প্রতিনিধি ১০ জুলাই ২০২৪ , ৫:৫৮:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন,টকশোতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা বুঝে বা না বুঝে আন্দোলন করতেই পারেন।তাদের মনে ক্ষোভ থাকতেই পারে।

তিনি বলেন,টকশোতে যারা কথা বলছেন তাদের কথা শুনে মনে হয়,তাদের চেয়ে জ্ঞানীগুণী আর কেউ নেই।আমরা যারা বিচারকের আসনে আছি তারা কিছুই জানি না।মনে হয় তারাই সব জানেন,আমরা কিছু জানি না।
বুধবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন,শিক্ষার্থীরা যেভাবে আন্দোলন করছে সেটা অ্যাপ্রিশিয়েট করা যায় না।হাইকোর্ট একটা রায় দিয়েছেন।সেই রায় সঠিক হয়েছে কিনা,সেটা দেখার জন্য আপিল বিভাগ রয়েছে।আপিল বিভাগ তো হাইকোর্টের রায় বাতিল বা সংশোধন করতে পারেন।আবার বহালও রাখতে পারেন।শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য আদালতে তুলে ধরতে পারেন। এটাই তো যথাযথ ফোরাম।
তিনি বলেন,আমরা আগেও বলেছি আন্দোলন করে রায় পরিবর্তন হয় না।রায় পরিবর্তন আদালতই করতে পারেন।
এ সময় যে দুই শিক্ষার্থী আপিল বিভাগে আবেদন নিয়ে এসেছেন তাদের এবং আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হককে ধন্যবাদ জানান প্রধান বিচারপতি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা লিখিত আকারে আদালতে জমা দিতে বলেছেন আদালত।
শুনানির পর সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ।এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলেন আদালত।
এই আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
এর আগে,গত ৪ জুলাই সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিসিএসসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা নেই।শতভাগ মেধাভিত্তিক নিয়োগ চালু আছে।

















