জাতীয়

ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ

  প্রতিনিধি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:১৮:০১ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত সৈনিককে ঢাকার জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম মোঃ আলামিন মোল্লা।তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সাবেক সৈনিক এবং বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতি শীতের কারণে তিনি কচুক্ষেত আর্মি স্টোর থেকে ক্রয় করা একটি শীতকালীন কম্বেট কালারের জ্যাকেট পরিধান করে ঢাকার জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলেন।জ্যাকেটটিতে সেনাবাহিনীর কোনো লোগো,ব্যাজ বা সিম্বল ছিল না।

এমতাবস্থায় গুলিস্তান আর্মি ক্যাম্পের কয়েকজন সৈনিক তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান।আটককালে এবং পরে ক্যাম্পে উপস্থিত এক কর্মকর্তার কাছেও তিনি নিজের পূর্ণ পরিচয় দেন এবং জানান যে তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য।

অভিযোগে আরও বলা হয়,ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত মেজর আরিফ (১১ বীর-এর উপ-অধিনায়কের উপস্থিতিতে) এর নেতৃত্বে ৪–৫ জন সৈনিক তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ক্যাম্পের কথিত একটি ‘খেলাঘরে’ মেঝেতে শুইয়ে রাখেন। এরপর মেজর আরিফ নিজে হকিস্টিক দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

ভুক্তভোগী দাবি করেন,তিনি বারবার তার অপরাধ কী জানতে চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং কেন তিনি কম্বেট কালারের জ্যাকেট পরেছেন—তা জানতে চাওয়া হয়।তিনি জানান,এই ধরনের জ্যাকেট পরিধান যে কোনো অপরাধ,সে বিষয়ে তার পূর্বে কোনো ধারণা ছিল না।

অভিযোগ অনুযায়ী,একপর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে মেজর আরিফ তার বুকের ওপর দাঁড়িয়ে প্রহার করেন।এতে তিনি বাকরুদ্ধ ও অচেতন হয়ে পড়েন।পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় আটকে রাখা হয়।

সন্ধ্যার দিকে জ্ঞান ফিরলে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মোঃ আলামিন মোল্লা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে সুবিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—যদি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়ে থাকে,তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

ভুক্তভোগীর দাবি: মেজর আরিফের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও খবর

Sponsered content