প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:২৯:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দিনভর নাটকীয় আলোচনা ও টানাপোড়েনের পর জামায়াত-এনসিপিসহ গঠিত ১১ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে চরমোনাই মতাদর্শের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।দায়িত্বশীল দলীয় সূত্র জানিয়েছে,আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় এবং দলীয় ভাঙন ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

সূত্র জানায়,১১ দলীয় জোটে থাকা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে দুটি স্পষ্ট অবস্থান তৈরি হয়।দলের বড় একটি অংশ জোটে থাকতে চাইলেও সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও তাঁর অনুসারীরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।তাঁদের আপত্তির মুখেই শেষ পর্যন্ত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটে দলটি।
তবে দলটির আরেকটি সূত্র দাবি করেছে,জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয় এবং রাতের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হতে পারে।
সূত্র আরও জানায়,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শতাধিক আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পর্যায়ক্রমে তা কমিয়ে আনে।সর্বশেষ তারা ৫০টির বেশি আসনের দাবি জানায়।বিপরীতে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন দিতে আগ্রহ দেখায়।পরে ৪০টি আসনে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও ইসলামী আন্দোলন ১০ শতাংশ আসন ‘ওপেন’ রাখার শর্ত দেয়, যেখানে জামায়াত ৫ শতাংশ ছাড় দিতে চেয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির শীর্ষ নেতারা রামপুরার একটি মাদ্রাসায় যান।সেখানে মাগরিবের নামাজের পর শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
১১ দলীয় জোটের এক শরিক দলের দায়িত্বশীল নেতা জানান,ইসলামী আন্দোলনের আমির সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে জোটে থাকতে চাইলেও দলের ভেতরের বিরোধিতার কারণে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।তবে বাস্তবতার আলোকে তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জোটে ফিরে আসতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে দিনভর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে জোট থেকে বের করে আনার চেষ্টা চালানো হলেও তা সফল হয়নি।পাশাপাশি লেবার পার্টি,এবি পার্টি এবং জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
১১ দলীয় জোট বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের অনুরোধে তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়।যদিও জামায়াত এ ধরনের অনুরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
















