অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের রাজধানী তেহরানে সম্প্রতি হওয়া হামলায় অন্তত একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন, জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ মাধ্যমে বলেন,মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
মাও নিং আরও বলেন,“সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।এর সমাধান কেবল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।”
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মুসল্লিদের নামাজ ও তারাবি আদায় করতে দেওয়া হচ্ছে না।
মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেছেন,ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক।এর মাধ্যমে দখলদাররা মসজিদে তাদের আধিপত্য চাপানোর চেষ্টা করছে।
শায়খ সাবরি আরও জানান,শনিবার থেকে মুসল্লি,শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে; ভেতরে কেবল প্রহরীরা রয়েছেন।তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ বন্ধ রাখার কারণে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষেতলাল(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি।।জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এক অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।মুন্দাইল গ্রামের আজমাদ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২) অভিযোগ অনুসারে একই গ্রামের এক গৃহবধূর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেন।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী আত্মরক্ষার্থে ধারালো বস্তু ব্যবহার করে নজরুল ইসলামের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।আহত নজরুলকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী মুকুল হোসেন জানিয়েছেন,অভিযুক্তের কাছে আগে থেকে তার স্ত্রীর প্রতি উত্ত্যক্তির ইতিহাস ছিল,কিন্তু সামাজিক সম্মানের কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন,ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সাম্প্রতিক মিলিটারি সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার কারণে অঞ্চলটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সোমবার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।বৈঠকে আলোচনা হবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি,আন্তর্জাতিক আইন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা বিষয়ে।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী,নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূত,ফার্স্ট লেডি বা সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিবারের কেউ এটি করতে পারেন না।
জাতিসংঘ মুখপাত্র জানিয়েছেন,বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বলা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন ও নেতাকর্মীরা উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন খাল,লেক ও নালা পরিষ্কার করেন।প্রায় দুই মাসের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ৫ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার হয়।
পরবর্তীতে খালের কিছু অংশে পুনরায় ময়লা জমলে রবিবার (২ মার্চ) আফাজ উদ্দিন আবারও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেমে পড়েন।স্থানীয়রা তার উদ্যোগকে দায়িত্বশীল ও মানবিক উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে দুই বছরের চুক্তিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে,সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।তবে সংবিধান সংশোধন করে ভবিষ্যতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা যেতে পারে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,সংবিধানে নেই এমন কোনো পদক্ষেপ সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।তিনি বলেন,রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে কেউ প্রস্তাব দিতে পারলেও সবকিছু সাংবিধানিক রীতির মধ্যে হতে হবে।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ সাংবিধানিক কার্যক্রমে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,বিরোধী দল যদি ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবে রাজি হন,তবে প্রথম অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান,ইরাক,কুয়েত,সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন,কাতার ও জর্দান গত শনিবার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।এর ফলে পুরো অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিস্তারিত:
২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার,ফ্লাইদুবাই,এয়ার অ্যারাবিয়া, ইউএস-বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।
১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এয়ারলাইন্সের।
২ মার্চ (এ পর্যন্ত): ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে।
বিমান যাত্রীরা এ নিয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন সংসদ কয়েকদিন পর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য নয়,বরং বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
চিঠিটি সোমবার (২ মার্চ) দেওয়া হয়।এতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে বাধ্য না করার অনুরোধ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে,সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার নির্বাচন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে,অথবা প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব সুবিধামত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুয়েত থেকে: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশেপাশের এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স ও এএফপি।ঘটনা স্থলে ফায়ার ফাইটার্স ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে,দূতাবাসের এলাকায় কেউ যাওয়া থেকে বিরত থাকুক এবং বাসায় আশ্রয় নিক। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “আপনার বাসস্থানের সবচেয়ে নিচতলায় থাকুন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন। বাইরে যাবেন না।”
কুয়েতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করুন এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হামলার জন্য প্রস্তুত থাকুন।”
দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
সৈয়দপুর(নীলফামারী)প্রতিনিধি।।সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঢাকা ব্যাংকের শাখায় আগুন লেগেছে।আগুনের সূত্রপাত এখনও জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা বা গ্রাহক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন।ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার।সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হকের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়,জনগণের জন্য নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।নারীরা যখন নিরাপদ গণপরিবহন পান না,তখন তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই সমস্যা লাঘব করতে ঢাকার রাস্তায় নামানো হবে ইলেকট্রিক বাস,যা নারীদের জন্য বিশেষ এবং চালক হিসেবে নিয়োগ পাবেন নারী।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান,বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে মেট্রোর পাশাপাশি মনোরেল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এটি জনগণের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া দেশের আন্তঃনগর যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ করতে ভবিষ্যতে ‘হাই-স্পিড’ বা উচ্চগতির ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গরুচুরি ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ জানায়,এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে এবং আঃ রব খান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে জানা যায়,চোরচক্রের হোতা মনির হোসেন আকন অভিযোগ করেছেন যে,আটক ব্যক্তির মাধ্যমে চোরেরা স্থানীয় কয়েকজন কথিত নেতার সাথে সমঝোতা করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় সব মিটমাট করার চেষ্টা চালাচ্ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন,পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে চোরচক্রকে সুষ্ঠু আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।কুয়েতের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।সোমবার (২ মার্চ) সকালে ইরাক-কুয়েত সীমান্তের কাছাকাছি একটি জনবসতিহীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়,দুর্ঘটনার আগে বিমানটির দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।আল জাজিরার এক সংবাদদাতা জানান,উদ্ধার হওয়া ক্রুদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী।তবে তাদের জাতীয়তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মিডল ইস্ট আই দাবি করেছে,কুয়েতের আকাশে সংঘটিত একটি হামলার প্রেক্ষাপটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানায়,কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। একই সময়ে দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন,চলমান সংঘাত আরও প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।তিনি দাবি করেন, অভিযানে সৌদি আরবও যুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হামলার পর স্থাপনার একটি অংশে আগুন লাগলেও তা সীমিত পর্যায়ে ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।এর মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলো।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধন ও রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয় এবং সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
বিশাল সংরক্ষণ ট্যাংক,উন্নত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের জন্য বড় বন্দরসহ এই স্থাপনাটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ‘অবিচ্ছিন্ন ও অবিবেচক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’র কঠোর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র,বাহরাইন,জর্ডান,কুয়েত,কাতার,সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়,ইরানের এসব ‘অযৌক্তিক হামলা’ বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।এতে সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশগুলো আরও উল্লেখ করে,তেহরানের পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তুলছে,যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।
যৌথ বিবৃতিতে তারা নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে জানায়, সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ব্যাপক হামলার পর দেশটির কর্মকর্তারা সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে লারিজানি বলেন,ইরান এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং আলোচনার বিষয়টি ভিত্তিহীন।
বর্তমানে আলী লারিজানি ইরানের প্রভাবশালী সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর বক্তব্যকে দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১, কুড়িগ্রাম-২, রংপুর-৬ ও রংপুর-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপির চার প্রার্থী।
সোমবার (২ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনকারী প্রার্থীরা হলেন—
কুড়িগ্রাম-২ আসনে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ,
রংপুর-৬ আসনে মো. সাইফুল ইসলাম,
রংপুর-৪ আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা এবং
রাজশাহী-১ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন।
এর আগে রোববার পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ডি এম ডি জিয়াউরের পৃথক আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ মাসে একটি গোষ্ঠী,বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে ভয়াবহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারাও নজিরবিহীনভাবে নাজেহালের শিকার হয়েছেন।
এই নৈরাজ্য মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য প্রাণ হারানোর দাবি উঠে,এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীও বিভিন্ন হুমকির মুখে পড়ে।ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে বিএনপি সর্বাধিক আসন লাভ করে সরকার গঠন করেছে।নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। সরকার গঠনের আগে ও পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান সামনে এনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।তবে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো স্পষ্ট নয় বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে এবং বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার হবে?
রাজনৈতিক অস্থিরতা,নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা,কথিত ভুয়া মামলা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায় এবং সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়িত্ব পালনকালে হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার কারণে অনেক সদস্য এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর মধ্যে সরকার গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।নবনিযুক্ত আইজিপির কাছে প্রত্যাশা—তিনি মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ,কারণ যে কোনো সরকারের ভাবমূর্তি ও জননিরাপত্তা অনেকাংশেই পুলিশের কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান শর্ত। নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ,অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা,আবাসন সুবিধা,পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানো হলে সদস্যদের কর্মদক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি পাবে।
পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (PRB) ও ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।অতীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ থানার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখত এবং অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতো।সেই সংস্কৃতি পুনরায় চালু করা জরুরি।
পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন,বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশ সদস্যদের হত্যাসহ সকল সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই—এটাই হতে পারে স্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার একমাত্র পথ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশিত হয়।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি এ নীতিমালা প্রণয়ন করে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক।
গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো
নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদের অন্যান্য জনবলের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাড়াভিত্তিক মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত বেতন কাঠামো হলো—
পদ
গ্রেড
বেতন স্কেল (টাকা)
সিনিয়র পেশ ইমাম
৫ম গ্রেড
৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০
পেশ ইমাম
৬ষ্ঠ গ্রেড
৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০
ইমাম
৯ম গ্রেড
২২,০০০ – ৫৩,০৬০
প্রধান মুয়াজ্জিন
১০ম গ্রেড
১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০
মুয়াজ্জিন
১১তম গ্রেড
১২,৫০০ – ৩০,২৩০
প্রধান খাদিম
১৫তম গ্রেড
৯,৭০০ – ২৩,৪৯০
খাদিম
১৬তম গ্রেড
৯,৩০০ – ২২,৪৯০
আবাসন, সঞ্চয় ও অবসর সুবিধা
নীতিমালায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাসিক সঞ্চয়, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদান এবং কল্যাণমূলক সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।
ছুটি ও নিয়োগ ব্যবস্থা
প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি
বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি
প্রতি ১২ কর্মদিবসে ১ দিন অর্জিত ছুটি
নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে এবং তাদের সুপারিশ ছাড়া কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন পদ ও অন্যান্য নির্দেশনা
নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে, তবে আয়-আয়তন অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।
নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তা নিষ্পত্তি করবে। নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় খতিব পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা শামীম মজুমদার বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় আলেম সমাজ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন,২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতির নৈতিক দায়িত্ব।তিনি সতর্ক করে বলেন,ইতিহাসে এই ঘটনাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতিকে ক্ষমা করবে না। বুধবার জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্য নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন,২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়,যার ক্ষত আজও বহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন,দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করা হবে।তিনি জানান,সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা ট্র্যাজেডির স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন,ওই ঘটনায় ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান।প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার করুণ ইতিহাস বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,গত ১৭ বছরে শহীদ পরিবারগুলোর বিচারপ্রাপ্তির সংগ্রাম ও ত্যাগ তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি আরও বলেন,সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত।মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ইপিআর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাহিনীটির আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রয়াস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ ঘটনা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছিল।তাই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করা হবে। এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা,চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক…
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ।দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই শত শত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন,অভিযোগ জমার হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং এ সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।অধিকাংশ অভিযোগ নাম প্রকাশ না করে জমা দেওয়া হলেও কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারীরা নাম-পরিচয়সহ লিখিত আবেদন করেছেন। দুদক সূত্র জানায়,অন্যান্য অভিযোগ যেভাবে যাচাই করা হয়, এসব অভিযোগও একই নিয়মে যাচাই-বাছাই করা হবে।যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে,সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।তার বিরুদ্ধে জমা দেওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম,ট্রাস্ট গঠন,আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু অভিযোগে দাবি করা হয়েছে,একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনাও ঘটেছে।তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাইাধীন বলে জানিয়েছে দুদক। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে ঘিরে অভিযোগ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।অভিযোগগুলোর মধ্যে মামলা বাণিজ্য,জামিন বাণিজ্য,বিচারক পদায়ন এবং বদলি বাণিজ্যের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে,অর্থের বিনিময়ে জামিন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পদায়ন ও বদলিতে অনিয়ম হয়েছে।অভিযোগকারীরা কিছু ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করেছেন বলেও দুদক সূত্র জানিয়েছে। পরিবেশ,জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের অভিযোগ পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জমা হয়েছে।এছাড়া সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে।একটি অভিযোগে তার স্বামীর সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও তদন্তের…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।অভিযোগে বলা হয়েছে,বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র,সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং আজারবাইজানে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি,হুন্ডি,ওভার-ইনভয়েসিং এবং কথিত শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু প্রকল্পে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দুদক সূত্র জানায়,জমা পড়া অভিযোগগুলো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো তথ্য পাওয়া গেলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সরকারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি জনমনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করতে হবে বলে তারা মনে করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাস চলাকালে আইনজীবীদের একাংশের হট্টগোল,ভাঙচুর ও বিচারকের প্রতি অসদাচরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত” উল্লেখ করে বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে বিচার কার্যক্রম চলাকালে একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে বিশৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়,আদালতের ভেতরে বেঞ্চসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়।পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস মূলতবি ঘোষণা করে খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন।এতে আদালতের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালতের অভ্যন্তর ও বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশও করেন। আদালত অবমাননার রুল ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসার পর দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪ ও ৫ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের আইনের শাসনের অন্যতম ভিত্তি।আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।কুমিল্লা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের এবার নির্বাচিত হয়ে নতুন মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে প্রায় চারগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি বিশাল জয় অর্জন করেছেন। জাকারিয়া তাহের বাংলাদেশের অন্যতম ধনী মন্ত্রী।হলফনামা অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকা।তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক এবং কুমিল্লার বরুড়ায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের জন্য জনপ্রিয়। দলের গুলশান কার্যালয়,যা বিএনপির নীতি নির্ধারণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত,মূলত জাকারিয়া তাহেরের মালিকানাধীন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি এই বাড়িটি বিএনপির ব্যবহারের জন্য প্রদান করেছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর জাকারিয়া তাহের আশা প্রকাশ করেছেন, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষের মন জয় করবেন।
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভাতিজা বউকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ‘বনোফুল’ নামের একটি আইডি থেকে বিষয়টি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন,এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন,তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নিশ্বাপলাশবাড়ী গ্রামের সাবেক এমপি আজিজুল হক চৌধুরীর বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে ইকবাল হোসেন প্রবেশ করেন। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি বলে দাবি করেন কয়েকজন এলাকাবাসী। এদিকে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইকবাল হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।তার প্রতিষ্ঠিত পলাশবাড়ী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা জানান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে,অভিযোগের বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে অবহিত করা হয়েছে।এ বিষয়ে সম্ভাব্য সাংগঠনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির সংসদীয় আসন–৬ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, “আগামী দলীয় সভায় বিষয়টি এজেন্ডায় আনা হবে।” ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ভুবনেশ্বরে ঘুষ নেওয়ার সময় খনি বিভাগের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য ভিজিল্যান্স বিভাগ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তার নাম দেবব্রত মোহান্তি।তিনি কটক সার্কেলের খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।বিশেষ করে কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় তার ওপর নজরদারি শুরু করে ভিজিল্যান্স বিভাগ।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক কয়লা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ভুবনেশ্বরসহ তার তিনটি ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়।তল্লাশির সময় একটি ট্রলিব্যাগ ও আলমারিভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা,তার কাছে আরও অবৈধ অর্থ লুকানো থাকতে পারে।ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী— জনাব হাবিবুর রশিদ,এমপি — সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। জনাব মোঃ রাজিব আহসান,এমপি — রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়,বর্ণিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষরিত এ আদেশের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দেশের সড়ক,রেল ও নৌ যোগাযোগ খাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। দীর্ঘ সময়ব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার।আঞ্চলিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে আগ্রহী।তিনি আশা প্রকাশ করেন,চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে দেশের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন।তিনি জানান, স্থিতিশীল পরিবেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বিনিয়োগের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিদেশি নাগরিক ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া বৈঠকে সাইবার অপরাধ দমনে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল এলায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।
মাজহারুল ইসলাম।।বরিশাল আদালতে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মর্যাদা,আদালতের কর্তৃত্ব এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ।আদালতের এজলাস—যেখানে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের প্রতীক দাঁড়িয়ে থাকে—সেই স্থানেই যদি ভাঙচুর,হুমকি,বিচারককে অপমান এবং বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠে,তবে সেটি নিছক বিশৃঙ্খলা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত। আইনি দৃষ্টিকোণ: অভিযোগের গুরুত্ব কতটা গুরুতর মামলায় যে ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে—দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৬,১৮৯,১৯০,২২৮ ও ৩৫৩—এসব কোনো সাধারণ ধারা নয়। ধারা ১৮৬: সরকারি কাজে বাধা প্রদান ধারা ২২৮: আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বিচারকের অবমাননা ধারা ৩৫৩: সরকারি কর্মচারীর ওপর আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ দ্রুত বিচার আইন: জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রণীত অর্থাৎ অভিযোগের সারবস্তু যদি সত্য প্রমাণিত হয়,তাহলে এটি শুধু আদালত অবমাননা নয়,বরং বিচারব্যবস্থাকে জোরপূর্বক অচল করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করেছে।আদালতের ভেতরে শক্তি প্রদর্শন বা বিচারককে এজলাস ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সেই সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আইনজীবীদের ভূমিকা: অধিকার না অরাজকতা? আইনজীবীরা আদালতের “অফিসার অব দ্য কোর্ট” — অর্থাৎ তারা বিচারপ্রক্রিয়ার অংশীদার,প্রতিপক্ষ নয়।আদালত বর্জন, প্রতিবাদ বা আন্দোলন আইনজীবীদের সাংগঠনিক অধিকার হতে পারে; কিন্তু এজলাসে ঢুকে শুনানি বন্ধ করা,অন্য আইনজীবীকে বাধা দেওয়া বা বিচারককে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক আচরণ কোনোভাবেই পেশাগত স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না। যদি অভিযোগ সত্য হয়,তাহলে এটি পেশাগত নৈতিকতার ভয়াবহ অবক্ষয়।কারণ আইনজীবী যখন আইন ভাঙেন,তখন সাধারণ নাগরিকের কাছে আইনের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়ে। বিচার বিভাগের মর্যাদা বনাম প্রভাবের রাজনীতি বাংলাদেশে বহুদিন ধরেই একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা দেখা যায়—কিছু ক্ষেত্রে বার রাজনীতি আদালতের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।কিন্তু আদালত কখনোই…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালে আদালত কক্ষে ভাঙচুর, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা এফআইআর নং–৪৬ (তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী,দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।মামলাটি জিআর নং–১০৫/২০২৬ হিসেবে আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে,গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে কয়েকজন আইনজীবী আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন এবং বিচারকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর বক্তব্য ও স্লোগান দেন। পরবর্তীতে দুপুরে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।এ সময় আদালত কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শুনানিতে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের বের হয়ে যেতে চাপ দেওয়া হয়। মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়,এক পর্যায়ে আদালতের আসবাবপত্র ভাঙচুর,মাইক্রোফোন নষ্ট,নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। বিচারককে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়,২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সহায়তায় জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম মো. নাসিম হোসেন আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলেন,আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা একটি “বিশেষ নির্দেশনা” প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান,পিপিএম (বার), পিএইচডি স্বাক্ষরিত স্মারকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 📌 নির্দেশনার মূল বিষয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে,নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত “ফ্যাসিস্ট সংগঠন”-এর যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় সংগঠন শক্তিশালী বা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় হতে পারেন, তাদের জামিনের পর অন্য মামলায় “শ্যোন-অ্যারেস্ট” (Shown Arrest) দেখাতে হবে। তবে যাদের এ ধরনের সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত এমন ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া প্রটোকল ও নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ⚖️ আইনি বিশ্লেষণ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “Shown Arrest” বাংলাদেশে প্রচলিত একটি প্রক্রিয়া হলেও এটি অবশ্যই ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ও সংবিধানসম্মত হতে হবে। আদালত জামিন দিলে পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে যথাযথ মামলা,তদন্ত ও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সম্ভাব্য কার্যক্রমের আশঙ্কার ভিত্তিতে গ্রেফতার হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের আশ্রয়ের অধিকার নিশ্চিত করে। আইনজীবীদের একটি অংশ বলছেন, এ ধরনের নির্দেশনা অপব্যবহার হলে তা “preventive detention” বা প্রতিরোধমূলক আটক হিসেবে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। 🏛️ সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী— আদালতের আদেশ কার্যকর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে কিনা— সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্রশাসনিক নির্দেশনা যেন বিচারিক সিদ্ধান্তকে কার্যত অকার্যকর না করে,সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 🧭 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিতে পারে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহল এমন নির্দেশনাকে রাজনৈতিক…
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাণ্ড আমাদের বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নৈতিক মাপকাঠি পরীক্ষা করেছে।এ ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার নয়; এটি প্রমাণ করে যে,যখন ক্ষমতা অবাধে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়,তখন আইন,ন্যায় ও মানবাধিকার নিপীড়িত হয়। আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,ট্রাইব্যুনাল কেবল ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও,তাজুল ইসলামের অধীনে এটি ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছে।বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তি সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।এর ফলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,সেনা সদস্য এবং ব্যবসায়ী সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে,যা সামাজিক আস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য বড় ধাক্কা। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ভিন্ন নয়।অভিযোগ অনুসারে,তাজুল ইসলাম জামাত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।এটি প্রমাণ করে,বিচারব্যবস্থা কেবল আইন প্রয়োগের জায়গা নয়, রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের লেনদেনের ক্ষেত্রেও রূপ নিতে পারে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও মারাত্মক।অভিযোগ অনুযায়ী,দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক এবং বিদেশে কোটি কোটি টাকা হাতানো হয়েছে।এর ফলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, এবং বিচারকে মানুষের ন্যায়বিচারের আশার প্রতীক হিসেবে দেখা থেকে বিরত করেছে। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য স্পষ্ট মেসেজ হলো—ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধুমাত্র আইন নয়, নৈতিকতা,স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা অপরিহার্য।ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হলে,জনগণের আস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন চীফ প্রসিকিউটরের এই ধরনের আচরণ আমাদের শিক্ষণীয় বার্তা দেয়—ক্ষমতার অপব্যবহার যদি দমন না করা হয়,তা সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে।এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ তদন্ত,স্বচ্ছ বিচার এবং দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার,যাতে ভবিষ্যতের জন্য বিচারব্যবস্থা পুনরায় আস্থার প্রতীক হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত আদালতের (আইসিটি) চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে,তাজুল বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি,চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,তাজুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন।২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পূনর্গঠিত আইসিটির চীফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর,তিনি তার ঘনিষ্ঠদের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন,যারা জামাত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী,তারা ট্রাইব্যুনালের সুযোগ নিয়ে লোক দেখানো বিচার চালিয়েছেন এবং লেনদেন ও দুর্নীতিতে মিশে গিয়েছেন। আইনি প্রেক্ষাপট আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল একটি স্বাধীন বিচার প্রতিষ্ঠান।তবে তাজুল ইসলামের কার্যক্রম অনুযায়ী,এটি ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছেছে,যেখানে বিচার কেবল ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হয়েছে।এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ,যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন করে। সামাজিক প্রভাব তাজুল ইসলামের কার্যক্রম সমাজের আস্থা ক্ষুণ্ণ করেছে।বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হয়েছে। জনসাধারণ মনে করছে,ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা অর্জনের একটি শক্তিশালী রীতিনীতি গড়ে উঠেছে। সরকারের কর্মকর্তা,সেনা সদস্য ও ব্যবসায়ীরাও এই প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রাজনীতিকভাবে এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি বড় নজির। অভিযোগ অনুসারে,তাজুল ইসলাম জামাত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-সদস্যরা প্রভাবিত ও হয়রানির শিকার হয়েছে। অর্থনৈতিক ও দুর্নীতির প্রভাব সূত্রের দাবি,তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে লেনদেনের বড় অংশ ক্যাশে এবং বিদেশে হয়েছে।২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ২১ দিনের সফর করেন, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী বৃহৎ আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক একাউন্টেও কোটি কোটি টাকা জমা হয়। ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,এই…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন,মশার যন্ত্রণায় নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়ার জন্য সরকার তৎপর।তিনি রাজধানীর ধলপুর এলাকায় মশক নিধন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন।ওষুধের কার্যকারিতা না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাগরিকদেরও এই কার্যক্রমে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন,ডেঙ্গু মোকাবিলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের কামারহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ‘আলিফ স্টোর’-এ গ্যাস চুলা মেরামতের সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পাশের দোকানগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।এতে কাপড়ের দোকান, মুদিদোকান ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানসহ মোট ১০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে,প্রাথমিকভাবে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সদ্য অপসারিত চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে।অভিযোগে বলা হয়েছে,তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিচার প্রক্রিয়াকে ‘মামলা-বাণিজ্য’ এবং চাঁদাবাজির হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন।মামলার নামে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সিন্ডিকেটের গঠন ও কর্মকাণ্ড তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান।অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজ ঘনিষ্ঠ ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীদের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপরই শুরু হয় ‘মামলা-বাণিজ্য’: মামলা থেকে নাম বাদ বা নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার আশ্বাসের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়া। টার্গেট ছিলেন ব্যবসায়ী,আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হতো বা অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। ক্যাশিয়ার তামিম ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সিন্ডিকেটের অন্যতম ‘মূল ক্যাশিয়ার’ ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম।অভিযোগ,তিনি নগদ লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন।দুর্নীতির খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদের মাধ্যমে তবে সূত্র বলছে,এটি মূলত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে,সিন্ডিকেটটি শুধু নগদ অর্থই নয়, সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করেছিল। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে: ১. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড (আইবিবি মিরপুর) অ্যাকাউন্ট নাম: মো. আবুল হোসেন অ্যাকাউন্ট নং: ৩১৩৩২১৭০০৭৫২৮ জমার তথ্য: ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ১০ লাখ টাকা, ২৭ নভেম্বর আরও ১০ লাখ টাকা। ২. যমুনা ব্যাংক (মতিঝিল) অ্যাকাউন্ট নাম: মো. সাইফুল ইসলাম অ্যাকাউন্ট নং: ১১০১০০৬৬৬৭৬৮৮ জমার তথ্য: ২৭ নভেম্বর ১ লাখ ২৭ হাজার, ১ লাখ ৮৪ হাজার এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। ৩. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (গুলশান)…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও দেশের বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের কাছে চলতি বছরের ফিতরার হার ঘোষণা করেন। জানা গেছে,ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গম,যব,খেজুর,কিসমিস ও পনিরের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী মুসলমানরা সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ যেকোনো হার অনুযায়ী সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। উল্লেখ্য,গত বছর (১৪৪৬ হিজরি/২০২৫ সালেও) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন,২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআরের চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।তিনি এ ঘটনাকে জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,ওইদিন বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল।৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের জনগণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন,নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।অতীতের মতো দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পটুয়াখালীর বাউফলে এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক যুবকের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. রাব্বি সিকদার। তার বাবা নিজাম সিকদারকে অপহরণ মামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের বাড়ি বাউফল উপজেলার দিপাশা ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। অপহৃত তরুণীর নাম ইসরাত জাহান মারিয়া।তিনি বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবা হুমায়ুন কবির। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের বাবাকে গ্রেপ্তার করে।এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ সংবাদ :———