প্রতিনিধি ৮ আগস্ট ২০২৪ , ৯:৫৮:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।গর্ভধারণ ব্যাপারটা প্রত্যেক মেয়ের জন্য অনেক আনন্দের।কিন্তু আনন্দের পাশাপাশি প্রত্যেক ‘মা’ কে পুরো গর্ভাবস্থায় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আর থাকতে হয় অনেক বেশী সাবধান।কেননা এই সময়টিতে সামান্য ভুল কিংবা অসাবধানতার কারণে ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।এই সময়ে মায়ের অনেক পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে আবার কিছু খাবার এড়িয়ে যেতে হবে তার অনাগত সন্তানের সুসাস্হ্যের কথা চিন্তা করে।আর এমনই কিছু খাবারে তালিকা দেওয়া হল যা গর্ভবতী মহিলাদের এড়িযে যেতে হবে সতর্কতার সাথে ।
কাঁচা ডিম
গর্ভাবস্থায় কাঁচা ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ না করে খাওয়া যাবেনা।
অর্ধ সিদ্ধ মাংস
অর্ধসিদ্ধ মাংসে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।তাই মাংস ভালো ভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
অপাস্তুরিত দুধ বা কাঁচা দুধ:-
অপাস্তুরিত দুধ বা কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে । তাই ভালো করে না ফুটিয়ে দুধ পান করা যাবে না । অপাস্তুরিত দুধ দিয়ে তৈরি খাবার যেমন – নরম পনির খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে ।
কলিজা ও কলিজার তৈরি খাবার
কলিজা ও কলিজার তৈরি খাবার এর অতিরিক্ততা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
চা – কফি
কফি ক্লান্ত দূর করার জন্য কার্যকর হলেও গর্ভাবস্থায় এর পরিমাণ কম করতে হবে।চা-কফি ইত্যাদিতে ক্যাফেইন থাকে ।দৈনিক ২০০ গ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে কম ওজনের শিশু জন্ম গ্রহণ করে।মিসক্যারেজের মত ঘটনাও ঘটতে পারে ।
সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।কিন্তু অধিক পরিমাণে খেলে গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার:-দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সীমিত পরিমাণে অর্থাৎ দিনে ১/২ বার এর বেশি খাবেন না ।
লাল মাংস:-লাল মাংস সীমিত পরিমাণে খাবেন।
রিফাইন্ড শস্য
রিফাইন্ড শস্য দিয়ে তৈরি সাদা পাউরুটি ও সাদা চালের ভাত এড়িয়ে যাবেন।লাল চালের ভাত ও লাল আটার তৈরি পাউরুটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
আনারস:-
গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।কারণ এতে রয়েছে উচ্চমানের ব্রোমেলিন যা জরায়ুকে নমনীয় করে ফেলে যথাসময়ের আগেই প্রসব যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে বা মিসক্যারেজ হতে পারে ।
কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে
গর্ভকালে কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।এটি নিরাপদ নয়।কাঁচা বা অর্ধ পাকা পেঁপেতে রয়েছে ল্যাটেক্স নামক এক উপাদান যা ঘনীভূত হয়ে জরায়ুর সংকোচন করে।একদম নরম পরিপূর্ণ পাকা পেঁপে খেতে পারবেন কিন্তু কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে একেবারেই খাবেন না।
আঙ্গুর:-গর্ভকালে আঙ্গুর খাওয়া যাবে কি যাবে না এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।কোনো কোনো মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে আঙ্গুর খাওয়া যাবে না।অন্যদিকে অনেকে বলেছেন তা খেতে বাধা নেই।আঙ্গুর খেতে নিষেধ করা হয় কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধে আঙ্গুর গাছে প্রচুর পেস্টিসাইড স্প্রে করা হয় তাই গর্ভকালীন সময়ে আঙ্গুর না খেলেই ভালো হয় ।
তিলের বীজ:-
গর্ভবতী নারীদের তিলের বীজ বেশি খাওয়া উচিত নয় । তিলের বীজ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গর্ভপাত হতে পারে । তাই এই খাবার এড়িয়ে যান।
সজনে ডাটা:-সজনে এতে রয়েছে ভিটামিন,আয়রন ও পটাশিয়াম।এগুলো শরীরের জন্য ভালো।তবে এতে আলফা সিটোসটেরল নামে এক ধরণের উপাদানও রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করা ক্ষতিকর।এটি গর্ভপাত ঘটাতে পারে ।
কাঁকড়া:অনেকে কাঁকড়া খেতে পছন্দ করেন।এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম।তবে গর্ভাবস্থায় বেশি কাঁকড়া খাওয়া উচিত নয়।এটি জরায়ুকে সংকুচিত করে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটায়।এছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল রয়েছে।এটিও গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর।
অ্যালোভেরা:অ্যালোভেরা চুল,ত্বক এবং হজমের জন্য ভালো । তবে গর্ভাবস্থায় অ্যালোভেরা জুস খাওয়া যাবেনা।এটিও গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
কাঁচা আদা:কাঁচা আদা খাবেন না।কাঁচা আদা গর্ভের বাচ্চার জন্য ক্ষতি হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকায় তাজা খাদ্য রাখতে চেষ্টা করুন। ফ্রিজে সংরক্ষিত বা অতিরিক্ত গরম খাবার না খাওয়াই ভালো ।