অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের রাজধানী তেহরানে সম্প্রতি হওয়া হামলায় অন্তত একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন, জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ মাধ্যমে বলেন,মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। মাও নিং আরও বলেন,“সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।এর সমাধান কেবল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।”
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মুসল্লিদের নামাজ ও তারাবি আদায় করতে দেওয়া হচ্ছে না। মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেছেন,ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক।এর মাধ্যমে দখলদাররা মসজিদে তাদের আধিপত্য চাপানোর চেষ্টা করছে। শায়খ সাবরি আরও জানান,শনিবার থেকে মুসল্লি,শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে; ভেতরে কেবল প্রহরীরা রয়েছেন।তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ বন্ধ রাখার কারণে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সাম্প্রতিক মিলিটারি সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার কারণে অঞ্চলটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সোমবার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।বৈঠকে আলোচনা হবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি,আন্তর্জাতিক আইন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা বিষয়ে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী,নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূত,ফার্স্ট লেডি বা সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিবারের কেউ এটি করতে পারেন না। জাতিসংঘ মুখপাত্র জানিয়েছেন,বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বলা হবে।
কুয়েত থেকে: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশেপাশের এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স ও এএফপি।ঘটনা স্থলে ফায়ার ফাইটার্স ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে,দূতাবাসের এলাকায় কেউ যাওয়া থেকে বিরত থাকুক এবং বাসায় আশ্রয় নিক। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “আপনার বাসস্থানের সবচেয়ে নিচতলায় থাকুন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন। বাইরে যাবেন না।” কুয়েতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করুন এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হামলার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।কুয়েতের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।সোমবার (২ মার্চ) সকালে ইরাক-কুয়েত সীমান্তের কাছাকাছি একটি জনবসতিহীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়,দুর্ঘটনার আগে বিমানটির দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।আল জাজিরার এক সংবাদদাতা জানান,উদ্ধার হওয়া ক্রুদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী।তবে তাদের জাতীয়তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মিডল ইস্ট আই দাবি করেছে,কুয়েতের আকাশে সংঘটিত একটি হামলার প্রেক্ষাপটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রয়টার্স এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানায়,কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। একই সময়ে দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন,চলমান সংঘাত আরও প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।তিনি দাবি করেন, অভিযানে সৌদি আরবও যুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলার পর স্থাপনার একটি অংশে আগুন লাগলেও তা সীমিত পর্যায়ে ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।এর মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলো। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধন ও রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয় এবং সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। বিশাল সংরক্ষণ ট্যাংক,উন্নত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের জন্য বড় বন্দরসহ এই স্থাপনাটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ‘অবিচ্ছিন্ন ও অবিবেচক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’র কঠোর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র,বাহরাইন,জর্ডান,কুয়েত,কাতার,সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়,ইরানের এসব ‘অযৌক্তিক হামলা’ বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।এতে সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশগুলো আরও উল্লেখ করে,তেহরানের পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তুলছে,যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। যৌথ বিবৃতিতে তারা নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে জানায়, সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ব্যাপক হামলার পর দেশটির কর্মকর্তারা সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে লারিজানি বলেন,ইরান এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং আলোচনার বিষয়টি ভিত্তিহীন। বর্তমানে আলী লারিজানি ইরানের প্রভাবশালী সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর বক্তব্যকে দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরান।এ হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অন্তত তিনজন প্রবাসী নিহত এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং আমিরাতভিত্তিক গণমাধ্যম খালিজ টাইমস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়,নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি,একজন পাকিস্তানি এবং একজন নেপালের নাগরিক রয়েছেন। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়।এর মধ্যে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করে।পাশাপাশি ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হানায় হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়,ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইরান থেকে বিপুল সংখ্যক ড্রোনও আমিরাতের দিকে পাঠানো হয়। রাডারে মোট ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়,যার মধ্যে ৫০৬টি আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও আকাশসীমা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট।।সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া শত শত অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট।প্রতিষ্ঠানটি বলছে,দেশে গুজব ও ভুয়া খবরের বিস্তার রোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দিতে তারা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাফ্যাক্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়,রাজনৈতিক উত্তেজনা,সামাজিক অস্থিরতা কিংবা সংবেদনশীল ঘটনার সময় ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে,যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং কখনও কখনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।এ কারণে অনলাইনে প্রচারিত তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। সচেতনতার আহ্বান প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেছে— কোনো ছবি,ভিডিও বা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই এর উৎস যাচাই করতে হবে।পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে খবরটির সত্যতা মিলিয়ে দেখা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক কনটেন্ট থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাফ্যাক্টের মতে,সংঘাতপূর্ণ বা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়গুলোতে গুজব সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়।তাই দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ভুয়া খবর প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিষ্ঠানটি সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ও দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলা শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন,বরং ক্ষমাশীলতা ও মানবতার এক বিশ্বস্বীকৃত প্রতীক। দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবাসের পর ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রতিশোধ নয়,বরং পুনর্মিলন ও সহমর্মিতার রাজনীতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি বিশ্বাস করতেন— নতুন দক্ষিণ আফ্রিকা গড়তে হলে অতীতের ঘৃণা ভুলে যেতে হবে।তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “যখন আমি কারাগারের দরজা দিয়ে স্বাধীনতার দিকে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম,আমি জানতাম যদি আমার তিক্ততা ও ঘৃণা পেছনে ফেলে না আসি,তবে আমি তখনও কারাগারেই বন্দি থাকব।” — আজও বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস। হোটেলের সেই আলোচিত ঘটনা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর একদিন একটি হোটেলে খাবার খেতে গিয়ে ম্যান্ডেলা পাশের টেবিলে বসা এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেন, যিনি ভয়ে কাঁপছিলেন।পরে তিনি তাকে নিজের টেবিলে আমন্ত্রণ জানান।উপস্থিতদের প্রশ্নের জবাবে ম্যান্ডেলা জানান, ওই ব্যক্তি রবেন আইল্যান্ড কারাগারে তার একসময়কার প্রহরী ছিলেন। ম্যান্ডেলার ভাষ্য অনুযায়ী,বন্দি অবস্থায় তিনি পানি চাইলে ওই প্রহরী তাকে অপমান ও অমানবিক আচরণের শিকার করেছিলেন।কিন্তু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রতিশোধ না নিয়ে তিনি উল্টো তাকে সম্মান দিয়ে নিজের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেন। ক্ষমার দর্শন এই ঘটনাকে ম্যান্ডেলার ক্ষমাশীলতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।তিনি বিশ্বাস করতেন,ক্ষমতা অর্জনের পর দুর্বলদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া নয়,বরং মানবিক আচরণই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়। বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর এই দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঘৃণার বদলে ভালোবাসা ও সহনশীলতার মাধ্যমে তিনি একটি বিভক্ত জাতিকে পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে নেন। ‘Long Walk to Freedom’ নিজের আত্মজীবনী Long Walk to Freedom-এ ম্যান্ডেলা সংগ্রাম,কারাবাস এবং স্বাধীনতার দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।বইটি বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব,সাহস ও মানবতার এক ঐতিহাসিক দলিল…
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি যে জানুয়ারির বিক্ষোভে ইরানে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে,তা ভিত্তিহীন এবং প্রমাণহীন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।তিনি বলেন,ইরান সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি নিহতের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রকাশ করেছে। পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেছেন,নিহতদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি শহীদ,যাদের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।তিনি বলেন,বিক্ষোভের নামে ৩৫০টিরও বেশি মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং ৩০০টিরও বেশি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে।শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হওয়া উচিত যৌক্তিক ও অহিংস, স্কুল বা উপাসনালয়ে হামলা নয়। তিনি আরও বলেন,ইরান দীর্ঘকাল ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার, যেখানে প্রায় ২৮ হাজার নগর সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটেছে,এবং ইরান আজও তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকির সম্মুখীন।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বর্তমানে জটিল এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং পেন্টাগনের সতর্ক সামরিক মূল্যায়নের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে তাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ এফ-১৬ পাইলট ও সিআইএ’র সাবেক লিয়াজোঁ কর্মকর্তা কেইন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।ইরানের বিরুদ্ধে হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা আলোচনায় থাকলেও তিনি ঝুঁকি ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। জানা গেছে,পেন্টাগনের নিরাপত্তাবেষ্টিত কনফারেন্স রুম ‘ট্যাংক’-এ নিয়মিত বৈঠকের পরিবর্তে তথ্য ফাঁস এড়াতে কেইন অনেক সময় শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে নিজের অফিসে ডেকে আলোচনা করছেন।সামরিক পরিকল্পনা গোপন রাখাই তার প্রধান অগ্রাধিকার। কেইন তার পূর্বসূরি জেনারেল মার্ক মিলির মতো প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বে না গিয়ে ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছেন।তিনি সরাসরি বিরোধিতা না করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ঝুঁকি,প্রাণহানি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার বিষয়গুলো প্রেসিডেন্টকে ব্যাখ্যা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে কেইনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তাকে “জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।তবে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে শীর্ষ সামরিক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে মাঝে মাঝে মতপার্থক্যের খবরও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে কেইন স্বীকার করেছেন,ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তার ফলাফল আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা কঠিন।ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছে,সেখানে কেইন সম্ভাব্য ‘সেকেন্ডারি ইফেক্ট’ বা দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তুলে ধরছেন। বিশ্লেষকদের মতে,সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।ইরান ইস্যুর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে জেনেভায় শুরু হওয়া কূটনৈতিক আলোচনা এবং জেনারেল কেইনের পরবর্তী সামরিক পরামর্শের ওপর।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ভুবনেশ্বরে ঘুষ নেওয়ার সময় খনি বিভাগের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য ভিজিল্যান্স বিভাগ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তার নাম দেবব্রত মোহান্তি।তিনি কটক সার্কেলের খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।বিশেষ করে কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় তার ওপর নজরদারি শুরু করে ভিজিল্যান্স বিভাগ।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক কয়লা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ভুবনেশ্বরসহ তার তিনটি ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়।তল্লাশির সময় একটি ট্রলিব্যাগ ও আলমারিভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা,তার কাছে আরও অবৈধ অর্থ লুকানো থাকতে পারে।ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর)।সংস্থাটি দাবি করেছে, ইউক্রেনকে পারমাণবিক বোমা অথবা অন্তত একটি ‘ডার্টি বম্ব’ (তেজস্ক্রিয় বোমা) সরবরাহের লক্ষ্যে গোপনে কাজ করছে লন্ডন ও প্যারিস। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসভিআর জানায়,পশ্চিমা এই দুই দেশ মনে করছে— ইউক্রেনের হাতে যদি শক্তিশালী বা ‘অলৌকিক’ কোনো অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া যায়,তাহলে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনায় রাশিয়ার কাছ থেকে কিয়েভ আরও অনুকূল শর্ত আদায় করতে পারবে।এ উদ্দেশ্যে ইউক্রেনকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। রুশ গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী,ইউক্রেনের কাছে পারমাণবিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি গোপনে হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ফ্রান্সের সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত কমপ্যাক্ট ওয়ারহেডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।একই সঙ্গে বলা হয়েছে, জার্মানি এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এসভিআর আরও অভিযোগ করে,পশ্চিমা দেশগুলো চাইছে ইউক্রেনের পারমাণবিক সক্ষমতা এমনভাবে প্রকাশ পাক যেন এটি কিয়েভের নিজস্ব উদ্ভাবন বলে মনে হয়,যাতে আন্তর্জাতিক দায় এড়ানো যায়। রাশিয়ার মতে,এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।এ ঘটনায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিল। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স বা স্বাধীন আন্তর্জাতিক কোনো সূত্র থেকে এ অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: আনাদুলু নিউজ
অনলাইন ডেস্ক।।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দক্ষিণ ইরান ও পারস্য উপসাগরের কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জগুলোতে বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে। আইআরজিসি স্থলবাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে পরিচালিত এই মহড়ায় আধুনিক অস্ত্র,লাইভ-ফায়ার অপারেশন এবং নতুন ‘কম্বাইন্ড ট্যাকটিকস’ বা সম্মিলিত রণকৌশল পরীক্ষা করা হয়েছে।মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতা যাচাই করা। আইআরজিসি নেভি গত সপ্তাহে ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অফ দ্য স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ শীর্ষক বিশেষ নৌ-মহড়া পরিচালনা করেছে,যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন আইআরজিসি কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর। আইআরজিসি জানিয়েছে,মহড়ার মাধ্যমে তাদের নৌ-ইউনিটগুলোর যুদ্ধ প্রস্তুতি,পাল্টা হামলার পরিকল্পনা এবং পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের ভূ-রাজনৈতিক সুবিধার সঠিক ব্যবহার পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি ও হামলার হুমকির মধ্যে এই মহড়া আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের শক্তি ও সতর্কতার বার্তা পাঠাচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে।মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র এই মাস শুরুর ঘোষণা দেয়।এর ফলে সৌদি আরবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রথম রোজা শুরু হচ্ছে। সৌদিভিত্তিক ওয়েবসাইট হারামাইন জানিয়েছে,দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে।তাই মঙ্গলবার রাত থেকেই ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেও একই দিনে চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব দেশেও বুধবার থেকে মুসল্লিরা সিয়াম সাধনা শুরু করবেন। তবে সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশ ওমানে মঙ্গলবার চাঁদ দেখা যায়নি।এ কারণে দেশটিতে প্রথম রোজা শুরু হবে বৃহস্পতিবার।একইভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরেও চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে। এছাড়া মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তান,কাজাখস্তান,উজবেকিস্তান ও আজারবাইজানেও চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এসব দেশে প্রথম রোজা পালিত হবে বৃহস্পতিবার। মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও রমজান শুরুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি ফাঁস এবং তা ঘিরে পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্কে ব্রিটিশ রাজনীতি টালমাটাল।এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।লেবার পার্টির ভেতরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে নীরব আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম। সংকটের সূত্রপাত নিউইয়র্কের কারাগারে ২০১৯ সালে মারা যাওয়া কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে পিটার ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসার পর থেকেই লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়।বিতর্কের জেরে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন।যদিও এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবু সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে,স্টারমারের টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’।এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে। কে এই শাবানা মাহমুদ ৪৫ বছর বয়সী শাবানা মাহমুদ বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক শিকড় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মিরপুর অঞ্চলে।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ব্যারিস্টার হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রথম দিককার মুসলিম নারী এমপিদের একজন ছিলেন শাবানা।২০২৫ সাল থেকে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। কঠোর অভিবাসন নীতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।তিনি স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন।তাঁর ভাষায়,যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস ‘অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ’। এই অবস্থান লেবার পার্টির ভেতরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তিনি মধ্যপন্থী ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন,অন্যদিকে দলের প্রগতিশীল অংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নেতৃত্বের…
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মুর্শিদাবাদ,ভারত – পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় আগামী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাবরি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে।জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন,সকাল ১০টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন হবে।প্রায় ১,২০০ মাওলানা এবং মুফতি হাফেজ কোরআন তেলাওয়াত করবেন। হুমায়ুন কবির বলেন,“আমার জীবন শেষ হয়ে গেলেও মসজিদের নির্মাণ থামাব না।কারো ক্ষমতা নেই বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার।” মসজিদের নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাজ সাজ রব পড়েছে।নির্মাণকাজের পর ১২ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন কবির ‘বাবরি যাত্রা’ শুরু করবেন,যা উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে শেষ হবে। যদিও বিশ্ব হিন্দু রক্ষা কমিটি মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার দিয়ে মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করেছে,হুমায়ুন কবির বলেন,“আমি কোনো হিন্দুর সঙ্গে বিরোধিতা করি না। কিন্তু কেউ মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সংযুক্ত আরব আমিরাতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ৭০ মিলিয়ন দিরহামের একটি বৃহৎ মানবিক কর্মসূচি চালু করেছে দুবাইভিত্তিক দাতব্য সংস্থা বেইত আল খায়ের সোসাইটি।এ কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ রোজাদারের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হবে। সংস্থাটির লক্ষ্য স্বল্প আয়ের পরিবার,জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন থাকা মানুষ এবং সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন।এ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ২০২৬ সালকে ‘পরিবারের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থার মিডিয়া ও জনসংযোগ পরামর্শক খলিফা আল ফালাসি জানান,এবারের রমজান কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক ও সামাজিক চাপে থাকা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি আরও জানান,রমজান বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ২৬.৫ মিলিয়ন দিরহাম বরাদ্দ রাখা হয়েছে জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়া বাসাভাড়া পরিশোধ, বিদ্যুৎ ও পানির বিল,চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যয় এবং উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারানো বা হঠাৎ আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর সহায়তা। রমজানে ইফতার বিতরণের জন্য ‘ইফতার সায়েম’ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৮ মিলিয়ন দিরহাম।দেশজুড়ে ৯৭টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ১৮টি রমজান তাবু থেকে পুরো মাসজুড়ে ইফতার বিতরণ করা হবে।শ্রমিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং জনঘনত্ব বিবেচনায় মাঠপর্যায়ের গবেষণার মাধ্যমে এসব কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও অংশীদারদের মাধ্যমে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া রমজান খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির জন্য ৭ মিলিয়ন দিরহাম,স্বল্প আয়ের আমিরাতি পরিবারগুলোর মাসিক নগদ ও পণ্য সহায়তায় ৭.৬ মিলিয়ন, ঋণগ্রস্তদের সহায়তায় ৬ মিলিয়ন,যাকাতুল ফিতরের জন্য ২.৫ মিলিয়ন এবং ঈদিয়া বিতরণে ১.২ মিলিয়ন দিরহাম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংস্থার কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন,রমজানের পবিত্র সময়ে এই কর্মসূচি মানুষের জীবনে মর্যাদাপূর্ণ ও অর্থবহ সহায়তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: খালিজ টাইমস
সর্বশেষ সংবাদ :———