প্রতিনিধি ২৩ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:০৪:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেছেন,প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলির আদেশ পেয়ে বছর বছর ধরে অবমুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রাথমিকের শত শত শিক্ষকের দুর্ভোগ দূর করতে একযোগে উদ্যোগ নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।এ নিয়ে দ্রুতই একটি সমন্বিত আদেশ জারি করে প্রতিস্থাপন বদলি জনিত জটিলতার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।

রবিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে তিনি জানিয়েছেন,বদলি আদেশ হাতে থাকলেও প্রতিস্থাপক না আসায় যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূর-দুরান্তের দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত আছেন,তাদের বিষয়ে অধিদপ্তর অবগত এবং বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।বদলির কারণে কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট সৃষ্টি না করে কীভাবে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দ্রুত অবমুক্ত করা যায়— সে বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে অধিদপ্তর।
মহাপরিচালক বলেন,হয়তো ডিসেম্বরেই সমন্বিত আদেশটি জারি হতে পারে।শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন নীতি বজায় রেখে একই সঙ্গে শিক্ষকদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দুর্ভোগের সমাধান করা হবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রতিস্থাপক হিসেবে যোগদান করবেন—সেটা নিশ্চিত করা হবে, এখানে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। যারা বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তাদের সমাধানই আগে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়,তা নিশ্চিত রেখেই এক নির্দেশের মাধ্যমে প্রতিস্থাপনজনিত জট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।একই সঙ্গে ১১৪টি উপজেলার ব্লক পোস্টে পুনরায় অনলাইনে বদলির আবেদন আহ্বান করা হবে।
এর ফলে সিরাজগঞ্জ,নোয়াখালী,হবিগঞ্জ,সিলেট,পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার চর,হাওর ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়সহ প্রতিস্থাপন বদলির আদেশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে।বদলির কাগজ হাতে নিয়েও বাস্তবে পুরোনো কর্মস্থলে আটকে থাকা এসব শিক্ষক এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ ইতিবাচক পদক্ষেপের বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
শিক্ষকরা বলছেন,সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে সিরাজগঞ্জের শাহ আলমদের আর প্রতিদিন ভোর থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকা আর নদীপাড়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে না; হাওর, চা-বাগান ও দুর্গম এলাকার অন্য ভুক্তভোগী শিক্ষকরাও বহু বছরের যাতায়াত ও পারিবারিক কষ্ট থেকে মুক্তির পথ দেখতে পাবেন।
নেত্রকোনার নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন পিয়াস বলেন,‘যেখানে একজন শিক্ষা কর্মকর্তার সাথেই সরাসরি দেখা করা দুঃসাধ্য,সেখানে কোনো প্রকার সুপারিশ বা মাধ্যম ছাড়া একজন মহাপরিচালকের (ডিজি) সামনে নিজের কষ্টের কথা বলতে পেরেছি—এটা আমার জীবনেরই বিরল এক ঘটনা।আমার বদলির জটিলতার কথা খুলে বলার পর স্যার মন দিয়ে শুনেছেন,সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন।’












