প্রতিনিধি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:৫৮:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জুলাই দাঙ্গা চলাকালে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে দায়ের করা মামলাগুলোর বড় অংশই ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আদালতের মাধ্যমে দায়ের করা এসব মামলার বাদী,সাক্ষী ও আসামির উল্লেখযোগ্য অংশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি—এমন তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত সংস্থাটির প্রতিবেদনে।
মিরপুর ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় মো. আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার তদন্তেই বিষয়টি প্রথম স্পষ্ট হয়।তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন দাবি করে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০০–২৫০ জনকে আসামি করেন।কিন্তু তদন্তে বাদীর ঠিকানা,জাতীয় পরিচয়পত্র ও যোগাযোগ নম্বর—সবই ভুয়া বলে পায় পিবিআই।মামলার সাক্ষীদের তথ্যও অসত্য পাওয়া যায়।
এ ধরনের ঘটনা অনেক মামলাতেই দেখা গেছে।
পিবিআই জানায়,জুলাই-আগস্টে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মোট ১৯২টি সিআর মামলার মধ্যে ৭৮টির তদন্ত শেষ হয়েছে।এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মামলায় অভিযোগ প্রমাণ পাওয়া যায়নি,বাদী-সাক্ষীর অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।বাকি ৪৪ শতাংশ মামলায় চার্জশিট দেওয়া হলেও সেসবেরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি ভুয়া।কোনো কোনো মামলায় ভুয়া আসামির হার ৯০ শতাংশেরও বেশি।
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল বলেন,বিভিন্ন জেলার বহু ব্যক্তিকে ঢাকার ঘটনার মামলায় আসামি করা হয়েছে,অথচ তারা কখনো ঢাকায়ই আসেননি। নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করার লক্ষ্যেই তদন্তে পাওয়া তথ্য আদালতে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
আইনজীবীরা বলছেন,মিথ্যা মামলা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।তারা মনে করেন,পিবিআই যে মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন বলছে,প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
তদন্ত সূত্র অনুযায়ী,বিক্ষোভের পর সারাদেশে মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা হয়।এর মধ্যে ১০৬টিতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।৪৩৭টি মামলায় ২ হাজার ৮৩০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশসহ আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
পিবিআই–এর তদন্তে আরো জানা যায়,যেসব মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে—সেগুলোরও বড় অংশে আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। গুলশান,তুরাগ,বাড্ডা,যাত্রাবাড়ী, জালালাবাদসহ বিভিন্ন থানার বেশ কিছু মামলায় ৪৮ থেকে ৯০ শতাংশ আসামি অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।
এমন একটি মামলায় যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের বাবার করা অভিযোগে ২৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে মাত্র ২০ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে; ২৩৩ জনকেই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন,বাদী-সাক্ষীর অস্তিত্বহীনতা,ভুয়া নাম-ঠিকানা,জাল পরিচয়পত্র এবং ঘটনার সময় আসামিদের ঢাকায় অনুপস্থিতি—এসব বিষয়ই অধিকাংশ মামলাকে অবিশ্বাস্য করে তুলেছে।

















