অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের রাজধানী তেহরানে সম্প্রতি হওয়া হামলায় অন্তত একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন, জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ মাধ্যমে বলেন,মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
মাও নিং আরও বলেন,“সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।এর সমাধান কেবল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।”
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মুসল্লিদের নামাজ ও তারাবি আদায় করতে দেওয়া হচ্ছে না।
মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেছেন,ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক।এর মাধ্যমে দখলদাররা মসজিদে তাদের আধিপত্য চাপানোর চেষ্টা করছে।
শায়খ সাবরি আরও জানান,শনিবার থেকে মুসল্লি,শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে; ভেতরে কেবল প্রহরীরা রয়েছেন।তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ বন্ধ রাখার কারণে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষেতলাল(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি।।জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এক অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।মুন্দাইল গ্রামের আজমাদ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২) অভিযোগ অনুসারে একই গ্রামের এক গৃহবধূর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেন।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী আত্মরক্ষার্থে ধারালো বস্তু ব্যবহার করে নজরুল ইসলামের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।আহত নজরুলকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী মুকুল হোসেন জানিয়েছেন,অভিযুক্তের কাছে আগে থেকে তার স্ত্রীর প্রতি উত্ত্যক্তির ইতিহাস ছিল,কিন্তু সামাজিক সম্মানের কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন,ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সাম্প্রতিক মিলিটারি সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার কারণে অঞ্চলটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সোমবার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।বৈঠকে আলোচনা হবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি,আন্তর্জাতিক আইন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা বিষয়ে।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী,নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূত,ফার্স্ট লেডি বা সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিবারের কেউ এটি করতে পারেন না।
জাতিসংঘ মুখপাত্র জানিয়েছেন,বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বলা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন ও নেতাকর্মীরা উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন খাল,লেক ও নালা পরিষ্কার করেন।প্রায় দুই মাসের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ৫ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার হয়।
পরবর্তীতে খালের কিছু অংশে পুনরায় ময়লা জমলে রবিবার (২ মার্চ) আফাজ উদ্দিন আবারও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেমে পড়েন।স্থানীয়রা তার উদ্যোগকে দায়িত্বশীল ও মানবিক উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে দুই বছরের চুক্তিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে,সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।তবে সংবিধান সংশোধন করে ভবিষ্যতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা যেতে পারে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,সংবিধানে নেই এমন কোনো পদক্ষেপ সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।তিনি বলেন,রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে কেউ প্রস্তাব দিতে পারলেও সবকিছু সাংবিধানিক রীতির মধ্যে হতে হবে।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ সাংবিধানিক কার্যক্রমে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,বিরোধী দল যদি ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবে রাজি হন,তবে প্রথম অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান,ইরাক,কুয়েত,সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন,কাতার ও জর্দান গত শনিবার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।এর ফলে পুরো অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিস্তারিত:
২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার,ফ্লাইদুবাই,এয়ার অ্যারাবিয়া, ইউএস-বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।
১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এয়ারলাইন্সের।
২ মার্চ (এ পর্যন্ত): ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে।
বিমান যাত্রীরা এ নিয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন সংসদ কয়েকদিন পর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য নয়,বরং বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
চিঠিটি সোমবার (২ মার্চ) দেওয়া হয়।এতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে বাধ্য না করার অনুরোধ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে,সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার নির্বাচন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে,অথবা প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব সুবিধামত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুয়েত থেকে: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশেপাশের এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স ও এএফপি।ঘটনা স্থলে ফায়ার ফাইটার্স ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে,দূতাবাসের এলাকায় কেউ যাওয়া থেকে বিরত থাকুক এবং বাসায় আশ্রয় নিক। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “আপনার বাসস্থানের সবচেয়ে নিচতলায় থাকুন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন। বাইরে যাবেন না।”
কুয়েতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করুন এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হামলার জন্য প্রস্তুত থাকুন।”
দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
সৈয়দপুর(নীলফামারী)প্রতিনিধি।।সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঢাকা ব্যাংকের শাখায় আগুন লেগেছে।আগুনের সূত্রপাত এখনও জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা বা গ্রাহক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন।ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার।সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হকের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়,জনগণের জন্য নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।নারীরা যখন নিরাপদ গণপরিবহন পান না,তখন তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই সমস্যা লাঘব করতে ঢাকার রাস্তায় নামানো হবে ইলেকট্রিক বাস,যা নারীদের জন্য বিশেষ এবং চালক হিসেবে নিয়োগ পাবেন নারী।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান,বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে মেট্রোর পাশাপাশি মনোরেল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এটি জনগণের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া দেশের আন্তঃনগর যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ করতে ভবিষ্যতে ‘হাই-স্পিড’ বা উচ্চগতির ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গরুচুরি ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ জানায়,এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে এবং আঃ রব খান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে জানা যায়,চোরচক্রের হোতা মনির হোসেন আকন অভিযোগ করেছেন যে,আটক ব্যক্তির মাধ্যমে চোরেরা স্থানীয় কয়েকজন কথিত নেতার সাথে সমঝোতা করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় সব মিটমাট করার চেষ্টা চালাচ্ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন,পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে চোরচক্রকে সুষ্ঠু আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।কুয়েতের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।সোমবার (২ মার্চ) সকালে ইরাক-কুয়েত সীমান্তের কাছাকাছি একটি জনবসতিহীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়,দুর্ঘটনার আগে বিমানটির দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।আল জাজিরার এক সংবাদদাতা জানান,উদ্ধার হওয়া ক্রুদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী।তবে তাদের জাতীয়তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মিডল ইস্ট আই দাবি করেছে,কুয়েতের আকাশে সংঘটিত একটি হামলার প্রেক্ষাপটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানায়,কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। একই সময়ে দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন,চলমান সংঘাত আরও প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।তিনি দাবি করেন, অভিযানে সৌদি আরবও যুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হামলার পর স্থাপনার একটি অংশে আগুন লাগলেও তা সীমিত পর্যায়ে ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।এর মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলো।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধন ও রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয় এবং সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
বিশাল সংরক্ষণ ট্যাংক,উন্নত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের জন্য বড় বন্দরসহ এই স্থাপনাটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ‘অবিচ্ছিন্ন ও অবিবেচক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’র কঠোর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র,বাহরাইন,জর্ডান,কুয়েত,কাতার,সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়,ইরানের এসব ‘অযৌক্তিক হামলা’ বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।এতে সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশগুলো আরও উল্লেখ করে,তেহরানের পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তুলছে,যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।
যৌথ বিবৃতিতে তারা নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে জানায়, সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ব্যাপক হামলার পর দেশটির কর্মকর্তারা সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে লারিজানি বলেন,ইরান এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং আলোচনার বিষয়টি ভিত্তিহীন।
বর্তমানে আলী লারিজানি ইরানের প্রভাবশালী সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর বক্তব্যকে দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১, কুড়িগ্রাম-২, রংপুর-৬ ও রংপুর-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপির চার প্রার্থী।
সোমবার (২ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনকারী প্রার্থীরা হলেন—
কুড়িগ্রাম-২ আসনে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ,
রংপুর-৬ আসনে মো. সাইফুল ইসলাম,
রংপুর-৪ আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা এবং
রাজশাহী-১ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন।
এর আগে রোববার পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ডি এম ডি জিয়াউরের পৃথক আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ মাসে একটি গোষ্ঠী,বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে ভয়াবহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারাও নজিরবিহীনভাবে নাজেহালের শিকার হয়েছেন।
এই নৈরাজ্য মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য প্রাণ হারানোর দাবি উঠে,এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীও বিভিন্ন হুমকির মুখে পড়ে।ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে বিএনপি সর্বাধিক আসন লাভ করে সরকার গঠন করেছে।নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। সরকার গঠনের আগে ও পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান সামনে এনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।তবে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো স্পষ্ট নয় বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে এবং বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার হবে?
রাজনৈতিক অস্থিরতা,নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা,কথিত ভুয়া মামলা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায় এবং সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়িত্ব পালনকালে হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার কারণে অনেক সদস্য এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর মধ্যে সরকার গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।নবনিযুক্ত আইজিপির কাছে প্রত্যাশা—তিনি মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ,কারণ যে কোনো সরকারের ভাবমূর্তি ও জননিরাপত্তা অনেকাংশেই পুলিশের কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান শর্ত। নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ,অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা,আবাসন সুবিধা,পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানো হলে সদস্যদের কর্মদক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি পাবে।
পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (PRB) ও ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।অতীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ থানার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখত এবং অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতো।সেই সংস্কৃতি পুনরায় চালু করা জরুরি।
পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন,বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশ সদস্যদের হত্যাসহ সকল সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই—এটাই হতে পারে স্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার একমাত্র পথ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশিত হয়।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি এ নীতিমালা প্রণয়ন করে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক।
গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো
নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদের অন্যান্য জনবলের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাড়াভিত্তিক মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত বেতন কাঠামো হলো—
পদ
গ্রেড
বেতন স্কেল (টাকা)
সিনিয়র পেশ ইমাম
৫ম গ্রেড
৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০
পেশ ইমাম
৬ষ্ঠ গ্রেড
৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০
ইমাম
৯ম গ্রেড
২২,০০০ – ৫৩,০৬০
প্রধান মুয়াজ্জিন
১০ম গ্রেড
১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০
মুয়াজ্জিন
১১তম গ্রেড
১২,৫০০ – ৩০,২৩০
প্রধান খাদিম
১৫তম গ্রেড
৯,৭০০ – ২৩,৪৯০
খাদিম
১৬তম গ্রেড
৯,৩০০ – ২২,৪৯০
আবাসন, সঞ্চয় ও অবসর সুবিধা
নীতিমালায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাসিক সঞ্চয়, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদান এবং কল্যাণমূলক সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।
ছুটি ও নিয়োগ ব্যবস্থা
প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি
বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি
প্রতি ১২ কর্মদিবসে ১ দিন অর্জিত ছুটি
নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে এবং তাদের সুপারিশ ছাড়া কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন পদ ও অন্যান্য নির্দেশনা
নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে, তবে আয়-আয়তন অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।
নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তা নিষ্পত্তি করবে। নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় খতিব পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা শামীম মজুমদার বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় আলেম সমাজ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করছে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য সুখবর জানিয়ে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা সম্ভব হতে পারে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন,মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল এলাকা পরিদর্শন করেছে।তারা উপযুক্ত জমি নির্ধারণের কাজ করবে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন,পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন,“আমরা কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।” উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এসব দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন,অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান,চলতি মাসেই ঠাকুরগাঁওয়ের রহমানপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এ কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও রুটে চলাচলকারী ট্রেনের বগির মান উন্নয়নের আশ্বাসও দেন তিনি। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও বিচার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ঘোষিত আদালত বর্জন কর্মসূচি অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আদালত বর্জনের কারণ আইনজীবী সূত্রে জানা যায়,একটি মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের অভিযোগ ছিল,বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা ও কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।এর প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে বিশৃঙ্খলা, বিচার কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।এ ঘটনায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক নোটিশে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন জানান,বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে আগামী ১ মার্চ ২০২৬ থেকে পূর্বঘোষিত আদালত বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।সকল আইনজীবীকে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অবস্থান বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামও পূর্বে আদালত বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল। পরে আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে তারাও পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং সদস্যদের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণার পর আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে বিচারপ্রার্থী জনগণের দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমবে।
পাবনা প্রতিনিধি।।পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নে দাদি ও নাতনিকে ঘিরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠান থেকে সুফিয়া খাতুন (৬৫)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেত থেকে তাঁর নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,কিশোরীর বাবা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় দাদি ও নাতনি বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন।শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা বাইরে বের হলেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলে তারা ফিরে যান।সকালে উঠানে দাদির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের সরিষাক্ষেতে কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা,কিশোরীকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় দাদিকে হত্যা করা হয়।এরপর দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফেলে যায়। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার দাবি উঠেছে।পুলিশ জানিয়েছে,তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমাই প্রতিনিধি।।কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নিখোঁজের তিন মাস পার হলেও সাথী আক্তার (১৬) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।মেয়েটির খোঁজ না মেলায় পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ সাথী আক্তার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের লোলাই (মুন্সি বাড়ি) এলাকার প্রবাসী জসিম উদ্দিনের কন্যা।তিনি স্থানীয় বাগমারা আল-ইসরা বালিকা মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়,গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে সাথী আক্তার পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়।যাওয়ার সময় সে তার মাকে জানায়,পরীক্ষার কারণে রাতে মাদ্রাসার হোস্টেলে অবস্থান করবে এবং পরদিন পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর বিকেল পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষকরা জানান, ৬ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সাথী মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাথীর মা নুরুন্নাহার বেগম লালমাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় তিনি থানার শরণাপন্ন হন। তিন মাস অতিবাহিত হলেও সাথী আক্তারের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ বিষয়ে লালমাই থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ সাথী আক্তারের সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা মোবাইল নম্বর ০১৮৫৬-৬৭১৩১৭-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে বন্দিদের ক্ষেত্রে ডান্ডাবেড়ি বা হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের উদ্দেশ্য মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ধর্ষ অপরাধী বা জঙ্গিদের পলায়ন ঠেকানো।তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মামলার আসামি কিংবা জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্ত ব্যক্তিদের ডান্ডাবেড়ি পরানোর ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন ডান্ডাবেড়ি পরানো হয় কারা কর্তৃপক্ষের মতে,জেল কোডের বিধি ৫৬ অনুযায়ী কোনো বন্দি বিপজ্জনক বা পালানোর ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হলে জেল সুপার তাকে ডান্ডাবেড়ি পরানোর নির্দেশ দিতে পারেন। সাধারণত জঙ্গি,সন্ত্রাসী বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ আসামিদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়,যাতে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর সুযোগ না থাকে। প্যারোলে মুক্তির পরও ডান্ডাবেড়ি আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী,প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তি পুরোপুরি স্বাধীন নন; তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকেন।এ কারণে নিরাপত্তাজনিত যুক্তি দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার করে থাকে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঝালকাঠিতে এক নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকে তার বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় উপস্থিত থাকতে দেখা গেলে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিষয়ে হাইকোর্ট একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে।আদালত বলেছে,জঙ্গি বা শীর্ষ সন্ত্রাসী ছাড়া সাধারণ আসামি কিংবা রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে গণহারে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার করা যাবে না।বিশেষ করে জানাজা বা মানবিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের আচরণকে আদালত “অমানবিক” ও “অসভ্যতা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না আইনজীবীদের মতে,আদালতের পর্যবেক্ষণ থাকলেও ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট ও আধুনিক নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ অনেক সময় পুরোনো জেল কোডের বিধান অনুসরণ করে নিজেদের নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন,অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার সংবিধানে প্রদত্ত মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।তারা জেল কোড সংশোধন করে স্পষ্ট নির্দেশনা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ “বিদেশি ষড়যন্ত্রের রূপরেখা” ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।এতে যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা সরকারি যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে— মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফর,বিভিন্ন রাজনৈতিক বৈঠক,ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী সহিংস ঘটনাগুলো একই পরিকল্পনার অংশ ছিল। পোস্টটিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে,বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলন,গণমাধ্যম,সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কিছু অংশকে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং আন্দোলনের সময় সহিংসতা উসকে দিতে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ বলছেন,এ ধরনের দাবিগুলো এখন পর্যন্ত প্রমাণহীন এবং অনেক ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সঙ্গে মিল রয়েছে।তারা মনে করেন,বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সরকার,যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযোগ স্বীকার বা সমর্থনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলও প্রকাশ্যে এ ধরনের পরিকল্পনার অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে,রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় যাচাইবিহীন তথ্য দ্রুত জনমত প্রভাবিত করতে পারে।োতাই নাগরিকদের তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মাজহারুল ইসলাম।।দেশ আজ এক গভীর নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা,হত্যাকাণ্ড,অগ্নিসংযোগ,ভাঙচুর এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি জাতিকে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু, রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা,বাড়িঘর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেওয়া—এসব ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।যে-ই অপরাধী হোক,যে দলেরই হোক, অপরাধের দায় থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি আইন; আর সেই আইনের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিচারহীনতা।যখন মানুষ দেখে হত্যার বিচার হয় না,সহিংসতার দায় নির্ধারণ হয় না,তখন সমাজে প্রতিশোধের মনোভাব জন্ম নেয়।ফলে রাজনীতি পরিণত হয় ন্যায়বিচারের সংগ্রাম নয়,বরং শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায়। এটি রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র—উভয়ের জন্যই ভয়াবহ সংকেত। আজ সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সব হত্যাকাণ্ড,সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্ত।কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা বা প্রভাব যেন তদন্তকে প্রভাবিত করতে না পারে।নিহত পুলিশ সদস্য হোক,রাজনৈতিক কর্মী হোক কিংবা সাধারণ নাগরিক—প্রত্যেক প্রাণের মূল্য সমান।নির্বাচিতভাবে বিচার নয়,প্রয়োজন সমান ও নিরপেক্ষ বিচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধী শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।একই সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোরও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিয়ে কেউ শেষ পর্যন্ত লাভবান হয়নি—ইতিহাস বারবার তা প্রমাণ করেছে। ন্যায়বিচার কেবল প্রতিশোধ নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার পথ।আজ দেশের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।দোষী যে-ই হোক,তার বিচার হোক—দ্রুত,স্বচ্ছ এবং আইনের আওতায়। কারণ বিচার বিলম্বিত হলে শুধু ন্যায়বিচারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পুরো জাতির বিবেকও আহত হয়।এখনই সময়—বিচারহীনতার চক্র ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার।
মাজহারুল ইসলাম।।দেশবাসী আবারও স্তম্ভিত। ঢাকায় ছয় বছরের শিশুকে পাশবিকভাবে হত্যা করা হলো; নরসিংদীতে ১৫ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা করা হলো; হাজারিবাগে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা করা হলো।এসব ঘটনায় শুধু অপরাধীর নৃশংসতা নয়, আমরা দেখছি রাজনৈতিক শাসন ও প্রশাসনের শৈথিল্যের নগ্ন চিত্র। দুর্ভাগ্যজনকভাবে,যেসব ঘটনার মূল দায়িত্ব প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের,তারা দোষীদের রক্ষা করে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে,এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে। শিশু তাহিয়া হত্যার পরই ঘটনা ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; এখন সেই মামলার পেছনে চাপ সৃষ্টি করে পরিবারকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এ ধরনের কৌশল ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো সভ্য দেশে সহ্য করা যায় না। দলীয় পদবির ছত্রছায়ায় নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা,অপরাধীকে রক্ষা করা এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা সভ্য ও গনতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। আমাদের স্পষ্ট দাবি: ১. অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। ২. স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রদান করা। শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।সমাজকে রক্ষা করতে হলে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ ছাড়া কোনো পথ নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে দেশের সব বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এবং হাইস্পিড ট্রেনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন,বর্তমান যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী,জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে।সরকারের লক্ষ্য ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মন্ত্রী সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক,পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত এবং জেলার অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তা। এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নরসিংদী প্রতিনিধি।।নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা বেগমকে হত্যার ঘটনা শোকে দাগ কাটছে।ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় তাকে জোরপূর্বক বাবা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে কিশোরীকে নূরার নেতৃত্বে ৫–৬ জন বখাটে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচারকের দায়িত্ব নেন। অভিযোগ উঠেছে,তিনি অপরাধীদের সঙ্গে আর্থিক রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং ধর্ষিতার বাবা ও পরিবারের ওপর গ্রাম ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করেন। ধর্মীয় ও প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে,অপরাধীরা ১৫ দিন পর কিশোরীকে পুনরায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গণধর্ষণের পর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ,প্রভাবশালী অপরাধীরা টাকা ও ক্ষমতার বিনিময়ে আইনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে।ফলে ভিকটিম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতেই মাধবদী থানায় মৃত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। লনরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আহম্মদ আলী দেওয়ান, মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি তার ছেলে ইমরান দেওয়ান,ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব,এবায়দুল্লাহ,মোঃ গাফ্ফার মিয়া। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানায়,ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত কাজ তদারকি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তৎপর নজরদারি ছাড়া এই ধরনের প্রভাবশালী চক্রের দমন সম্ভব হবে না।তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১:৫২ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৫.৩। ইউরোপীয়-মধ্যপ্রাচ্যীয় ভূ-তাত্ত্বিক কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী,ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো খুলনা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিলো ৩৫ কিলোমিটার।ভারতের কলকাতা থেকে উৎপত্তিস্থল ১০২ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন।তবে,তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পনের রেশ অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার এক নারীর অভিযোগ,তার ফুফাতো ভাই ঘুমন্ত অবস্থায় তার প্রতি জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেছে।ঘটনার পর ধর্ষক হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নারীটি স্থানীয় মানুষ এবং পরিবারকে ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে জানায়। তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে,ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যে কোনো দেরি করা উচিত নয় এবং মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলা দায়ের করা যাবে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে “আগামীর রাজনীতি ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও -৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসান। তিনি বক্তৃতায় আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দলীয় কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও আগামীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মাজহারুল ইসলাম।।বিচারককের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন, আদালতকক্ষে হট্টগোল,সরকারি নথিপত্র ও মালামাল ভাঙচুর—বরিশালে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। অভিযোগ অনুযায়ী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একাধিক আইনজীবী আদালতকক্ষে প্রবেশ করে বিচারককে হুমকি দেন,শুনানিতে বাধা সৃষ্টি করেন,এজলাস ভাঙচুর করেন এবং সরকারি কর্মচারীদের ওপর হুমকি প্রদর্শন করেন।ঘটনাস্থলেই বিচারককে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এ ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এটি আইনশৃঙ্খলা,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আদালতের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। বাংলাদেশের সংবিধান ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে না পারলে,বিচারকরা সুশৃঙ্খল পরিবেশে মামলার শুনানি করতে পারবেন না এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা কমে যাবে। বরিশাল মহানগর দায়রা জজরা তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন যে,আইনজীবীরা আদালতের কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন।এজন্য জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।এটি শুধু শাস্তি নয়; এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ,যা আইনজীবী সমাজকে সতর্ক করছে—আদালতকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দিয়ে প্রভাবিত করা যাবেনা। অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল আইনজীবীরা বিচারক এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষায় প্রথম সারিতে থাকা উচিত।কিন্তু ক্ষমতার প্রদর্শনী বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতে হট্টগোল সৃষ্টি করা হলে তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক। এই ঘটনায় রাষ্ট্র ও আদালত দুটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: ১. আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করা যাবে না। ২. পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে সনদ বাতিল ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরিশাল আদালতের ঘটনা শুধুই বরিশালের নয়; এটি দেশের সমস্ত আইনজীবী সমাজকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান।আইন,শৃঙ্খলা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলের সংযম, দায়িত্বশীলতা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর, বিচারককে হুমকি এবং বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ জন সদস্যের পেশাদার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।একই ঘটনায় হাইকোর্ট নয়জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে।মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 📌 ঘটনার বিস্তারিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে একটি জামিন মামলার শুনানির সময় আইনজীবীরা হট্টগোল সৃষ্টি করেন। আদালতের বেঞ্চ,টেবিল,মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা হয় এবং কজলিস্ট ও মামলা নথি ছিঁড়ে ফেলা হয়। আইনজীবীরা বিচারকের উদ্দেশ্যে হুমকি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। সরকারি কর্মচারীদের ওপর ধাক্কাধাক্কি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বিচারক নিরাপত্তার কারণে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ⚖️ মামলা ও আইনি ব্যবস্থা থানা: কোতয়ালী মডেল থান, বরিশাল মামলা নম্বর: ৪৬/২০২৬, জিআর নং ১০৫ আইন: ৪/৫ ধারা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮, ৩৫৩ ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০ প্রধান আসামি: এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন মামলায় আরও ১১ জন আইনজীবীসহ আনুমানিক ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 👮 গ্রেফতার ও আদালতে প্রেরণ পুলিশ জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:১৫ মিনিটে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে সাদিকুর রহমান লিংকনকে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার বা তদন্তে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 🧾 তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে: ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আইনজীবীরা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন,যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন,শেখ হাসিনার সরকারের পতন কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ছিল না; বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ।তার ভাষ্য অনুযায়ী,এই প্রক্রিয়ায় ড. ইউনূস জড়িত ছিলেন বলে তিনি মনে করেন। আলোচনায় তিনি ড. ইউনূসকে “আসল ফ্যাসিস্ট” বলেও মন্তব্য করেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদকে “বৈধ সরকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। মোহসিন রশীদ আরও দাবি করেন,শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় বিদেশি একটি জনসংযোগ (পিআর) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছিল।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন,রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়েও তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন।তার মতে,রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল,যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এ ধরনের বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে,যেখানে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই বক্তব্যে দাবি করা হয়,রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার আগে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,আগস্টের পর দায়ের হওয়া কথিত ‘মিথ্যা মামলা’ বাতিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির উদ্যোগ নিতে পারেন।এতে বলা হয়েছে,এমন সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। একতরফাভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আদালত বিলুপ্ত কিংবা মামলা বাতিল করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির সরাসরি নেই—এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সরকার, সংসদ বা বিচার বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক পদধারীদের উদ্দেশ করে নানা মতামত ও দাবি সামনে আসছে, যা দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ঢাকা বিভাগ) মেট্রো-১ এর সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলকে ঘিরে ছড়ানো একটি গুজব এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অনলাইনে প্রচার করা হয় যে,তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করতে পারলেও বর্তমান বিএনপি সরকারের চাপের কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।তবে এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টিকে “গুজব” আখ্যা দেন।ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেও তিনি একই বক্তব্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এদিকে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক লেখায় দাবি করা হয়েছে,এসব গুজব বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।লেখাটিতে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে বিভিন্ন প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছে। উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুলাই মাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াতকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলির কারণ,ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের স্থাপনা ভাঙার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণা। লেখাটিতে আরও বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আদর্শ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন এবং অতীতের ঘটনাগুলো বুঝে মতামত দেওয়া উচিত। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন,সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের প্রবণতা বাড়লেও গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ভূমিসেবার সরকার নির্ধারিত ফিগুলো উপজেলা,সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসের দৃশ্যমান স্থানে স্থায়ী সাইনবোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।চার ফুট × আড়াই ফুট আকারের সাইনবোর্ডে এসব ফি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়,ভূমি উন্নয়ন করসহ সব ধরনের ভূমিসেবা ফি এখন থেকে শুধুমাত্র অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।কোনো ধরনের নগদ লেনদেন না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে ১৬১২২ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন সেবার নির্ধারিত ফি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নামজারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ১ হাজার ১৭০ টাকা।এতে কোর্ট ফি ২০ টাকা,নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ ফি ১ হাজার টাকা এবং প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া খতিয়ানের সার্টিফায়েড বা অনলাইন কপির জন্য ফি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ডাকযোগে গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাকমাশুল দিতে হবে। মৌজা ম্যাপের প্রতি শিটের জন্য ফি ৫৪৫ টাকা এবং ডাকযোগে সংগ্রহ করতে চাইলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা ডাকমাশুল প্রযোজ্য হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে,নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অর্থ আদায়যোগ্য নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এ পদে নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।শুরুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকলেও ফিলিস্তিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল।তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। জাতিসংঘের আঞ্চলিক রোটেশন নীতিমালা অনুযায়ী এবারের সভাপতি নির্বাচিত হবেন এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে।আগামী সেপ্টেম্বরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মে মাসে বর্তমান অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক প্রার্থীদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা আয়োজন করবেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে,প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। সূত্র আরও জানায়,বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই এ পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করে আসছিল।শেষ মুহূর্তে ফিলিস্তিন প্রার্থী হওয়ায় কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও পরে তারা সরে দাঁড়ায়। কূটনৈতিক সূত্র মতে,যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাংলাদেশকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দিয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ :———