প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:০৮:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এসব অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে,বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তাঁর পারিবারিকভাবে ক্ষমতাসীন ও সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।তাঁর শ্বশুর জয়পুরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ এবং ভাই যশোর-১ আসনের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন।সমালোচকদের দাবি,এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগসূত্রের কারণে বাণিজ্য উপদেষ্টার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে,অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছরে উন্নয়নের নামে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও তার সুফল দৃশ্যমান নয়।বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কমেছে,রপ্তানি আয় হ্রাস পেয়েছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
সমালোচকরা দাবি করছেন,প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের কর বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা মওকুফ করিয়েছেন।পাশাপাশি একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আত্মসাৎ ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও কয়েকশ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।
পদ্মা সেতুর টোল আদায় সংক্রান্ত আয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে সমালোচকরা বলছেন,সেতু থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।সে ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের যুক্তিতে চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে,পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ঘাঁটি সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,ছিনতাই ও রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে দেওয়া তাঁর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ‘হ্যাঁ ও না’ গণভোট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। তাদের মতে,এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করার একটি কৌশল হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ জবাব না এলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
















