প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ , ৪:২৬:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।শেখ হাসিনার অপসারণের পর বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অরাজকর পরিস্থিতি নিয়ে এবার তথ্যপ্রমাণ-সহ ইউনুস সরকারকে চার্জশিট দিল আওয়ামী লীগ।দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আওয়ামী লীগ ৫০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘গত জুলাইয়ের শেষের দিক থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে বাংলাদেশে ৩৭০টি মৃত্যু, ৫৩৩টি নারী নির্যাতন,৬৭টি ধর্ষণ, ২৬টি গ্যাং রেপ ঘটেছে। বাংলাদেশের আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায় নেই।৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ১৮৭ জন কর্মকর্তা আজও ভয়ে কাজে যোগ দেননি।’

এই ডিজিটাল প্রতিবেদনটির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘অনিশ্চিত পথ: আওয়ামী লীগ পরবর্তী বাংলাদেশে মানবাধিকার’।
প্রতিবেদনের শুরুতে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস প্রকাশ্যে যে- প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,বাংলাদেশের বাস্তবতার মাটিতে মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতার একেবারে বিপরীত ছবি ধরা পড়েছে।ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে মানবাধিকার লঙ্ঘন,গণহত্যা,লাগাতার নারীদের প্রতিহিংসাতৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও হিংসার ঘটনা ঘটেছে।এর প্রতিবাদে সংঘটিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর দমন-পীড়ন,মিথ্যা মামলা,অস্ত্র আইনে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।আইন প্রয়োগকারী সংস্থা,আমলাতন্ত্র,এমনকী দেশের বিচার বিভাগ ত্রাস সৃষ্টি করে ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে।দাবি করা হয়েছে,এই রাজনৈতিক পালাবদলের ঘটনায় গত ৭ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৫৮ জন,৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৮১ জন,১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ জন এবং ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে,গত ৫ আগস্টের মধ্যে মব কিলিংয়ে ৪৪ জন,এরপর ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ জন,২৬ অক্টোবরের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।এসব হামলায় ৮ জন আহত হয়েছেন।স্থানীয় প্রথম সারির একটি সংবাদপত্র ৩৬টি ঘটনা রেকর্ড করেছে।২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।অন্য একটি সংবাদপত্র ৫৩টি ঘটনা উল্লেখ করেছে,যার ফলে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।এই সময়কালের মধ্যে আগস্টে ১৪৭,সেপ্টেম্বরে ১৮৬ ও অক্টোবরে ২০০টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।এর মধ্যে আগস্টে ৭৪,সেপ্টেম্বরে ৭২ ও অক্টোবরে ৫১টি নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনা,আগস্টে ৯৬, সেপ্টেম্বরে ১১৪ ও অক্টোবরে ১২৬ নারী নির্যাতন হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে আগস্টে ৭. সেপ্টেম্বরে ৪ ও অক্টোবরে ৭টি। নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা আগস্টে ৮. সেপ্টেম্বরে ১৩ ও অক্টোবরে ২৮টি ঘটেছে।গ্যাংরেপ হয়েছে আগস্টে ৪, সেপ্টেম্বরে ৬ ও অক্টোবরে ৬টি।নাবালিকা গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে আগস্টে ৩,সেপ্টেম্বরে ৫ ও অক্টোবরে ২টি।রহস্যজনকভাবে নারীমৃত্যু হয়েছে আগস্টে ১১,সেপ্টেম্বরে ২০ ও অক্টোবরে ১৩টি।রহস্যজনকভাবে নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে আগস্টে ১. সেপ্টেম্বরে ৭ ও অক্টোবরে ৫টি।নারীদের আত্মহত্যার ঘটনা আগস্টে ৭. সেপ্টেম্বরে ৯ ও অক্টোবরে ৭টি এবং নাবালিকার আত্মহত্যা আগস্টে ৪, সেপ্টেম্বরে ৫ ও অক্টোবরে ৬টি ঘটেছে।
এই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে,পালাবদলের পর যথেচ্ছ ভাবে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে।মাত্র ৫১ দিনে ১,৪৭৪টি মামলা হয়েছে আওয়ামিলীগের নেতা- কর্মী,বিরোধী রাজনৈতিক দল,বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২২০টি মামলা হয়েছে।তাঁর বোন রেহানার বিরুদ্ধে ২২টি,মার্কিন প্রবাসী ছেলে জয়ের বিরুদ্ধে ১৯টি এবং ভারতে চাকরিরত মেয়ে পুতুলের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা হয়েছে।তাঁর পরিবারের সদস্য ববির ওপর ১টি মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার ৬ জন মন্ত্রীর ওপর ৫৯৭টি মামলা হয়েছে।এর মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা হয়েছে আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে, ১৯৯টি।আওয়ামীলীগের ৭ জন শীর্ষনেতা গড়ে ২০টি করে মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।এর মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা দেওয়া হয়েছে শামিম ওসমান ও জাহাঙ্গির কবির নানকের ওপর।এদের দু’জনকেই ৪১টি করে মামলায় অভিযুক্ত করেছে ইউনুস সরকার।


















