চিলির গণভোট ও ‘নো’ সিনেমা: ইতিহাস বদলে দেওয়া ভোট
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সান্তিয়াগো,চিলি: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি দীর্ঘকাল সামরিক শাসনের আওতায় থাকলেও ১৯৮৮ সালের গণভোট দেশটিকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনে।১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সেনা অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দে ক্ষমতা হারান।সেনাপ্রধান জেনারেল অগাস্তো পিনোশে সামরিক সরকার গঠন করেন এবং ডিনা নামের একটি গোয়েন্দা সংস্থা গড়ে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার ও হত্যা করা হয়। পিনোশে ক্ষমতা দখলের পর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকলেও পরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হত্যাকাণ্ডের কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।১৯৭৪ সালে তিনি “শিকাগো বয়েজ” অর্থনীতিবিদদের নিয়ে বাজারমুখী নীতি চালু করেন।কিছু মানুষের উন্নতি হলেও অধিকাংশ চিলিয়ান অর্থনৈতিক কষ্টে দিন কাটাতে থাকে। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক চিলি মন্ত্রী অরল্যান্ডো লেটেলিয়ের নিহত হন,যা আন্তর্জাতিক চাপে চিলি সরকারের জন্য সংকট সৃষ্টি করে। ১৯৮৮ সালের ৫ অক্টোবর চিলিতে অনুষ্ঠিত গণভোট ছিল সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে ফেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।ভোটারদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—‘হ্যাঁ’ ভোটে পিনোশে আরও ৮ বছর ক্ষমতায় থাকবেন,আর ‘না’ ভোটে ১৯৮৯ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিপুল অংশগ্রহণে ভোটাভুটিতে ‘না’ ভোট জয়ী হয়,যা গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। চিলির এই গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘নো’ (২০১২)। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র রেনে সাভেদ্রা বাস্তব না হলেও,তাঁর মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে ‘না’ ভোটের পক্ষে সৃজনশীল প্রচারণা।ছবিতে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকৃত আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে।রেনে প্রচারণার মূল কৌশল ছিল—ভয় নয়,বরং আশা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে ভোটের জন্য প্রভাবিত করা। গণভোটের পর পিনোশে ১৯৯০ সালের ১১ মার্চ প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন।তিনি ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সেনা প্রধান হিসেবে বহাল থাকেন এবং ‘আজীবন সিনেটর’ পদ পান।২০০৬ সালের ১০ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।পিনোশে জীবদ্দশায় মানবাধিকার লঙ্ঘন,গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত থাকলেও কোনো মামলার চূড়ান্ত রায় হয়নি। চিলির ১৯৮৮ সালের…
![]()























































সর্বশেষ সংবাদ :———