসব কর্মকাণ্ডের সাথে স্থানীয় ক’জন সন্ত্রাসীও জড়িত আছে। মূলত তারা একটি সিন্ডিকেট মিলে পরিকল্পিত ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়।কখনো কখনো পতিতা সালমার ঘরে না বুঝে কোন ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে মেলামেশা করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐসব সন্ত্রাসীরা সেই ব্যক্তিকে হাতে নাতে অবৈধ কাজে ধরার নামে বিচার শালিশ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের আরেকটি কৌশল।
https://www.dhakatimes24.com/2023/06/21/314091
এবার পুত্রবধূ ও বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবে দাঁড়ালেন সেই বৃদ্ধ
তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে এখন মান সম্মানের ভয়ে নিরবেই টাকা দিয়ে যাচ্ছে অনেকেই।সালমার বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।অনুসন্ধানেও সালমা বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি সালমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের পর মঠবাড়িয়া থানায় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নাসির উদ্দিন নামক এক ভুক্তভোগী।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন,সালমা মানুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভিডিও দিয়ে বিভিন্ন লোককে ব্লাকমেইল করে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে এমনকি একই কায়দায় তিন ব্যক্তির কাছে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
নাসির উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন,আমি একজন সৌদি প্রবাসী। সে সুবাদে আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কুট-কৌশলে সম্পর্কের পর যৌন উত্তেজনা মুলক ভিডিও কল করতেন। ভিডিও কলে সেক্স করার পর বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি হোয়াটসঅ্যাপে বিয়ে করতে রাজি হই।কৌশলে বিয়ে সম্পূর্ণ হলে গত ৪ বছরে জমি ক্রয়- সোনার অলংকার ক্রয় বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবুও বিভিন্ন উঠতি বয়সী তরুণদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে অবগত হয়ে বারণ করেছি। তবুও ক্ষ্যান্ত হয়নি। এরপর দেশে ফিরে আসার পর কোর্ট ম্যারেজ করছি। আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমার সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও চিত্রধারণ করে বিয়ে অস্বীকার করে প্রথমে ৭লাখ টাকা দাবি করেছেন।পরে মঠবাড়িয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশের কাছে বিয়ের হলফনামা দেখালেও তারা পূর্নরায় কাবিন রেজিস্ট্রারী বিয়ে করতে হবে বলায় কাজী মাহমুদ হাসানকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।উক্ত বিয়েও অস্বীকার করায় আদালতের বিচারক কাবিননামার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিআইডির ফরসনিক ল্যাবটারীতে পরীক্ষা পূর্বক রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন। সিআইডির ফরসনিক রিপোর্টে কাবিন রেজিস্ট্রারের সহি/স্বাক্ষর সালমার প্রমানিত হয়েছে। সালমার বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক ও প্রতারনার অভিযোগে মামলা দায়ের করি।
আল আমিন নামে এক যুবক জানান, আমি তার বাড়িতে যাই এবং ২০০ টাকার বিনিময়ে শারীরিক মেলামেশা করি। সালমা খুব চালাকির সহিত আমার গোপন ভিডিও করে এবং দশদিন পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে যায়। গত ০১-৭-২২ইং আবার পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে। উক্ত বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভূক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,এর আগে মঠবাড়িয়া থানার প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার নামে মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগ করেছিল সালমা।পরে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেই অভিযোগের মিমাংসা হয়েছিল।মান-সম্মানের ভয়ে ওই ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে আপোষ করেছিলেন।সে ব্যক্তি গনমাধ্যমে তার পরিচয় গোপন রাখতে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেছেন।
হৃদয় হাসান (শাওন) জানিয়েছেন,সালমা একজন পেশাদার পতিতা। সে আমার সাথে আমার বাসায় ২দিন ছিল।এক পুলিশের সেক্স অডিও রেকর্ড দিয়ে সাবেক ওসি নুরুল ইসলাম বাদলকে ফাঁসানো হচ্ছে।সেই ব্যক্তি সালমার ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন।ওই অডিও রেকর্ডিং এর মধ্যে একটি বিষয় পরিষ্কার করে শোনা যাচ্ছে,তোমার বাসায় গিয়েছিলাম।তোমার সাথে ফষ্টিনষ্টি করতে।মহিলার কারনেই পারিনি।আর ওসি নুরুল ইসলাম বাদল কখনো সালমার বাড়িতে যায়নি।অডিও রেকর্ডের ভাষা পত্রিকার আইন অনুযায়ী প্রকাশ সম্ভব নয়। প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এবিষয়ে অভিযোগকারী সালমা বেগম (সালমা আক্তার) কাছে তার ঘটনার স্বপক্ষে—–জানতে চাইলেও দীর্ঘ আড়াই মাস অসুস্থ বলে এড়িয়ে যান।সিআইডির ফরসনিক রিপোর্টে কাবিন রেজিস্ট্রারের সহি/স্বাক্ষর মিলছে এটা সঠিক কিনা!কাবিনের স্বাক্ষর তার স্বীকার করে বলেন,এএসআই ফিরোজ আলম ভুল বুঝিয়ে নিয়েছে।তিনি টাকার বিনিময়ে প্রতিবেদকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।আবার শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে হলেও তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে বলেন।এছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে অভিমানে অভিযোগ করেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে,অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি প্রদর্শন করে বলেন,আমার বিরুদ্ধে কোনো নিউজ করলে মামলা করবো।
এব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার সাবেক এএসআই ফিরোজ আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন-টাকা আদায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়।হাইকোর্টের আদেশ অবজ্ঞা করা যায়না।তাই পারিবারিকভাবে ফয়সালার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার এসআই আবুল কাসেম সাংবাদিকদের বলেন,নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ফিরে নিয়ে আবার ধর্ষণ অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। নাসির উদ্দিন ২৭ জুলাই ২০২২ কাবিন রেজিস্ট্রার বলে আদালতে মামলা করায় বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড পুর্বক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে তদন্তের জন্য প্রেরণ করে। সিআইডির ফরসনিক রিপোর্টে কাবিন রেজিস্ট্রারের সহি/স্বাক্ষর সালমা বেগম স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই।সালমা শুধু মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা দায়ের করে বেড়াচ্ছেন—!!!
মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল সাংবাদিকদের জানান,সালমার অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাদীদের ডেকে টাকা দিতে বলা হয়েছে।সে সময় পারিবারিকভাবে ফয়সালার মর্মে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।এরপর স্হানীয় কতিপয় দূস্কৃতিকারীদের প্রকাশ্য মদদে পুলিশের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও মনগড়া,ভিত্তিহীন-বানোয়াট অভিযোগ করে যাচ্ছে!
পিরোজপুরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,সালমা আক্তার বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আলকাছ উদ্দিনকে ৭লাখ টাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী প্রতারনা ও জালিয়াতি বিষয়ে পুলিশের কিছু করার নেই।আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।তাছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রমানাদি ছিল না।
এব্যাপারে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলেও পাওয়া যায়নি।ডিআইজির অফিসের সরকারি মুঠোফোন ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলেও সদুত্তর মেলেনি।
এবিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান দায়িত্বে থাকাকালীন সালমার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এবিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=pfbid0w285t6EAmsQRU43E6Zs6UVuhHuaYC5whf7THneHVTYANUWaey1cKPxPzW5BzSSiPl&id=100018952331632




বিস্তারিত পত্রিকায়——

















