প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৫ , ৪:১১:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইসরায়েল গাজা যুদ্ধে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছে।তবে এই যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়ে তারা বলেছে,হামাসের হাতে আটক জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিদের অন্তত অর্ধেককে মুক্তি দিতে হবে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা কেএএন জানিয়েছে, শনিবার (১৭ মে) কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে,ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে গাজায় থাকা জীবিত জিম্মিদের অন্তত অর্ধেককে মুক্তির শর্ত দিয়েছে।
ইসরায়েলের হিসাবে,হামাসের হাতে বর্তমানে ৫৮ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে।এদের মধ্যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সেনা সূত্রের মতে,প্রায় ২০ জন জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।সেই হিসেবে যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ জন জীবিত জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে।
এদিকে,গাজার পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে।যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে গাজা উপত্যকা আজ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।শহরের পর শহর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।বিশেষ করে,শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
একনজরে গাজা যুদ্ধএকনজরে গাজা যুদ্ধ
গাজায় এখন খাবার,পানি,বিদ্যুৎ এবং ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে।বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্কুল বা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয় ঘোষণা করার কথাও বলেছে।
ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে,বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে ৯,৯০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এদের অনেককে কোনো বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বন্দিদের অনেকেই নির্যাতন,অনাহার এবং চিকিৎসার অবহেলার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন,যার ফলে অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনেক ফিলিস্তিনি বন্দি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন বা বিচার কার্য সম্পন্ন হয়নি।মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পাশাপাশি ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।সোমবার (১৯ মে) ভোরে গাজায় নতুন করে বিমান ও স্থল আক্রমণ চালানো হয়।ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে,এসব হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।তাদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ মানুষ এবং শিশু।বিশেষ করে খান ইউনিস শহরে হামলা বেশি চালানো হয়েছে,যেখানে ছয়জন নিহত হন।
ওয়াফা আরও জানিয়েছে,খান ইউনিসে হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী শহরের টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়,ফলে লোকজনের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
তথ্যসূত্র: টিআরটি গ্লোবাল












