প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:৪০:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশ পুলিশের একটি গুরুতর দাবিকে ভারত সরকার সরকারিভাবে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের শ্যুটাররা ভারতে পালিয়েছে—এই বক্তব্য যেমন নাকচ করা হয়েছে,তেমনি ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত “মেঘালয় পুলিশ কর্তৃক দুই ভারতীয় আটক” সংক্রান্ত দাবিকেও ভারত প্রোপাগান্ডা বলে আখ্যা দিয়েছে।

এখানে আর ধোঁয়াশার সুযোগ নেই। প্রশ্ন এখন একটাই—
কিসের ভিত্তিতে ডিএমপি সংবাদ সম্মেলন করলো?
কাদের দেওয়া স্ক্রিপ্টে এই নাটক?
যদি ভারতের বক্তব্য সত্য হয়,তবে ডিএমপি যে সংবাদ সম্মেলন করলো তা কি ছিল—
অপেশাদার তদন্তের ফল?
নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি?
নাকি রাজনৈতিক চাপের ফলশ্রুতি?
রাষ্ট্রীয় বাহিনী সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে যাচাইহীন তথ্য দিতে পারে না।
এটা ফেসবুক পোস্ট নয়,এটা রাষ্ট্রের অফিসিয়াল বক্তব্য।
তদন্তের নামে দায় এড়ানোর খেলা?
এই ঘটনায় সরকার কী গেইম খেলছে—তা এখন জনস্বার্থের প্রশ্ন।
এটা কি সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা,
নাকি জনমতকে অন্যদিকে ঘোরানোর কৌশল?
একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যদি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে টেনে এনে মিথ্যা দাবি করা হয়,তবে তা শুধু কূটনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতি নয়—
এটা তদন্তকে কলঙ্কিত করার নামান্তর।
সাংঘর্ষিক বক্তব্যে জবাবদিহি কার?
একদিকে—
বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল বক্তব্য
অন্যদিকে—
ভারত সরকারের সরাসরি ও প্রকাশ্য অস্বীকার
এই সাংঘর্ষিক অবস্থানে দায় কার?
ডিএমপি কমিশনার?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়?
নাকি তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা?
ভুল তথ্য দিলে কি কেউ দায় নেবে?
নাকি আগের মতো “ভুল বোঝাবুঝি” বলে দায় ঝেড়ে ফেলা হবে?
তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ সম্মেলন কেন?
রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তথ্য, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে—
গুজব,স্ক্রিপ্ট ও প্রোপাগান্ডার ভিত্তিতে নয়।
যদি তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়ে থাকে, তবে সেটা—
পেশাগত ব্যর্থতা
প্রশাসনিক অবহেলা
এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা
তদন্তের স্বচ্ছতা কোথায়?
মিথ্যার উপর রাষ্ট্র টিকে থাকে না।
প্রোপাগান্ডায় ন্যায়বিচার আসে না।
সত্য লুকোলে ক্ষত গভীর হয়—
রাষ্ট্রের আস্থায়
বিচার ব্যবস্থায়
এবং জনগণের বিশ্বাসে
আজ না হোক,কাল এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতেই হবে।
এখনই স্পষ্ট করুন—
তথ্যের উৎস কী ছিল?
কে অনুমোদন দিয়েছিল সংবাদ সম্মেলনের?
ভুল হলে দায় নেবে কে?
ছলচাতুরী বন্ধ করুন।
রাষ্ট্রকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করান।
দেশবাসী আর নাটক নয়—উত্তর চায়।











