প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:৪২:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য—লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনের সময় ব্যবহার করা হবে না—শুনতে আশ্বাসের মতো হলেও বাস্তবে তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।কারণ রাষ্ট্র আশ্বাসে চলে না,চলে তথ্য,নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির ওপর। যখন সরকার নিজেই স্বীকার করছে যে এক হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং লাখো রাউন্ড গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি,তখন ‘ব্যবহার হবে না’ বলা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আরও গুরুতর হলো—এই অনিরুদ্ধ অস্ত্রের পাশাপাশি এখনো অন্তত সাতশ’ জেল পলাতক বন্দি বাইরে রয়েছে,যাদের মধ্যে জঙ্গি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীও আছে।ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়,নির্বাচনকালীন অস্থিরতা আর অবৈধ অস্ত্রের মিলন কখনোই শুভ ফল বয়ে আনে না।বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
এই প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া রিট কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়,এটি একটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন।সংবিধান নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা শুধু ভোটের গ্রহণযোগ্যতাই নয়,রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব—কিন্তু সেই উৎসবের মঞ্চ যদি অবৈধ অস্ত্র ও পলাতক অপরাধীদের ছায়ায় ঢাকা থাকে, তবে তা উৎসব নয়,ঝুঁকি।তাই রাষ্ট্রের কাছে আজ প্রধান দাবি একটাই—প্রথমে অস্ত্র উদ্ধার,অপরাধী গ্রেপ্তার ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।তার পর নির্বাচন।এর অন্যথা হলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দায় এড়ানো কঠিন হবে।
উপসংহার
রাষ্ট্রের শীর্ষ নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়—তা জননিরাপত্তার অঙ্গীকার।যখন ১,৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও লাখো রাউন্ড গোলাবারুদ বাইরে, তখন ‘ব্যবহার হবে না’ বলা যথেষ্ট নয়।উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি থেকেই যায়—এটাই বাস্তবতা।এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে নির্বাচন এগোলে তা কেবল বিতর্ক নয়, ভবিষ্যৎ সহিংসতার দায়ও ডেকে আনতে পারে।















