শপথের সাংবিধানিক সংকট: স্পীকার, আইন উপদেষ্টা ও বৈধতার প্রশ্ন
  • newadminnewadmin
  • ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম।।আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন কে? আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি প্রশাসনিক বিষয় মনে হলেও বাস্তবে এটি সংসদের বৈধতা,সংবিধানের কার্যকারিতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্পীকার হতে হলে সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই স্পীকার নির্বাচিত হবেন।অর্থাৎ স্পীকার হওয়ার পূর্বশর্তই হলো সংসদ সদস্য হওয়া।বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইন উপদেষ্টা স্পীকারের দায়িত্ব পালন করবেন—এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে ব্যাখ্যা করা গেলেও সাংবিধানিকভাবে তা টেকসই নয়।কারণ আইন উপদেষ্টা সংসদ সদস্য নন। ফলে আইন উপদেষ্টা কর্তৃক সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হলে সেই শপথের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ থাকে। সংবিধান কি এখনো কার্যকর? এই বিতর্কে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে—বর্তমান সংবিধান কি কার্যকর আছে? বাস্তবতা হলো,সংবিধান কার্যকর না থাকলে রাষ্ট্রপতি কীভাবে ধারাবাহিকভাবে অধ্যাদেশ জারি করছেন? সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা প্রয়োগই প্রমাণ করে যে সংবিধান বহাল আছে এবং কার্যকর রয়েছে। অতএব,প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে চলার কোনো সুযোগ নেই। শপথ,তৃতীয় তফসিল ও আইনি শূন্যতা সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের শপথের নির্দিষ্ট ফরম্যাট ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত আছে।সেখানে আইন উপদেষ্টা কর্তৃক শপথ পাঠ করানোর কোনো বিধান নেই।ফলে প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রপতি কি অধ্যাদেশ দিয়ে তৃতীয় তফসিল সংশোধন করতে পারবেন? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় তফসিল সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংসদ গঠনের মতো মৌলিক কাঠামো সংশ্লিষ্ট বিষয় অধ্যাদেশ দিয়ে পরিবর্তন করা ‘বেসিক স্ট্রাকচার ডকট্রিন’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০০৪ সালের সংশোধনী ও সিইসি প্রসঙ্গ ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে একটি বিধান যোগ করা হয়—নির্বাচনের পর স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকার শপথ পাঠ না করালে তিন…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
অবকাঠামো উন্নয়ন,রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনজীবন: একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ
  • newadminnewadmin
  • জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবকাঠামো উন্নয়ন—ঢাকা শহরের ফ্লাইওভার,মেট্রোরেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,পদ্মা সেতু,বঙ্গবন্ধু টানেল,পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল—এসব প্রকল্প শুধু যোগাযোগ ও অর্থনীতির প্রশ্ন নয়; এগুলো রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে এসব প্রকল্পের সমর্থকদের যুক্তি,উন্নয়ন মানুষের সময় বাঁচিয়েছে,যাতায়াত সহজ করেছে,বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা এনেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।ঢাকার মতো জনবহুল শহরে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ের ফলে দৈনন্দিন জীবনের চাপ কমেছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ কম। অন্যদিকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্পগুলোর ব্যয়, স্বচ্ছতা,অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে। তাদের মতে,অবকাঠামো উন্নয়ন যতটা দৃশ্যমান,ততটাই প্রয়োজন ছিল সুশাসন,গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার।কেউ কেউ মনে করেন,উন্নয়নকে রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করে ভিন্নমত ও সমালোচনাকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—উন্নয়ন নিজে কোনো অপরাধ নয়,আবার উন্নয়ন থাকলেই সব রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না।মানুষের জীবনমান উন্নত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব,কিন্তু একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়িয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়,কক্সবাজার রেলপথ পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে গতি দিয়েছে—এসবই বাস্তব অর্জন।তবে একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দুর্নীতির অভিযোগ,ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রশ্নও জনআলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিতর্কে প্রায়ই দেখা যায়—এক পক্ষ উন্নয়নকে সব কিছুর চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে,আর অন্য পক্ষ উন্নয়নকে তাচ্ছিল্য করে পুরোপুরি অস্বীকার করে। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝখানে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অবকাঠামো অপরিহার্য।কিন্তু সেই উন্নয়ন টেকসই,অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক না হলে তা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।উন্নয়ন মানুষের কষ্ট কমাবে—এটাই স্বাভাবিক ও কাম্য। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে মানুষ প্রশ্ন করতে পারে,সমালোচনা করতে পারে এবং ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা ব্যক্তি বা সরকারের নয়—প্রশ্নটা…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
আসন দাবিতে বাস্তবতা বনাম কল্পনা
  • newadminnewadmin
  • জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম।।বরিশাল–৫ (সদর) আসন কেয়ামতের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাবে কিনা—এই প্রশ্ন এখন আর রাজনৈতিক কৌতুক নয়,বরং বাস্তব বিশ্লেষণের অংশ।যেখানে একটি আসন জয়ের ন্যূনতম বাস্তব সম্ভাবনাও দৃশ্যমান নয়,সেখানে ১৪৩টি আসন ‘নিশ্চিত’ পাওয়ার দাবি রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে নয়,বরং কল্পনাবিলাসের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজনীতি কোনো ওয়াজের মিম্বর নয় যে আবেগের জোরে শ্রোতা পাওয়া যাবে।এটি ভোটের অঙ্ক,মাঠের সংগঠন ও জনসম্পৃক্ততার হিসাব।বরিশাল অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের অতীত নির্বাচনী ফলাফল,সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটব্যাংকের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—দলটি এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।সে অবস্থায় বড় পরিসরের আসন দাবি রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার শামিল। এই অতিরঞ্জিত দাবির ফল হয়েছে উল্টো।শক্ত অবস্থানে থাকার বদলে দলটি দরকষাকষির টেবিলেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। জোট রাজনীতিতে ছাড় পায় তারা,যারা মাঠে শক্তিশালী। যারা সংখ্যার রাজনীতিতে প্রমাণ দিতে পারে। এখানে নৈতিক উচ্চারণ বা আদর্শিক দাবি দিয়ে আসন আদায় হয় না। বিশ্লেষকদের মতে,বাস্তব শক্তিমত্তার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আসন দাবি জোটের ভেতরে অবিশ্বাস সৃষ্টি করে।সেই অবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত জোট ভাঙনের বীজ বপন করে। ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজনীতিতে কল্পনা দিয়ে হিসাব কষলে ফলাফল হয় শূন্য। বরিশাল–৫ তো দূরের কথা—এভাবে চললে জাতীয় রাজনীতিতেও দলটির অবস্থান আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ার আশঙ্কাই বেশি। সময় এসেছে স্বপ্ন নয়,বাস্তবতার রাজনীতি শেখার। রাজনীতি নির্মম—এখানে বিশ্বাস নয়,প্রমাণই শেষ কথা। সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
ভারতবিরোধী স্লোগান বনাম আমদানি বাস্তবতা
  • newadminnewadmin
  • জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম।।বিভিন্ন সময় সরকারসংশ্লিষ্ট মহল থেকে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা শোনা যায়।নানা ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বানও ওঠে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ (ডিসেম্বর,অর্থ বিভাগ) অনুযায়ী ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য আমদানির প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ভারত থেকেই আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি—৭.৮৩ শতাংশ।অর্থাৎ ভারতবিরোধী বক্তব্য ও অনলাইন বয়কটের আহ্বান বাস্তবে আমদানিতে কোনো প্রভাব ফেলেনি। ভারত থেকে আমদানি কেন বাড়ছেই? এটি কোনো রাজনৈতিক পছন্দের ফল নয়,বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতার ফল। ভৌগোলিক নিকটতা: পরিবহন খরচ কম,সরবরাহ দ্রুত মূল্য প্রতিযোগিতা: খাদ্যশস্য,পেঁয়াজ,চাল,চিনি ও শিল্পের কাঁচামাল ভারত তুলনামূলক সস্তায় সরবরাহ করতে পারে শিল্পনির্ভরতা: টেক্সটাইল,ওষুধ,বিদ্যুৎ ও নির্মাণ খাতে ভারতীয় কাঁচামালের বড় ভূমিকা বিকল্প বাজারের সীমাবদ্ধতা: চীন,ব্রাজিল বা ইউক্রেন থেকে আমদানি করলে খরচ ও সময়—দুটোই বেড়ে যায় এখানে “ইচ্ছা” নয়, কাজ করে বাধ্যতা। সোশ্যাল মিডিয়ার বয়কট বনাম রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ ভারতীয় পণ্য না কিনলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে খাদ্য নিরাপত্তা,শিল্প উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। বয়কট যদি রাষ্ট্রীয় নীতি না হয়,তাহলে তার কোনো প্রভাব জাতীয় আমদানি পরিসংখ্যানে পড়বে না—এটাই স্বাভাবিক। আমদানির পরিসংখ্যান কী বলছে? বাংলাদেশে আমদানির প্রধান উৎসভিত্তিক ব্যয় ও প্রবৃদ্ধি (অর্থবছর ২০২৩–২৪ ও ২০২৪–২৫, একক: কোটি টাকা) সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫, বণিক বার্তা দেশ ২০২৩–২৪ ২০২৪–২৫ প্রবৃদ্ধি (%) ভারত ৮৯৮.৯ ৯৬৯.৩ ৭.৮৩ চীন ১,৯০৪.৯ ২,০৫২.২ ৭.৭৩ সিঙ্গাপুর ২১২.৯ ২২৬.৮ ৬.৫৩ দক্ষিণ কোরিয়া ১০৮.২ ১১২.৭ ৪.১৬ জাপান ১৯৫.২ ১৯৬.৮ ০.৮২ হংকং ২৫.৫ ২৫.৬ ০.৩৯ তাইওয়ান ৯৭.৩ ৮৯.৫ -৮.০২ যুক্তরাষ্ট্র ২৮৮.৩ ২৫০.৬ -১৩.০৭ মালয়েশিয়া ২২২.৭ ১৯১.১ -১৪.১৯ অন্যান্য ২,৭১৮.৬ ২,৭২০.৮ ০.০৮ “বয়কট ভারত” রাজনীতি কেন টিকে থাকে? তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই রাজনীতি সহজে বিক্রি হয়, কারণ— জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক আবেগ রয়েছে প্রতিবেশী দেশকে টার্গেট করে…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
নোবেলজয়ীর সংস্কার,নাকি নির্বাচিত প্রতিশোধ?
  • newadminnewadmin
  • জানুয়ারি ৪, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম।।যে দেশে পুলিশ হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মতো জঘন্য অপরাধের স্বীকারোক্ত আসামি গভীর রাতে বিশেষ আদালতে হাজির হয়ে জামিন পায়,আর একই দেশে অভিযোগহীন,অপরাধ প্রমাণহীন একজন ব্যারিস্টার মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি থাকে—সে দেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। হবিগঞ্জের ব্যারিস্টার সুমনের ক্ষেত্রে না আছে চার্জশিট,না আছে অভিযোগের গ্রহণযোগ্য ভিত্তি, তবু জামিন নেই। অন্যদিকে,যারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে— পুলিশ হত্যা,থানা পোড়ানো,রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস— তাদের জন্য রাতের অন্ধকারে আদালত বসে, জামিন মঞ্জুর হয়। এটাই কি আইন? এটাই কি ন্যায়বিচার? বিশ্বের কোন সভ্য রাষ্ট্রে খুনের স্বীকারোক্ত আসামি জামিন পায়, আর নির্দোষ মানুষ বছরের পর বছর বিচার ছাড়াই জেলে পচে? এই তালিকায় একজন নয়— হাজারো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, শিক্ষক,সাংবাদিক,মুক্তিযোদ্ধা,বুদ্ধিজীবী— সবাই একই ধরনের বিচারবহির্ভূত শাস্তির শিকার। যদি এটাকে ফ্যাসিবাদ বলা না যায়, তাহলে ফ্যাসিবাদ কাকে বলে? যদি এটাকে আইন বলা হয়, তাহলে “আইন” শব্দটাই আজ অপমানিত। এটা আইন নয়— 👉 এটা অত্যাচার 👉 এটা জুলুম 👉 এটা রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধ আজ বলা নিষিদ্ধ, লেখা বিপজ্জনক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে প্রশ্ন করলেও অপরাধ। বুকের ব্যথা বুকে না রাখলে—গ্রেপ্তার। গণমাধ্যম অবরুদ্ধ। ভিন্নমত মানেই “রাষ্ট্রদ্রোহ”। সাংবাদিক আনিস আলমগীর—৫ দিনের রিমান্ডে। এদিকে প্রকাশ্যে বলা হয়—“মেট্রোরেলে আগুন না দিলে, বিটিভি না পোড়ালে,পুলিশ না মারলে বিপ্লব সফল হতো না।” এই যদি হয় সংস্কারের ভাষা,এই যদি হয় নতুন বাংলাদেশের ন্যায়বিচার—তাহলে ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবেই। ফ্যাসিবাদের আসল রূপ একটাই—কলম চুপ,কণ্ঠ স্তব্ধ। এম মাজহারুল ইসলাম (প্রকাশক-সম্পাদক) সাংবাদিক,লেখক ও কলামিস্ট

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
এই নির্বাচন ‘গণতন্ত্রের’ নয়—এটা কৃতজ্ঞতার মাশুল আদায়ের মঞ্চ
  • newadminnewadmin
  • জানুয়ারি ২, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম।।আর কোনো ভান করার দরকার নেই।আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসছে—এটা নিশ্চিত।জানুয়ারিতেই ঘোষণা আসবে,নির্বাচন হবে এপ্রিলে।আর এই নির্বাচন কোনো আদর্শের লড়াই নয়, এটা ক্ষমতার হিসাব–নিকাশের একটি ঠাণ্ডা চুক্তি। প্রশ্ন হলো— বিএনপি (৩০%) আর জামায়াত (৭%) মিলেও যদি আওয়ামী লীগের অর্ধেক ভোট না পায়,তাহলে এই রিস্ক কেন? কারণ তারা জানে—এই নির্বাচন তারা হারবে না। আর হারলেও ক্ষমতা হারানোর ভয় নেই। কারণ মাঠ সাজানো,রেফারি নির্ধারিত,আর ফলাফল নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটা ভিন্ন। এই নির্বাচন কৃতজ্ঞতার মূল্য পরিশোধের আয়োজন তারেক রহমান আজ রাজনীতিতে জীবিত—শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়,শারীরিকভাবেও—এটা শেখ হাসিনার দয়ার ফল।এই সত্য যতই বিএনপির কোটি কর্মী-সমর্থক গিলতে না পারুক,তারেক সেটা হাড়ে হাড়ে জানেন। জান বাঁচানো,নিরাপদে থাকা,দেশে ফেরার পথ খোলা রাখা—সবকিছুই হয়েছে শেখ হাসিনার ‘অনুগ্রহে’। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছিল,মাত্র ১৫ দিন আগেও তারেক ছিলেন একজন অসহায়,কুল-কিনারাহীন মানুষ।কিছুই করার ছিল না তার। শেষমেশ দাঁত চেপে স্ত্রীকে দেশে পাঠাতে হয়েছে। এই বাস্তবতা বুঝলেই পরিষ্কার হয়— কেন শেখ হাসিনা বা ভারতের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের মুখ থেকে একটাও আগুনঝরা রাজনৈতিক বক্তব্য বের হয় না। ডিপ্লোমেটিক শব্দের আড়ালে নতজানু রাজনীতি—এর নামই এখন বিএনপির ‘কৌশল’। জামায়াতের ‘বিপ্লব’ ভেঙে গেছে পাঁচ দিনে জামায়াত গোপনে ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।এটা কোনো সাহসী কূটনীতি নয়—এটা আত্মসমর্পণ। ১৫ দিন আগেও জামায়াত বিএনপিকে ঠেলে ঠেলে স্টেজের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল।পরিকল্পনা ছিল শেষ ধাক্কায় বিএনপিকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া। কিন্তু শেষ পাঁচ দিনে গেইম উল্টে গেছে। এই পাঁচ দিনেই জামায়াত বুঝেছে— ওদের একা মাঠে নামার ক্ষমতা নেই। ভারত,আন্তর্জাতিক শক্তি,এমনকি মাঠের ভেতরের সমীকরণ—সব জায়গায় তারা কোণঠাসা। ফলে আজ জামায়াতের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। বিএনপির সঙ্গে জোট—এটা আর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। জামায়াতের আসল পরিকল্পনা ছিল বিএনপিকে…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
খালেদা জিয়া ইনোসেন্ট,হাসিনা মনস্টার—এই দ্বিমুখী রাজনীতি কবে শেষ হবে?
  • newadminnewadmin
  • জানুয়ারি ২, ২০২৬

ক্ষমতা,সহিংসতা ও ইতিহাসের বেলায় এক চোখে অন্ধ, আরেক চোখে ঈগল হওয়াই কি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি? বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর যে জিনিসটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, তা হলো দ্বিমুখী নৈতিকতা। একই কাজ এক পক্ষ করলে তা ‘ভুল বোঝাবুঝি’, আর অন্য পক্ষ করলে তা ‘ফ্যাসিবাদ’। এই জায়গা থেকেই শেখ হাসিনা বনাম খালেদা জিয়ার তুলনাটি অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৯৯৪ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম রাজাকারদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হন—এবং সেই মামলার বোঝা নিয়েই মৃত্যুবরণ করেন। তখন ক্ষমতায় ছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু ইতিহাসে তিনি আজও “ইনোসেন্ট”। অথচ একই ধরনের রাষ্ট্রীয় কঠোরতা শেখ হাসিনার আমলে ঘটলে, সেটাই হয়ে যায় ফ্যাসিবাদ। ১৯৯৫ সালে সারের দাবিতে আন্দোলনে ১৮ জন কৃষক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ১৯৯৬ সালের পাতানো নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩০-এর বেশি নেতাকর্মী নিহত হন, তিন মাসের হরতালে মারা যান প্রায় ২০০ জন। কিন্তু এসবের দায় কখনোই খালেদা জিয়ার কাঁধে পড়ে না। বিমানবন্দরের নামকরণ, বাড়ি বরাদ্দ বাতিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—সব ক্ষেত্রেই এক অদ্ভুত মানসিকতা কাজ করে। খালেদা জিয়া করলে তা “রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত”, আর শেখ হাসিনা করলে তা “প্রতিশোধ”। ১৫ আগস্টে ঘোষিত জন্মদিন পালন, জিয়াউর রহমানের কবর বিতর্ক, গ্রেনেড হামলার পর জজ মিয়া নাটক—এসব ঘটনাও প্রমাণ করে, সত্য নয় বরং পক্ষটাই মুখ্য। একই অপরাধে একজন নায়ক, আরেকজন খলনায়ক। বিদ্যুৎ আন্দোলনে গুলি, সীমান্ত কূটনীতি, গ্যাস রপ্তানি প্রস্তাব, ডিজিটাল বাংলাদেশ, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, সাবমেরিন—প্রতিটি ইস্যুতেই দেখা যায়, উন্নয়ন বা ব্যর্থতা নয়; বিবেচ্য বিষয় একটাই—কে করেছে। দিনশেষে সবচেয়ে বড় সত্য হলো, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে শেখ হাসিনাই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছিলেন (২০০১)। অথচ “আপোষহীন নেত্রী” খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা ছাড়াতে হয়েছে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে—দু’বার। এই বাস্তবতার পরও যদি বলা হয়,…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
বিতর্কিত নির্বাচন ও ভোটার অংশগ্রহণ:একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতোই বিএনপি প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন লাভ করতে পারত।রাজনৈতিক বাস্তবতায়,আল্লাহর ইচ্ছায় ক্ষমতার ভারসাম্যও ভিন্ন হতে পারত। বিতর্কিত নির্বাচনের দায় কার? বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন দুটি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।এই দুটি নির্বাচনের দায় শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নয়,বরং আওয়ামী লীগবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তিও এর দায় এড়াতে পারে না।কারণ কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সবাই ব্যর্থ হয়েছে। ভোটার উপস্থিতির বাস্তব চিত্র পরিসংখ্যান বলছে— ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি অথচ বিতর্কমুক্ত নির্বাচনগুলোতে সাধারণত ৬৫–৭৩ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করে থাকেন এই হিসাব অনুযায়ী,দুটি বিতর্কিত নির্বাচনে প্রায় ৩২ শতাংশ ভোটার কার্যত ভোটের বাইরে রয়ে গেছেন,যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর সংকেত। ২০০৮ সালের নির্বাচনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে: আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট বিএনপি পেয়েছিল ৩২ শতাংশ জামায়াতসহ বিএনপি-জোট পেয়েছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট আন্তর্জাতিক জরিপের ইঙ্গিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক IIR (International Institute for Research)-এর একটি জরিপ অনুযায়ী— যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটার উপস্থিতি হয় ৫৬ শতাংশ,তাহলে: জামায়াত পাবে প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট বিএনপি পাবে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট বাকি ৪৪ শতাংশ ভোট যাবে ফ্যাসিবাদী বা অগণতান্ত্রিক শক্তির অনুকূলে সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংকট এই বাস্তবতায়,যদি ৪৪ শতাংশ ভোট এককভাবে বা বিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়,তাহলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।এতে গণতন্ত্র,ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। উপসংহার অংশগ্রহণমূলক,গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। ভোটারদের একটি বড় অংশকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
প্রশ্নের মুখে ডিএমপি ও সরকার তদন্ত না প্রোপাগান্ডা—দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হোন
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশ পুলিশের একটি গুরুতর দাবিকে ভারত সরকার সরকারিভাবে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের শ্যুটাররা ভারতে পালিয়েছে—এই বক্তব্য যেমন নাকচ করা হয়েছে,তেমনি ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত “মেঘালয় পুলিশ কর্তৃক দুই ভারতীয় আটক” সংক্রান্ত দাবিকেও ভারত প্রোপাগান্ডা বলে আখ্যা দিয়েছে। এখানে আর ধোঁয়াশার সুযোগ নেই। প্রশ্ন এখন একটাই— কিসের ভিত্তিতে ডিএমপি সংবাদ সম্মেলন করলো? কাদের দেওয়া স্ক্রিপ্টে এই নাটক? যদি ভারতের বক্তব্য সত্য হয়,তবে ডিএমপি যে সংবাদ সম্মেলন করলো তা কি ছিল— অপেশাদার তদন্তের ফল? নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি? নাকি রাজনৈতিক চাপের ফলশ্রুতি? রাষ্ট্রীয় বাহিনী সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে যাচাইহীন তথ্য দিতে পারে না। এটা ফেসবুক পোস্ট নয়,এটা রাষ্ট্রের অফিসিয়াল বক্তব্য। তদন্তের নামে দায় এড়ানোর খেলা? এই ঘটনায় সরকার কী গেইম খেলছে—তা এখন জনস্বার্থের প্রশ্ন। এটা কি সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা, নাকি জনমতকে অন্যদিকে ঘোরানোর কৌশল? একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যদি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে টেনে এনে মিথ্যা দাবি করা হয়,তবে তা শুধু কূটনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতি নয়— এটা তদন্তকে কলঙ্কিত করার নামান্তর। সাংঘর্ষিক বক্তব্যে জবাবদিহি কার? একদিকে— বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল বক্তব্য অন্যদিকে— ভারত সরকারের সরাসরি ও প্রকাশ্য অস্বীকার এই সাংঘর্ষিক অবস্থানে দায় কার? ডিএমপি কমিশনার? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়? নাকি তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা? ভুল তথ্য দিলে কি কেউ দায় নেবে? নাকি আগের মতো “ভুল বোঝাবুঝি” বলে দায় ঝেড়ে ফেলা হবে? তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ সম্মেলন কেন? রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তথ্য, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে— গুজব,স্ক্রিপ্ট ও প্রোপাগান্ডার ভিত্তিতে নয়। যদি তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়ে থাকে, তবে সেটা— পেশাগত ব্যর্থতা প্রশাসনিক অবহেলা এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা তদন্তের স্বচ্ছতা কোথায়? মিথ্যার উপর রাষ্ট্র টিকে থাকে না। প্রোপাগান্ডায় ন্যায়বিচার আসে না। সত্য লুকোলে ক্ষত গভীর হয়— রাষ্ট্রের আস্থায় বিচার ব্যবস্থায় এবং…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
ভোটার হতে সাত সমুদ্র,ক্ষমতাবানের জন্য রেড কার্পেট-আইনের শাসন কি কেবল কাগুজে স্লোগান?
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।একজন সাধারণ নাগরিক বাংলাদেশে ভোটার হতে গেলে যেন সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হতে হয়। কখনো বলা হয়— সার্ভার ডাউন,কখনো— সময় লাগবে, কখনো— ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না,কখনো— ডাটা মিসিং।মাসের পর মাস,বছরের পর বছর ধরনা দিয়েও ভোটার হওয়া যায় না।রাষ্ট্রের মৌলিক নাগরিক অধিকার যেন এখানে করুণা নির্ভর। অথচ বিস্ময়কর বাস্তবতা হলো—একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা দেশে পা রেখেই ৭ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোটার তালিকাভুক্ত,জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত,সব প্রক্রিয়া শেষ!প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটা কি প্রশাসনিক দক্ষতা,নাকি ক্ষমতার অলিখিত বিশেষ সুবিধা? এটাই কি সংবিধানের চোখে সমতা? এটাই কি আইনের শাসন? সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলছে— আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান।কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি,আইনের এক রূপ সাধারণ মানুষের জন্য,আরেক রূপ ক্ষমতাবানদের জন্য। সাধারণ জনগণের বেলায় কেবল অজুহাত,সময়ক্ষেপণ ও ভোগান্তি; আর ক্ষমতাবানদের বেলায় যেন রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই রেড কার্পেট বিছিয়ে দেয়। তাহলে প্রশ্ন আসে— আইন কি সবার জন্য এক? নাকি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা দরজা,আলাদা লাইন, আলাদা নিয়ম? এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় বারবার প্রমাণিত হয়—এই দেশে জনগণ অনেক সময় টিস্যু পেপারের মতো।প্রয়োজন হলে ব্যবহার,প্রয়োজন শেষ হলে ছুঁড়ে ফেলা। ভোটের সময় জনগণই সার্বভৌম,আর বাকি সময় তারা কেবল ভোগান্তির পরিসংখ্যান। এটাই কি আমরা চেয়েছিলাম? এটাই কি জুলাই আন্দোলনের চেতনা? এটাই কি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন? যদি নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এমন নগ্ন বৈষম্য চলতেই থাকে,তবে গণতন্ত্র,সমতা,জনগণের রাষ্ট্র—এসব শব্দ কেবল পোস্টার,স্লোগান আর বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাস্তবে রাষ্ট্র তখন জনগণের নয়, হয়ে উঠবে একটি বিশেষ শ্রেণির সুবিধাভোগী ক্লাব। বাংলাদেশ বলে কথা—কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই বাংলাদেশ কি সত্যিই জনগণের? নাকি কেবল প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের? এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে,রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা শুধু কমবে না—একদিন পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’—সংবিধান ভেঙে ক্ষমতার ফার্স্ট দখল?
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ শ্লোগানকে যারা রাষ্ট্রচিন্তার নতুন দিগন্ত বলে প্রচার করছেন, তারা হয় সংবিধান পড়েননি,নয়তো পড়েও অস্বীকার করছেন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালিত হয় শ্লোগানে নয়—সংবিধান,আইন ও বৈধতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করে বলছে— > “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” আর ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান বহির্ভূত ক্ষমতা দখল রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। সুতরাং জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া,বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে যদি নির্বাচন হয়—তা শুধু রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়,সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ। একতরফা নির্বাচন: আইন কী বলে? সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ বলছে— > গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি। আর ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ হতে হবে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল। ভোটারবিহীন,অংশগ্রহণহীন নির্বাচন এই অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। Representation of the People Order (RPO), 1972 অনুযায়ী— অবাধ,সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সংকুচিত করা হলে নির্বাচন আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও রাষ্ট্রক্ষমতা তারেক রহমান একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি—এটি কোনো রাজনৈতিক অপবাদ নয়,আদালতের রায়। ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করলে তা Rule of Law-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আরো গুরুত্বপূর্ণ— সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করে। অথচ জামায়াতে ইসলামীর মতো উগ্র ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বলা মানেই সংবিধানের এই মৌলিক নীতিকে পদদলিত করা। জামায়াত প্রশ্ন: আইনের চোখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন,১৯৭৩ অনুযায়ী— যে রাজনৈতিক শক্তি মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত,তাদের পুনর্বাসন শুধু নৈতিক প্রশ্ন নয়—আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। তারেক রহমান যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে ব্যর্থ হন,তাহলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নয়— এটি হবে সংবিধান লাস্ট নীতি। আন্তর্জাতিক বৈধতা ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিতে একটি সরকার তখনই বৈধতা পায় যখন— নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা তন্নীকে আয়কর রিটার্নের নোটিশ: আইন কি সবার জন্য সমান,না দুর্বলের জন্য কঠোর?
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।বরিশাল নগরীর কাশিপুর চৌমাথা এলাকায় ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা পিঠা বিক্রেতা তন্নীকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নোটিশ দিয়েছে বরিশাল কর অঞ্চল। নোটিশে ২২ দিনের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে—ফুটপাতে বসে দৈনিক আয় করা একজন ক্ষুদ্র পিঠা বিক্রেতা কি আদৌ আয়করের আওতায় পড়েন? নাকি এটি প্রশাসনিক অতি-উৎসাহ ও বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তের আরেকটি উদাহরণ? আইনি বিশ্লেষণ: আইন আছে,কিন্তু প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলে কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবতা হলো— ক্ষুদ্র ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল ফুটপাতের বিক্রেতারা সাধারণত করযোগ্য ন্যূনতম আয়ের সীমার মধ্যেই পড়েন না। এমনকি তাদের বেশিরভাগেরই স্থায়ী ঠিকানা, ব্যাংক হিসাব বা হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা নেই। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত বাছাই (reasonable classification) একটি মৌলিক নীতি।প্রশ্ন হলো— 👉 বড় করফাঁকিবাজদের ধরতে না পেরে কেন নজর গিয়ে পড়ে একজন পিঠা বিক্রেতার ওপর? 👉 এটি কি আইনের যথাযথ প্রয়োগ,নাকি ক্ষমতাহীন মানুষের ওপর সহজ টার্গেটিং? আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতি তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যখন আইন প্রয়োগের ভার পড়ে কেবল দুর্বলদের ওপর। সামাজিক বাস্তবতা: জীবিকার সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা তন্নীর মতো মানুষরা সমাজের প্রান্তিক অংশ। তাদের ব্যবসা— টিকে থাকার সংগ্রাম পরিবারের ন্যূনতম খাবারের নিশ্চয়তা কর্মসংস্থানের বিকল্পহীন বাস্তবতা এমন একজন মানুষকে আয়কর নোটিশ দেওয়া মানে কেবল একটি কাগজ পাঠানো নয়; এটি তার মানসিক নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। এই ঘটনা সমাজে একটি ভয়ংকর বার্তা দেয়— “আপনি গরিব হলেও রাষ্ট্র আপনাকে ছাড় দেবে না,কিন্তু প্রভাবশালী হলে নিয়ম নমনীয়।” রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
‘I Have a Plan’ রাজনীতি বনাম সংবিধান: তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তন,নীরবতা,আইনি দায় ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংকট
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।তারেক জিয়া বক্তব্যে হাদীর প্রসঙ্গ তুললেও দীপুর মৃত্যু, ড. ইউনুসের ১৫ মাসের শাসনকাল,বিচারবহির্ভূত সহিংসতা কিংবা সাংবিধানিক সংকট—কোনো বিষয়েই নীরবতা ভাঙেননি।রাজনীতিতে এই নীরবতা নিছক কৌশল নয়; এটি একটি পরিকল্পিত অবস্থান।প্রশ্ন হলো—এই পরিকল্পনা কি সংবিধানসম্মত গণতন্ত্রের জন্য,নাকি ক্ষমতা দখলের পুরোনো ফর্মুলার পুনরাবৃত্তি? ১. সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব: নীরবতাও কি অপরাধ? বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) অনুযায়ী— > “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।” একজন রাজনৈতিক নেতা,যিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যাশা করেন,তার ওপর নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় বর্তায় জনগণের জীবন,নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার। 🔹 দীপুর মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় দায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ (জীবনের অধিকার) অনুযায়ী,রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে সেটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এই বিষয়ে নীরবতা রাজনৈতিক বক্তব্যের অভাব নয়—বরং রাষ্ট্রীয় দায় এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। ২. ১৫ মাসের শাসন ও সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্ন ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থায়— সংসদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নেই পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকার নেই জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট অনুপস্থিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫ ও ৫৬ অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য সংসদের প্রতি জবাবদিহিতা অপরিহার্য। এই প্রশ্নে তারেক জিয়ার সম্পূর্ণ নীরবতা ভবিষ্যৎ শাসনের রূপরেখা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করে। ৩. একতরফা নির্বাচন ও নির্বাচন আইন বিশ্লেষণ ১৯৯৬ বনাম ২০২৬: আইনি সাদৃশ্য Representation of the People Order (RPO) অনুযায়ী— অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে সেটি সাংবিধানিক বৈধতা হারায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বাধ্যতামূলক ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাতিল হয়েছিল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চাপে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য একতরফা নির্বাচনও একই আইনি ঝুঁকিতে। 🔹 অনুচ্ছেদ ১১ — গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা এই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হলে রাষ্ট্রের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ৪. হাওয়া ভবন,দুর্নীতি ও ফৌজদারি দায় তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে— দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক মামলা অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ 🔹 দুর্নীতি দমন…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
❓বেগম খালেদা জিয়া কোথায়—এই প্রশ্ন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।বেগম খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির চেয়ারপার্সন নন—তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী,একটি বড় রাজনৈতিক ধারার প্রতীকী মুখ।তাঁর শারীরিক অবস্থা, অবস্থান ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে জাতির জানার অধিকার আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো— দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জনসম্মুখে নেই কোনো ভিডিও বার্তা,লিখিত বক্তব্য,এমনকি স্বাক্ষরিত রাজনৈতিক নির্দেশনাও দেখা যাচ্ছে না দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তে তাঁর নাম উচ্চারিত হলেও, তাঁর কণ্ঠ অনুপস্থিত এই নীরবতাই সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তারেক রহমানের আগমন,কিন্তু চেয়ারপার্সনের নীরবতা—কেন? তারেক রহমানকে ঘিরে যখন বলা হচ্ছে—“তারেক রহমান আসছে,বাংলাদেশ কাঁপছে”ঠিক তখনই প্রশ্ন জাগে—দলের সর্বোচ্চ নেত্রী কোথায়?কেন তাঁর সুস্থতা বা অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নেই?কেন সবকিছুই “সূত্রের বরাতে”, “পারিবারিক দাবি”, বা “দলীয় ভাষ্য”-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ? একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে এমন অস্বচ্ছতা অস্বাভাবিক। 🧠 প্রতারণা নাকি কৌশলগত নীরবতা? এখানে দুটি আশঙ্কা মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে— জাতিকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে কি? যদি বেগম জিয়া শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ বা রাজনীতিতে অক্ষম হয়ে থাকেন,তাহলে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। অন্যথায় এটি জনগণের সাথে সত্য গোপন করার শামিল। নতুন রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে কি? অনেকে মনে করছেন— বেগম জিয়াকে প্রতীক হিসেবে রেখে বাস্তব নেতৃত্ব ধীরে ধীরে অন্য হাতে সরিয়ে একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে যদি তাই হয়,তবে সেটি জাতির সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা বলেই গণ্য হবে। — 🗣️ গণতন্ত্রে নীরবতা অপরাধের জন্ম দেয় গণতন্ত্রে— প্রশ্ন করা অপরাধ নয় বরং প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া সন্দেহকে গভীর করে বেগম খালেদা জিয়া যদি জীবিত ও সচেতন থাকেন— ➡️ জাতির উদ্দেশে একটি ভিডিও বা লিখিত বার্তাই যথেষ্ট। আর যদি তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকেন— ➡️ সেটিও সত্য ও সম্মানের সঙ্গে জানানো উচিত। ✍️ উপসংহার আজ প্রশ্নটা খুব সরল— > বেগম খালেদা জিয়া কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
নির্বাচনের আগে বিএনপির ‘বৈধতা’ বিতর্ক: আইনি বাস্তবতা কী?
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

**তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের মামলা, খালাস ও নির্বাচনযোগ্যতা আইনের ধারা কী বলছে? আইনজীবীরা কী বলছেন?** মাজহারুল ইসলাম।।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নির্বাচনযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।বিশেষ করে কয়েকটি মামলায় খালাসের পর তাকে ‘সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনযোগ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা আইনগতভাবে কতটা সঠিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংবিধান ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞরা। তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের মামলা: সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন আদালত ও দুদক সূত্র অনুযায়ী— মামলার সংখ্যা ও ধরন মোট মামলা: প্রায় ৩৬টি ধরন: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে মামলা মানি লন্ডারিং অবৈধ সম্পদ অর্জন ক্ষমতার অপব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর অবস্থা (সংক্ষেপে) মামলা নিম্ন আদালতের রায় আপিল/পরবর্তী অবস্থা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ২০১৮ সালে দণ্ড পরবর্তীতে আপিল/পুনর্বিবেচনায় খালাস বা দণ্ড স্থগিত (বিভিন্ন ধাপে) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দণ্ডাদেশ আপিলাধীন/পরবর্তীতে রায় পরিবর্তন মানি লন্ডারিং মামলা সাজাপ্রাপ্ত আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন 👉 গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সব মামলায় একই দিনে খালাস হয়নি এবং সব মামলায় রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহালের স্পষ্ট আদেশ নেই—এটাই আইনি বিতর্কের মূল কেন্দ্র। আইনের ধারা কী বলছে? (নির্বাচনযোগ্যতা) প্রযোজ্য আইন 1. Representation of the People Order (RPO), 1972 2. বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ 3. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ 4. ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) RPO, 1972 – ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী: কোনো ব্যক্তি যদি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হন, তবে দণ্ড ভোগ শেষ হওয়ার ৫ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ: আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আইন দ্বারা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। খালাস মানেই কি সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনযোগ্যতা? আইনজীবীদের মতে—না,বিষয়টি এত সরল নয়। সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া ইসলাম বলেন: > “খালাস…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও ভারতের ‘তিন শর্ত’—বাস্তবতা কতটুকু?
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে একটি দাবি ঘুরছে—ভারতের তিনটি শর্ত মেনে নিয়েই তারেক রহমান দেশে ফিরছেন।তবে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে বাংলাদেশ,ভারত বা বিএনপির পক্ষ থেকে এমন কোনো শর্তের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। ১️⃣ আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা দেওয়ার শর্ত কূটনৈতিক বাস্তবতায় একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা প্রত্যাহার অন্য দেশের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয় না। পালাতক নেতাদের নিরাপত্তা দেওয়া বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনি কাঠামোর বিষয়,ভারতের শর্ত নয়।➡️ তাই এই দাবি রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ২️⃣ ভারতের অনুমতি ছাড়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা যাবে না—এই দাবি বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা ক্রয় সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের অনুমতি সাপেক্ষে নয়। বাস্তবে বাংলাদেশ চীন,তুরস্ক,রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশ থেকেও সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে। ➡️ এই শর্তটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক,তাই বাস্তবসম্মত নয়। ৩️⃣ জামায়াতকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে গণগ্রেফতার কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা করার এখতিয়ার আদালত ও রাষ্ট্রীয় আইনগত প্রক্রিয়ার। ভারত বা অন্য কোনো দেশ এ বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।➡️ এই দাবিটিও আইনগতভাবে দুর্বল। তাহলে এসব দাবি কেন আসছে? নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক উত্তেজনা ভোটব্যাংক মেরুকরণ ভারতবিরোধী আবেগ উসকে দেওয়া প্রতিপক্ষকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে চিত্রিত করার কৌশল এই কৌশলগুলো নতুন নয়—বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। বাস্তব কথা তারেক রহমানের দেশে ফেরা যদি হয়,তা হবে আইনি ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে,কোনো বিদেশি “গোপন শর্তে” নয়—এমনটাই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের দাবি ছড়ালে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়ে। শেষ কথা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে 👉 ঢাকা থেকে, 👉 সংবিধান থেকে, 👉 জনগণের ভোটে— দিল্লি,ওয়াশিংটন বা অন্য কোনো রাজধানীর গুজবে নয়। ধর্মীয় বা আবেগী স্লোগানের চেয়ে…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
হাদীর মৃত্যু: একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য বিশ্লেষণ
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

হাদীর মৃত্যু: একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য বিশ্লেষণ ১. ঘটনাটি কেন সাধারণ অপরাধ নয় হাদীর মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির প্রাণহানি নয়; এটি এমন এক সময়ে ঘটেছে,যখন দেশের রাজনৈতিক মাঠ ধীরে ধীরে নির্বাচনমুখী উত্তেজনায় প্রবেশ করছে।ইতিহাস বলে—নির্বাচনের প্রাক্কালে সংঘটিত সহিংসতা বা আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক ফলাফল প্রভাবিত করার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে মূল প্রশ্ন: এই মৃত্যুর ফলে কার রাজনৈতিক লাভ হচ্ছে? কার অবস্থান দুর্বল হচ্ছে? ২. “লাভ-ক্ষতি” তত্ত্ব: কারা সুবিধাভোগী রাজনৈতিক বিশ্লেষণের একটি মৌলিক সূত্র হলো— যে পক্ষ লাভবান, সন্দেহের কাঁটা সেদিকেই যায়। হাদীর মৃত্যুতে যা ঘটছে: জনমনে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়া দোষারোপের রাজনীতি জোরদার হওয়া যুক্তির জায়গা দখল করছে আবেগ এই পরিস্থিতি সাধারণত স্থিতিশীল রাজনৈতিক শক্তির জন্য ক্ষতিকর, বরং উপকারী হয়— যারা সংঘাত চায় যারা সহানুভূতির রাজনীতি দিয়ে দ্রুত জনসমর্থন বাড়াতে চায় যারা নির্বাচনকে আবেগনির্ভর করতে চায় ৩. আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানো: যুক্তির ঘাটতি যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন উঠছে— হাদী যদি সত্যিই জনপ্রিয় ও জনসমর্থিত নেতা হন, তবে তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অতীতে আরও বড় ও কঠিন রাজনৈতিক বিরোধীরা আওয়ামী আমলে সক্রিয় থেকেছে—অনেকে জীবিত, অনেকেই রাজনীতিতে প্রভাবশালী। তাহলে হাদীকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কৌশলগত লাভ কোথায়? এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর না থাকলে, একতরফা দায় চাপানো রাজনৈতিক প্রচারণা বলেই মনে হয়। ৪. “মাস্টারপ্ল্যান” ও জনমত ব্যবস্থাপনা হাদীর মৃত্যু ঘিরে যে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে— দ্রুত একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জনমতকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা এ ধরনের কৌশল সাধারণত ব্যবহার করে তারা— যারা জনগণের দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা নয়, তাৎক্ষণিক আবেগে বিশ্বাসী যারা নির্বাচনকে নীতির লড়াই নয়, ঘটনার লাশের ওপর দাঁড় করাতে চায়…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
৫ই আগস্ট(২০২৪) পুরোটাই ছিল একটি জঙ্গি অভ্যুত্থান
  • newadminnewadmin
  • ডিসেম্বর ১, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।৫ই আগস্ট (২০২৪ সাল) পুরোটাই ছিল একটি জঙ্গি অভ্যুত্থান।জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর নেতা মাহফুজের সাথে এদের সম্পর্ক,এদের জনসভায় প্রকাশ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মিছিল,জঙ্গি সংগঠন আইসিস ও আইএস এর পতাকা উড়িয়ে মিছিল এসব পূর্বপরিকল্পিত। ২০১৮ সাল থেকেই এই তথাকথিত সমন্বয়করা আন্ডারগ্রাউন্ডে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে সমন্বয় তৈরি করেছিলো।এই সুযোগটা এদের জন্য তৈরি করে দিয়েছিলো বারবার নিষিদ্ধ হওয়া জঙ্গি ও স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াত শিবির।এর নেপথ্যে ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের ঠিকাদার জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান চৌধুরী।শফিকুর রহমান চৌধুরী ইউনূসের সাথে শেখ হাসিনা পতনের আমেরিকার ৫ বিলিয়ন ডলার প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।ইউনূস ও পাকিস্তানি আইএসআই এর সাথে শফিকুর রহমান অনেকবার বৈঠক করেছেন।ইহুদি জর্জ সোরস,ইউনুস ও হিলারির আমেরিকায় যে বৈঠক হয়েছে সেখানেও উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানি আইএসআই এজেন্ট শফিকুর রহমান। শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন তখন নাহিদ ও আসিফ কারো জন্মই হয়নি।১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া নাহিদ ও আসিফের ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল বিএনপি ও জামায়াতের দুঃশাসন বুঝার বয়সও হয়নি।২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেন তখন নাহিদ ও আসিফের বয়স হচ্ছে ১১ বছর।২০১৪ সালে শেখ হাসিনা যখন আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন তখন নাহিদ ও আসিফের বয়স হচ্ছে ১৫ বছর।২০১৪ সালে ” নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে একদল স্কুল ছাত্রকে ব্যাগের ভেতর চাপাতি হাতে রাস্তায় আন্দোলনে দেখেছিলেন?২০১৪ সালে একদল কিশোর গ্যাংকে ইট দিয়ে থেঁতলে পুলিশ হত্যা করতে দেখেছিলেন?বাসে পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ মানুষ পোড়াতে দেখেছিলেন?সেই কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হচ্ছে এই নাহিদ,আসিফ,সার্জিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।কিশোর গ্যাং বলতে লজ্জা হয় তাই নাম পাল্টে রেখেছে জেনজি।পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বা ও জইশ-ই-মুহাম্মদ স্বশস্ত্র সংগঠন দ্বারা এরা ট্রেনিং প্রাপ্ত। ২০১৯ সালের আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্ধকার ছায়াঃ-বিদেশি খেলা, নেতৃত্ব পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র ও তারেকের অসহায়ত্ব
  • newadminnewadmin
  • নভেম্বর ৩০, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও অস্থিরতার ছায়া নেমেছে।শুক্রবার বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র,শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেনঃ- দেশের দুই বড় দল—আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি—এর নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশি শক্তির এক ‘খেলা’ চলছে।এতে বাংলাদেশের সুশীল সমাজও জড়িত,যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার চক্রান্ত। শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেসবুকে এক পোস্টে জানান,তার মায়ের ক্রিটিক্যাল অবস্থায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তার একক নিয়ন্ত্রণে নেই। এই দুই ঘটনা মিলিয়ে যখন ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র ছায়া দেখা দিয়েছে,তখন প্রশ্ন উঠছেঃ-বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে? এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ কি এই ষড়যন্ত্রের ফল ভোগ করবে? সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিযোগঃ-বিদেশি ‘খেলা’ দিয়ে দলীয় নেতৃত্ব ‘শুদ্ধিকরণ’ সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকারে (২৮ নভেম্বর) বর্ণিত চিত্রটি চাঞ্চল্যের মতো।তিনি বলেন,বিদেশি শক্তিগুলো আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য এক ‘সিনিস্টার গেম’ চালাচ্ছে।এতে স্থানীয় সুশীল সমাজের কিছু অংশও যুক্ত,যারা ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বা ‘রিফাইন্ড বিএনপি’র ধারণা প্রচার করে দলগুলোকে ‘ফিল্টার’ করতে চায়। জয় এই বিষয়টিকে ২০০৭-এর ‘১/১১’ যুগের সাথে তুলনা করেন,যখন সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বড় দলের নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। “দুই দলই জনগণের ভোটে গড়া,কিন্তু এখন বাইরের শক্তি নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে চায়। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র,” জয় জানান। তারেকের অসহায়ত্বঃ-ফেরার সিদ্ধান্ত ‘আমার হাতে নেই’ তারেক রহমানের শনিবারের পোস্টটি আরও চিন্তার কারণ। মায়ের (খালেদা জিয়া) চেস্ট ইনফেকশনের কারণে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তিনি লন্ডন থেকে লিখেছেনঃ- “যেকোনো সন্তানের মতো আমি মায়ের পাশে থাকতে চাই, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আমার একক নিয়ন্ত্রণে নেই।” তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে ফেরা সম্ভব হবে। ইন্টারিম গভর্নমেন্টের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন,সরকারের কোনো আপত্তি নেই তারেকের ফেরায়। কিন্তু তারেকের কথায় স্পষ্ট যে,এর…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করে সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে
  • newadminnewadmin
  • অক্টোবর ৩১, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম।।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ‘ , মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘ রয়টার্স ‘ ও ফরাসি সংবাদ মাধ্যম ‘এএফপি ‘ একই দিনে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করে সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।রাজনৈতিক নেতাদের জন্য বিশ্বের জনপ্রিয় সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।সম্রাট জুলিয়াস সিজার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করে জনসমর্থন আদায় করে রোমান সাম্রাজ্যের ডিক্টেটর পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।সম্রাট নেপোলিয়ন একটি সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।এর ফলে তিনি একদিন ফ্রান্সের সম্রাট নির্বাচিত হন। জার্মানির হিটলার একটি সাক্ষাৎকার দিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর পদে অধিষ্ঠিত হয়ে পরবর্তীতে ” ফ্যুয়েরার – এ পরিণত হন। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের মাত্র দশ মাস আগে,১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফ্রান্সের প্যারিসে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন,যা তার জীবনের মোড় ও ইরানের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছিলো।১৯৭৮ সালে ফ্রান্সে পলাতক থাকা অবস্থায় বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন ইরানের ধর্মীয় নেতা খোমেনি।তার মাত্র ৪ মাসের মাথায় তার ভাগ্যর পরিবর্তন ঘটে।১৯৮৮ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কেড়েছিলেন মায়ানমারের অং সান সুচি ।১৯৮৭ সালে লন্ডনে বসে বার্তা সংস্থা এপি ও বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর মায়ানমারের অং সান সুচির ভাগ্য পরিবর্তন হয়।এর চার বছর পর ১৯৯১ সালে সু চি নোবেল পুরস্কার পান। মাত্র কয়েক মাস আগে ভারতের জনপ্রিয় বাংলা সংবাদপত্র যুগশঙ্খে শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। দিল্লির সিনিয়র কুটনৈতিক নয়মিনা বসু মনে করেন।এক সঙ্গে শেখ হাসিনার তিন তিনটি সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলোঃ- ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র না পেলে তা কিছুতেই সম্ভব হতো না।” শেখ হাসিনার অবস্থান ও তার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখছে অমিত শাহ এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,যা জয়শঙ্করের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে করা হচ্ছে।এতে অবশ্যই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবুজ সংকেত আছে। ভারতের জনপ্রিয় মিডিয়া…

Loading

বিস্তারিত পড়ুন

আরও সংবাদ পড়ুন

সংবাদ

মেহেন্দিগঞ্জে ৬টি হাইস্কুলের শিক্ষকদের সনদে জালিয়াতির প্রমাণ, তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ কমিটি
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোংলা বন্দরে এলো ৫৮ হাজার মেট্রিক টন গম
মোংলায় ডিউটিরত অবস্থায় কোস্ট গার্ড সদস্যের গুলিতে মৃত্যু
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের মতো ছাড় চাইল বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ
সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩ অধ্যাদেশ, ৩০ দিনের মধ্যে বিল পাসের চ্যালেঞ্জ
ময়মনসিংহে ডাকাতি হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার
জনসম্মুখে অশালীন আচরণের অভিযোগে রাশিয়ান মডেলকে লিগ্যাল নোটিশ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভাষণ বিতর্ক – সংবিধান, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রপতি ভাষণ বিতর্ক – সংবিধান, আইন ও নৈতিক দায়িত্বের পরীক্ষা
দমন, দ্বৈতমান, এবং সরকারের নীরবতা
জামেয়া আহমদিয়া দায়েম নাজির জামে মসজিদে খতিব, ইমাম ও হাফেজদের সম্মাননা প্রদান
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ নির্বাচনে গণভোট থাকছে না: ইসি
ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় গুণাবলি
সংসদ সদস্যদের মার্জিত ও সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিশ্রুত ঋণ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি খামারি, আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান
নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া পিস্তল ও গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল
১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী
রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের তলায় তেল মালিশ: স্বাস্থ্যে কী উপকার পেতে পারেন
জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা দাবি: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
মেহেন্দিগঞ্জে জুনিয়র বৃত্তিতে সেরা সরকারি পাতারহাট মুসলিম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: বরাদ্দ, সুবিধাভোগী ও বাস্তবতার চিত্র
মামলা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী
হাদির সঙ্গে কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় ২ আসামি গ্রেপ্তার
পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ডিএমপির ডিসিসহ ৪ কর্মকর্তা বদলি
জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত থেকে ডিজেল আসছে, মাসে ১৫ হাজার টন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
শাহবাগে ওষুধ ব্যবসা ঘিরে চাঁদাবাজি     “আমি শ্রাবণ মাসের পাগলা কুত্তার মতো হয়ে গেছি”—তাসকিন গাজী
দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে মানবিক সহায়তার আবেদন গাজীপুরের আহাদুল ইসলামের
অন্তর্বর্তী সরকার ছিল ‘অধ্যাদেশ জারির সরকার’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আইফোন ও টাকার লোভে কলেজছাত্র সিয়ামকে হত্যা, জড়িত চার বন্ধু—দুই কিশোর আটক
জামিন পাইয়ে দিতে ১ কোটি টাকার দাবি: আইসিটি প্রসিকিউটরের অডিও ফাঁস
দিল্লি না ঢাকা—নাকি পিন্ডির ছায়া? বাস্তবতা বনাম স্লোগানের রাজনীতি
মাধবদীতে কিশোরী আমেনা হত্যা: সৎ বাবাসহ ৯ জন গ্রেপ্তার, প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
নেপালের সংসদীয় নির্বাচন সফল হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ
দুদকের মহাপরিচালকের ফোন ও টাকা ছিনতাই: গ্রেফতার দুই আসামি কারাগারে
বাংলাদেশ পুলিশে ৪ হাজার এসআই পদ সৃজনের প্রস্তাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভা মঙ্গলবার
হাদী হত্যাকাণ্ড: তদন্তে নতুন তথ্য, জুমাকে ঘিরে অভিযোগ জোরালো
স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বনাশ: টাঙ্গাইলের মায়াকে নিঃস্ব করে স্বর্ণ ও লাখ টাকা নিয়ে উধাও চীনা প্রেমিক
জুনিয়র নেতারা এমপি-মন্ত্রী, উপেক্ষিত প্রবীণরা—বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা
গাজীপুরের সাবেক কাউন্সিলর শাহীন মোল্লা বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার
মন্ত্রিপরিষদে পাঁচ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নাম সংশোধন
হাদির হত্যাকাণ্ড: শ্যুটার নয়, মূল হুকুমদাতার খোঁজ জরুরি
রাজধানীতে তেলের তীব্র সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
প্রতারণা ও লোভের আঁধারে সমাজ: হানিট্র্যাপের ভয়ঙ্কর বাস্তবতা
ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান মার্কিন সিনেটর টিম কেইনের
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত অন্তত ৩৬
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড: প্রধান আসামিসহ দুইজন ভারতে গ্রেপ্তার, দেশে আনার আশ্বাস আইজিপির
জুলাই আন্দোলন কারও বাপের সম্পত্তি নয়, অপব্যবহারকারীদের তালিকা করা হচ্ছে: আইজিপি
নৌ-পুলিশ প্রধানসহ পুলিশের ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার
ভোট কারচুপির অভিযোগে ৫ আসনের ব্যালট ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
আমব্রেলা ফাউন্ডেশন মাওনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পথচলা: পারিবারিক ইতিহাস, ট্র্যাজেডি ও দীর্ঘ সংগ্রামের প্রেক্ষাপট