প্রতিনিধি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:০৪:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেট দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কেটের বৈধ মালিকানা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখল থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা,মিথ্যা মামলা ও পুনঃগ্রেপ্তার দেখানোর মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা।

হঠাৎ মালিকানা দাবি ও সংঘাতের সূত্রপাত
পারিবারিক সূত্রে পাওয়া জমিতে গড়ে তোলা স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেটের মালিক আহামদ আলী প্রেম।পারিবারিক ও আদালতের নথি অনুযায়ী,দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কেট নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না।তবে গত বছরের আগস্টের পর সামসাদ আরা সাথী নামের এক নারী হঠাৎ করে মার্কেটের জমির মালিকানা দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি,মালিকানা সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও সাথী একটি প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেন।অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় থানা ও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরই পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে গড়ায়।
মারধর হলেও মামলা হলো উল্টো পক্ষের
ঘটনার দিন সাথীর লোকজন মার্কেটে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।এতে মার্কেট মালিক আহামদ আলী প্রেম ও ম্যানেজার কুতুব উদ্দিন আহত হন।কিন্তু আহত কুতুব উদ্দিন মামলা করতে থানায় গেলে তাকে বসিয়ে রেখে উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা রুজু করা হয়।পরবর্তীতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
জামিন পাওয়ার পরও কুতুব উদ্দিনকে একের পর এক মামলায় পুনঃগ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।এসব পদক্ষেপের পেছনে একটি প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে বলেও ভুক্তভোগীদের দাবি।
পুনঃগ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
মিরপুর মডেল থানার একটি মামলায় (এফআইআর নং-০৩/২০২৫) কুতুব উদ্দিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।আবেদনপত্রে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অনধিকার প্রবেশ,মারধর ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।তবে ভুক্তভোগী পক্ষের আইনজীবীদের মতে, এই অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চলমান দেওয়ানি বিরোধকে ফৌজদারি রূপ দেওয়ার চেষ্টা।
আদালতের নথিতে মালিকানার ধারাবাহিকতা
আইনজীবী বিউটি আক্তারের দেওয়া লিখিত আইনগত মতামত অনুযায়ী,স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেটের জমির সিএস ও এসএ রেকর্ডীয় মালিক মরহুম মজম আলী বেপারী।তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও পুত্র আহামদ আলী প্রেমসহ ওয়ারিশগণ বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।
এ সংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি মামলা ও আপিল বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।সর্বশেষ আদালত পক্ষগুলোর মধ্যে স্থিতিবস্থার আদেশ দিয়েছেন,অর্থাৎ যে যার দখলে আছে সে সেই অবস্থায় থাকবে। আইনগত মতামতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,আহামদ আলী প্রেম গং-এর মালিকানার ধারাবাহিকতা আইনসম্মত ও নথিভিত্তিক।
অতীত বিতর্ক ও প্রশ্ন
অভিযোগ উঠেছে,অভিযুক্ত প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা এর আগেও বিভিন্ন থানায় প্রভাব খাটিয়ে মামলা বাণিজ্য,গ্রেপ্তার ও অপসারণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।এসব অভিযোগ অতীতেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন,এটি নিছক জমি বা মার্কেটের বিরোধ নয়—বরং একটি দেওয়ানি বিষয়কে ফৌজদারি মামলায় রূপ দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা।তারা নিরপেক্ষ তদন্ত,সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।



















