প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৩ , ৩:১২:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করা হয়েছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি দিয়ে।সেখানে স্থান পেয়েছে দিনাজপুরের আরিফা আক্তার আঁখির একটি ছবি।

আঁখি তার আঁকা দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দানের ছবি সরকারপ্রধানের শুভেচ্ছা কার্ডে স্থান পাওয়ায় খুবই আপ্লুত।
এজন্য সে ইশারা ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। মেয়ের এই সাফল্যে খুশি বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরাও।
আঁখির আঁকা ছবিতে দেখা যাচ্ছে,বিশাল মিনারের সামনে ঈদের নামাজের জন্য কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবি-টুপি পরা মানুষ।এর মধ্যে কোলাকুলি চলছে,কেউ আবার কোরবানির গরু নিয়ে যাচ্ছে।
জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আঁখি দিনাজপুর পৌর এলাকার পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গার পুরাতন পুস্তক ব্যবসায়ী আনারুলের মেয়ে।সে দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
আঁখির মা শাহানাজ পারভীন জানান,শিশুকাল থেকেই আঁখির পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ।কিন্তু কথা বলতে ও শুনতে না পারায় তার স্বাভাবিক পড়াশুনা সম্ভব হয়নি।
তবে এক সময় নিজে থেকেই ছবি আঁকতে শুরু করে আঁখি। তার আগ্রহ দেখে তাকে ভর্তি করা হয় দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে।পাশাপশি একটি আর্ট স্কুলেও তাকে ভর্তি করা হয়।
শাহানাজ পারভীন বলেন,“আঁখির জন্মের পর কথা বলা ও শুনতে না পারার কারণে বেশ কষ্ট পাই।কিন্তু মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি তার মধ্যে অন্য এক প্রতিভা আছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোররা বোঝা নয়; তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে।কিন্তু সেটা পরিবারের লোকদের বুঝতে হবে।
আঁখির বাবা আনারুল ইসলাম বলেন,“ছবি আঁকার বিষয়টি মেয়ের নিজের পছন্দের।মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু,পরিবেশ,আকাশ, প্রকৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আঁখি ছবি আঁকতে পছন্দ করে। স্থানীয় পর্যায়ে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় আঁখির অবস্থান থাকবেই।ছবি এঁকে অসংখ্য পুরস্কারও পেয়েছে আঁখি।
মেয়ের এমন স্বীকৃতিতে আবেগ-আপ্লুত আনারুল বলেন, আঁখি যখন কোনো ছবি আঁকতে বসে তখন তা শেষ না করা পর্যন্ত উঠে না।তিনি বিশ্বাস করেন,প্রত্যেক বিশেষ চাহিদসম্পন্ন শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো প্রতিভা আছে।তাদের কাছে অভিভাকদেরও কিছু শেখার আছে।
আপ্লুত আরিফা আক্তার আাঁখি শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি; একই সঙ্গে সে তার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিতে চায়, বড় শিল্পী হতে চায় বলে ইশারা ভাষায় জানায়।
আাঁখির ছোটবেলা থেকে আঁকার প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল।
২৪ জুন জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম আঁখির বাসায় যান।সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আঁখির আঁকা ছবি সম্বলিত প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড তার হাতে তুলে দেন তিনি।
সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম লেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোররা সমাজের বোঝা নয় আঁখি সেটা প্রমাণ করেছে।তাদের মধ্যেও কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে; শুধু তাদের একটু যত্নের প্রয়োজন।সারা বিশ্বে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা অবদান রাখছে।”
তিনি আরও বলেন, “আঁখি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার ছবি দিয়ে দিনাজপুরকে আলোকিত করেছে।আমরা দিনাজপুরবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ২০১৭ সাল থেকে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

















