নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে ফেরার দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ২৪ দিন পর পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব।দিনটি জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়,বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।পরে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।পরে তিনি সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ,যুবলীগ,যুব মহিলা লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর শুরু হয় বর্বর হামলা। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু।তার ডাকে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি সংগ্রামে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বিশ্ব জনমতের চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। মুক্তির পর তিনি লন্ডন যান।সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে পৌঁছান ঢাকায়। লাখো জনতা সেদিন তাদের প্রিয় নেতাকে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে খোলা ট্রাকে করে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু সেখানে সদ্য স্বাধীন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।প্রায় কুড়ি মিনিটের সেই আবেগঘন বক্তৃতায় তিনি বলেন,পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দিদশায় তিনি ফাঁসিকাষ্ঠে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।কিন্তু তিনি জানতেন,বাঙালিকে কেউ ‘দাবায় রাখতে’ পারবে না। “আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে।আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।” শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মাসমর্পণের মধ্য দিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করি। কিন্তু এই বিজয় পূর্ণতা পায়নি যতক্ষণ না পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বিজয়ের মহানায়ক শেখ মুজিব দেশে ফেরেন। তার অনুপস্থিতিতে বিজয় ছিল অসম্পূর্ণ।সেই অসম্পূর্ণ বিজয় পূর্ণতা পেয়েছিল আজকের ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। “আজকের এই দিনের অঙ্গীকার,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন একটি আদর্শ রাষ্ট্র।সেই আদর্শ রাষ্ট্র আমাদের অঙ্গীকার। সেই আদর্শ রাষ্ট্র আমরা প্রতিষ্ঠা করব।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণ করব।আজকের এই দিনে আমাদের শপথ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণে ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ,তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।” এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন,“আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ঐক্যবদ্ধ,অনেক শক্তিশালী।আমরা যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র,যে কোনো ধরনের আন্দোলনের নামে সহিংসতার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত।” Post navigation বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম দেশে পরিণত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক সুযোগ এখানে আছে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী,এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখতে চায়-পররাষ্ট্রমন্ত্রী,ড. এ কে আব্দুল মোমেন