প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:০৭:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডক্টর জোবাইদা রহমানের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও,সুপ্রিম কোর্টের কোনো চূড়ান্ত রায় নেই।তারা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন,কিন্তু বর্তমানে তারা বাংলাদেশে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত নয় এবং আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

১. নাগরিকত্ব বনাম পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পার্থক্য:
বাংলাদেশি নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী,পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারানো যায় না। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাগরিকত্ব ত্যাগ’ করতে হয় বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হয়।
তারেক রহমানের ক্ষেত্রে,সরকার দাবি করেছে,তিনি ব্রিটিশ হোম অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন,আনুষ্ঠানিক প্রমাণ ছাড়া এটি পর্যাপ্ত নয়।
২. দ্বৈত নাগরিকত্ব ও নির্বাচনী অযোগ্যতা:
সংবিধান ধারা ৬৬(২)(গ) অনুযায়ী,অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারানো যায়।
ডক্টর শাম্মী আহমেদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল,কারণ তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন।
তারেক রহমান দাবি করেছেন তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হননি, তাই এটি এখনো আইনি বিতর্কের বিষয়।
৩. নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা:
তারেক রহমানের নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রধান বাধা নাগরিকত্ব নয়,বরং তার বিরুদ্ধে থাকা দণ্ডপ্রাপ্তি।
সংবিধান অনুযায়ী,কোনো ব্যক্তি যদি ২ বছরের বেশি ফৌজদারি দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়,তবে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য।
৮৫টি মামলার মধ্যে ৭২টি মামলায় তারেক রহমান অব্যাহতি পেয়েছেন,এবং বাকি মামলাগুলোতে সরকার দণ্ড মওকুফ করছে,ফলে নির্বাচনে অযোগ্যতার মূল কারণ এখন অনেকাংশে শিথিল হয়েছে।
৪. কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ও জাতীয়তা সংশোধন:
যুক্তরাজ্যের ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ কোম্পানিতে তারেক রহমানের জাতীয়তা প্রথমে ‘ব্রিটিশ’ এবং পরে ‘বাংলাদেশি’ করা হয়েছিল।এটি টাইপিং বা যান্ত্রিক ত্রুটি হলেও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
৫. আইনি রেফারেন্স ও প্রমাণ:
পংকজ নাথ বনাম ডক্টর শাম্মী আহমেদ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছে যে,বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে বা তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অসাংবিধানিক।
তারেক রহমানের ক্ষেত্রে,যদি দণ্ডমওকুফের ফলে নির্বাচনী আইনগত বাধা দূর হয় এবং নাগরিকত্ব বিতর্ক আইনি ভাবে স্থির হয়,তিনি নির্বাচন করার যোগ্যতা ফিরে পেতে পারেন।
তারেক রহমান ও ডক্টর জোবাইদা রহমানের নাগরিকত্ব বিতর্ক এবং নির্বাচনী যোগ্যতা এখনও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অমীমাংসিত।তবে মামলার দণ্ডমওকুফ এবং অব্যাহতির কারণে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাধা এখন অনেকাংশে কমে গেছে।ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি চূড়ান্ত করবে।















