নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের চলাফেরা,বক্তব্য ও আচরণে মার্জিত ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান,প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন—যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে কেউ যেন কোনো বিষয়ে মন্তব্য না করেন।গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি।
সভা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১টায়। সভায় বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।”
প্রধানমন্ত্রী সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন।তিনি জানান,দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সভায় জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। তবে যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য,সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে,সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন,মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন,তবে তরুণ মন্ত্রীদের বিশেষভাবে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
অফিসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন,তিনিও নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,সংসদ অধিবেশন শুরুর পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন বিরতি থাকবে।এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে।ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত পোল্ট্রি খামারি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় তিনি কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলম খান দীর্ঘদিন ধরে তার জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মে চারটি খামারে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের অধিকাংশ মুরগি মারা গেলে তিনি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া প্রশিকা মোড় শাখার ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।এর আগে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩/৪ কিস্তি বাকি থাকলেও নতুন ঋণের আশ্বাস দিয়ে তাকে একসাথে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম খান জানান,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। ফলে সিপি কোম্পানির প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি থেকে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,“ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়েছি।তিন সন্তান নিয়ে কষ্ট করে খামার গড়ে তুলেছি।আইপিএস রোগে দুইবার মুরগি মারা যাওয়ার পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ঋণের আশ্বাসে আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তার দাবি,১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করতে পারলে খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু ঋণ না পাওয়ায় খামারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে স্থানীয় এক ডিলারের সহায়তায় তিনি ৮ হাজার মুরগি নিয়ে সীমিত পরিসরে খামার চালু করেছেন।তবে শ্রমিকের বেতন,বিদ্যুৎ বিল,ঘরভাড়া ও তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের হেড অফিস (House No-62, Block-Ka, Pisciculture Housing Society, ঢাকা-1207) এবং গাজীপুর জোনাল অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ফোন নম্বর 01717454046 ও 01711961399-এ কল করা হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।এছাড়া ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘটনাটি কয়েকটি আইনের আওতায় পড়তে পারে।
১. দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৪২০ (প্রতারণা):
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে এবং প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রদান না করে, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. দণ্ডবিধি ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ):
প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ‘ক্রিমিনাল ব্রিচ অব ট্রাস্ট’ হিসেবে মামলা করা যেতে পারে।
৩. চুক্তি আইন ১৮৭২:
লিখিত বা প্রমাণযোগ্য মৌখিক চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
৪. মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন
২০০৬:
বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে এমআরএ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করা যায়।
আইনজীবীরা বলছেন,ভুক্তভোগী চাইলে
থানায় প্রতারণার মামলা,
দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা,
এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-তে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“ক্ষুদ্রঋণ মানুষের দারিদ্র্য দূর করার কথা। কিন্তু আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের এমন আচরণে আমার পরিবারের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই।”
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
ক্রেমলিন জানিয়েছে,আলোচনায় পুতিন রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পক্ষে মস্কোর নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।বিশেষ করে ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এছাড়া ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আবারও গভীর সমবেদনা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে,তেহরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়,গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এস এম লুৎফর রহমান দায়িত্ব পালন করছিলেন।এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে।অভিযানের একপর্যায়ে বন্দর থানার সোনাকান্দা ব্যাপারিপাড়া এলাকা থেকে মিশাল ওরফে বিশালকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি,একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে,এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।গত দুই দিনে (সোমবার ও মঙ্গলবার) মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে,চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি হয়ে নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং বাকি ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী,পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছরে প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।পরবর্তী তিন বছরে এই সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন করা হবে এবং পরবর্তী চার বছরে তা আরও বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়,দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির এই রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,গাইবান্ধা,রংপুর, দিনাজপুর,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশজুড়ে নদী-নালা,খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একযোগে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।
সরকারের পানিসম্পদ,স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,“এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়,বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
তিনি আরও জানান,প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রেখে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে করানো হয়।এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনের এই উদ্যোগে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ডেস্ক: দিনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তির পর অনেকেই আরাম পেতে বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেন।এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় অভ্যাস হলো রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের তলায় তেল মালিশ করা।আয়ুর্বেদ ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই অভ্যাসকে শরীরের আরাম ও ঘুমের মান উন্নত করার জন্য উপকারী বলা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের তলায় অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত (nerve ending) রয়েছে।পায়ে হালকা মালিশ করলে স্নায়ুগুলো উদ্দীপিত হয়,যা শরীরকে শিথিল করতে এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।ফলে অনেকের ক্ষেত্রে রাতে দ্রুত ঘুম আসতে এবং গভীর ঘুম হতে সাহায্য করে।
রিফ্লেক্সোলজি নামের একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিতে বলা হয়,পায়ের পাতার বিভিন্ন অংশ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।এই তত্ত্ব অনুযায়ী পায়ের নির্দিষ্ট স্থানে মালিশ করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।যদিও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই দাবির সবকিছুর শক্ত প্রমাণ নেই,তবুও অনেকেই এই পদ্ধতিতে আরাম অনুভব করেন।
চিকিৎসকরা জানান,পায়ের তলায় মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। এতে সারাদিন হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার পর পায়ের পেশির ক্লান্তি কমে এবং শরীর কিছুটা স্বস্তি পায়।বিশেষ করে যাদের পায়ে ব্যথা,অবসাদ বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে পায়ের তলায় মালিশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত সরিষার তেল,নারকেল তেল বা তিলের তেল ব্যবহার করা হয়। শীতকালে হালকা গরম সরিষার তেল অনেকেই ব্যবহার করেন, যা শরীরে উষ্ণতা দিতে সাহায্য করে।অন্যদিকে গরমকালে নারকেল তেল বা তিলের তেল ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে এবং আরাম পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্যবিদরা পরামর্শ দেন,রাতে ঘুমানোর আগে প্রথমে পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে।এরপর সামান্য তেল হাতে নিয়ে পায়ের তলায় ২ থেকে ৩ মিনিট হালকা চাপ দিয়ে মালিশ করতে হবে।এতে পায়ের পেশি শিথিল হতে পারে এবং ঘুমের আগে শরীর আরাম পেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন,এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।দীর্ঘদিনের ব্যথা,ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই এখন নিয়মিত এই সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে,সঠিক জীবনযাপন,পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এমন ছোট অভ্যাসগুলোও শরীরকে আরাম দিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার এর বিরুদ্ধে জামিনের বিনিময়ে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এই অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম একটি ৫ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছেন।
কমিটির প্রধান: চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
সদস্যরা:
প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা
মোহাম্মদ জহিরুল আমিন
ল’ রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ
প্রসিকিউশনের বক্তব্য:
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও প্রসিকিউশনের সার্বিক বিষয় দেখাশোনার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটি সাইমুম রেজার ঘুষ চাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করবে।
চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন,এটি একটি গুরুতর অভিযোগ,যা কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা উচিত ছিল না।অভিযোগ উঠার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হবে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সেরা অবস্থান অর্জন করেছে সরকারি পাতারহাট মুসলিম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।উপজেলার মোট ৫০ জন বৃত্তিধারীর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন এবং জেনারেল বৃত্তি পাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় থেকে এসেছে। ফলে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানের গর্ব বৃদ্ধি করেছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক খান বেনজির আহমদ বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী।শিক্ষা,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষক মণ্ডলী টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সকল কার্যক্রমে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।ইনশাআল্লাহ, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাহাবুব আলম বলেন, “ট্যালেন্টপুল বৃত্তিধারীর মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী আমাদের বিদ্যালয় থেকে এসেছে। এই সাফল্য শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে,ধারাবাহিক ভালো ফলাফল ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।এই অর্জন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সেরা এবং বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের আওতায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফলাফল হিসেবে রেকর্ডে স্থান করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে মোট পরিবার (খানা) সংখ্যা ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ৪ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ২১৭টি।এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ২.৭৮ কোটি এবং শহরাঞ্চলে ১.৩১ কোটি পরিবার বসবাস করছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট পরিবারের প্রায় ২৭ শতাংশ বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।এই কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক,বিধবা,প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যক্তি সরাসরি বিভিন্ন ভাতার আওতায় আছেন।২০২৫-২৬ অর্থবছরে এর সাথে আরও প্রায় ৬.২৪ লাখ নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বরাদ্দের দিক দিয়ে,২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৭.০৬ শতাংশ।তবে সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৫-২৬ প্রস্তাবিত বাজেটে এটি কমে ১৪.৭৮ শতাংশ এবং দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১.৮৭ শতাংশ।বার্ষিক খরচ প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে,যা মাসিক হিসাব করলে প্রায় ৯,৭২৭ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪ কোটি পরিবারকে মাসিক ২৫শ টাকা হারে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।তবে বাস্তবায়িত বরাদ্দ,সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং সামগ্রিক বাজেটের অনুপাতের সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবতার মধ্যে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে পরিকল্পনা,বাজেট বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীর নির্বাচনে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন,সরকার মানবাধিকার রক্ষা এবং বেআইনি গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।পাশাপাশি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী এ কথা বলেন মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণীতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে “সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার,বিচার ও বাস্তবায়ন” শীর্ষক আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ সেমিনারে।অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’।
আইনমন্ত্রী জানান,বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৭ হাজার কার্ড জারি করা হয়েছে,যা পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে দেওয়া হয়েছে।এই উদ্যোগ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,দেশের নারীরা মৌলবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে,তাই তাদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের নীতি হলো গুমকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকা।
মন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।তিনি বলেন,বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়ন উদ্যোগে ব্যবহার করা যেতে পারত।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত,এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক,জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিবেদক ও মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব।
এই তথ্য দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ,যিনি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রুবেল আহমেদের জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে,হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল ২০–২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে,কারণ শরিফ ও হাদি,শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছিলেন। হত্যার কাজটি চালানোর জন্য ফয়সাল করিম মাসুদ (দাউদ খান রাহুল) এবং কামরুজ্জামান রুবেলকে ব্যবহৃত হয়।
রুবেল জানান,২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর জানতে পারেন যে হাদি ও কাফিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।সেই সময় তিনি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাননি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও হত্যার হুলিয়া, অর্থের উৎস ও যোগানদাতাদের শনাক্তকরণ বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী প্রতিনিধি।।নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় পুলিশ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে মিশাল মন্ডল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ইব্রাহিম (৪০)।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিম এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় জনতা ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়।অপর প্রধান অভিযুক্ত সাইদ আলী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী,গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র,চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামকে হুমকি ও আঘাত করে।এই ঘটনায় রেজাউল করিমের উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতালে ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়।হামলাকারীরা একটি গাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পুলিশ প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন উপকমিশনার (ডিসি) এবং তিন জেলার তিন পুলিশ সুপারসহ (এসপি) বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী,ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক মাহমুদকে হবিগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে হবিগঞ্জের বর্তমান পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়েছে।
একই আদেশে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান,যাকে চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই রদবদল করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,বদলি হওয়া কর্মকর্তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশে চলমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় প্রতি মাসে ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।এরই মধ্যে দুটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও এখনই তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।তিনি জানান,জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন,জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ঢাকাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।যদিও সরকার পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলছে,তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী,দেশে জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।দৈনিক অকটেনের চাহিদা এক হাজার ১০০ টন থেকে বেড়ে দুই হাজার টনে পৌঁছেছে।পেট্রোলের চাহিদাও বেড়েছে প্রায় এক হাজার টন।আর ডিজেলের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে বর্তমানে ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
চাহিদার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে সরকার জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে লিটার নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পাশাপাশি সমুদ্রপথেও জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে।বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে মার্চ মাস নির্বিঘ্নে পার করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করছে।এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া,সিঙ্গাপুরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন,জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন সবসময় প্রস্তুত।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,বিদেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী একটি বড় ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় নোঙর করেছে বলে জানা গেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ওষুধের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঁদাবাজি,হামলা ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকটি চক্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তাসকিন গাজী নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ছাত্রদল বা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই বলে জানা গেছে। একটি ফোনালাপে তিনি বলেন,“আমি এত বছর রাজনীতি করছি।এখন কি আমি না খেয়ে থাকব?ভাই,আমি এখন শ্রাবণ মাসের পাগলা কুত্তার মতো হয়ে গেছি।মনে করেন আমি পাগল হয়ে গেছি।পাগল হয়ে গেলে সবার কাছ থেকেই ধরতে হয়।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহবাগকেন্দ্রিক কয়েকটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।তারা আজিজ সুপার মার্কেট,শাহবাগ মেডিসিন মার্কেট, বিপণিবিতান মেডিসিন মার্কেট,পরীবাগ চাঁদ মসজিদ মার্কেট ও পরীবাগ সুপারমার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এককালীন ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করছে।
মাসিক ‘রেট’ বেঁধে চাঁদা
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান,দোকানভেদে প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা দিতে হয়,যাকে তারা ‘রেট’ বলে থাকেন।বেশির ভাগ দোকান থেকেই গড়ে ১০ হাজার টাকা মাসিক চাঁদা নেওয়া হয়। কোনো ব্যবসায়ী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে চাঁদার পরিমাণ আরও বেশি ধরা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই চাঁদা তোলার সঙ্গে মো. মিথুন (২৮) ও মো. বাইজিদ মোল্লা (২৮) নামের দুই যুবকের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।তাঁরা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আক্তার হোসেনের অনুসারী বলে দাবি করেন।
পরীবাগের চাঁদ মসজিদ মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ী আল-আমিন (রিপন) বলেন,“মিথুন ও বাইজিদ বিভিন্ন সময় চাঁদার দাবিতে হুমকি দিয়েছেন।চাঁদা না পেলে দোকানের কর্মচারীদের মারধরও করেছেন।আমরা ব্যবসা করতে চাই,ঝামেলা চাই না—তাই অনেক কিছু সহ্য করে গেছি।”
চাঁদা না দিলে গুপ্ত হামলা
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,চাঁদা আদায়ের অন্যতম কৌশল হলো গুপ্ত হামলা।কোনো ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর দোকানের কর্মচারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয় বা তুলে নিয়ে অর্থ আদায় করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শাহবাগ মেডিসিন কর্নারের কর্মচারী রিয়াজ হোসেনের ওপর হামলা হয়।হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করে এবং তাঁর কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নগদ ও প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ বাইজিদ মোল্লা,সোহান মোল্লা ও মমিনুল মুনশিকে গ্রেপ্তার করেছে।অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. তৌফিক হাসান।
আইসিইউর ওষুধ নিয়েও সিন্ডিকেট
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউকে ঘিরেও বড় ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে।সেখানে ৩৯টি শয্যা রয়েছে এবং প্রতিদিন রোগীর জন্য ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওষুধ লাগে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ঠিক করে দেন কোন দোকান থেকে আইসিইউতে ওষুধ সরবরাহ করা যাবে।বর্তমানে ৬ থেকে ৯টি দোকানকে এ সুযোগ দেওয়া হয়।এর জন্য সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে যুবদলের স্থানীয় নেতা শহীদুল ইসলাম (খোকন) বলেন,“আইসিইউতে ওষুধ দেওয়া নিয়ে আগে ঝামেলা হতো। সবাইকে নিয়ে বসে আমরা বেড ভাগ করে দিয়েছি।যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়।”
অভিযোগ অস্বীকার
অভিযোগের বিষয়ে তাসকিন গাজী বলেন,তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং আইসিইউতে নতুনভাবে ওষুধ সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেছেন।হামলা বা চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি,শাহবাগ এলাকায় এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে “বেশি কথা বললে বিপদ আছে”—এই ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।
প্রশাসনের নজরদারির দাবি
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট এই এলাকায় ওষুধ ব্যবসাকে ঘিরে চাঁদাবাজি,হামলা ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা জরুরি।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।।গাজীপুর সদর উপজেলার পুবাইল থানার কুদাবো গ্রামের বাসিন্দা আহাদুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।দুর্ঘটনার পর তার পায়ে রড বসানো হয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও পারেন না।ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না।
জানা গেছে,আহাদুল ইসলাম আগে মাদ্রাসায় ছাত্র পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।কিন্তু দুর্ঘটনার পর উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।তার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট দুই সন্তান রয়েছে।বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
আহাদুল ইসলাম জানান,পবিত্র রমজান মাসে তার পরিবার সেহরি ও ইফতারের জন্যও পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। চিকিৎসার খরচ বহন করাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এ অবস্থায় তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,কেউ চাইলে সরাসরি তার অবস্থা যাচাই করে সাহায্য করতে পারেন বা ভিডিও কলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে পারেন।
সহায়তা পাঠানোর জন্য তার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বর দেওয়া হয়েছে—
বিকাশ / নগদ / রকেট: 01933624599 (Personal)
নাম: Ahadul Islam
ঠিকানা:
গ্রাম: কুদাবো
থানা: পুবাইল
উপজেলা: গাজীপুর সদর
জেলা: গাজীপুর
মানবিক সহায়তার মাধ্যমে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে কেবল “অধ্যাদেশ জারির সরকার” বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি বলেন,দায়িত্ব ছাড়ার আগ মুহূর্তেও তারা নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করার চেষ্টা করেছিল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা,ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের দায়িত্বকালীন সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে।সেই হিসাবে গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ২০ দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। তিনি এ প্রবণতাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেকেই সংস্কারমুখী সরকার বললেও বাস্তবে তারা ছিল অধ্যাদেশনির্ভর সরকার।এমনকি বিদায়বেলায়ও তারা একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করতে চেয়েছিল।”
এ সময় তিনি বলেন,বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ।“আমরা এতে সই করেছি এবং সেই অঙ্গীকার রক্ষা করব।যারা এখন সমালোচনা করছে,তারাই নির্বাচনের পর এতে সই করেছে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,বিএনপি জুলাই সনদকে অস্বীকার করে না এবং দলটি সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।তবে সনদে যে পরিমাণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে,বাস্তবায়নও ততটুকুই হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে বিষয়টি সংসদে যেতে হবে।সংসদে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “যদি নতুন করে শপথ নেওয়ার প্রয়োজন হয়,সেটিও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারেই হবে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “যারা মনে করে ষড়যন্ত্র করে তাদের হারানো হয়েছে,তাদের সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখাও না-জায়েজ।”
উল্লেখ্য,সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন বসার এক মাসের মধ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে হয়। সেই হিসাবে বর্তমান সরকারকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চারটি করে অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভা শেষে দেশের শান্তি,স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় আইফোন ও নগদ টাকার লোভে কলেজছাত্র সিয়াম মোল্যা (১৭)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চার বন্ধুর বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
নিহত সিয়াম মোল্যা উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম গ্রামের ইতালিপ্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে।তিনি উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ জানায়,গত ৭ মার্চ থেকে সিয়াম নিখোঁজ ছিল। পরে সোমবার সন্ধ্যায় ঝুটিগ্রাম এলাকার একটি পুকুরে কচুরিপানার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই কিশোর জানিয়েছে—সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও কিছু নগদ টাকা ছিল।এগুলো বিক্রি করে মাদক কেনার উদ্দেশ্যে চার বন্ধু মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ মার্চ সিয়ামকে হত্যা করে পুকুরের কচুরিপানার নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান,এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক অন্য দুই কিশোরকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কারাবন্দী এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্ত করার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন দাবি উঠে এসেছে।
ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংগুলোতে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরদের একজন মো. সাইমুম রেজা তালুকদার–এর কথোপকথন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।রেকর্ডিংগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যম যাচাই করেছে বলেও জানা গেছে।
রেকর্ড করা এক হোয়াটসঅ্যাপ কলে পরিবারের এক সদস্যকে আগের আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন,যদি তিনি শেষ পর্যন্ত ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন নিশ্চিত করতে পারেন,তাহলে একটি “ভালো অ্যামাউন্টের” বিষয় থাকবে।কথোপকথনে তিনি সরাসরি বলেন,“আমি ওয়ান ক্রোরের (১ কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।”
এ সময় ওই অর্থের মধ্যে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নগদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন বলে অডিওতে শোনা যায়।
অভিযোগটি সামনে আসার পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন আইসিটির তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।তবে ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে নতুন আইনমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর সাইমুম রেজা তালুকদার পুনরায় মামলাটিতে যুক্ত হওয়ার কথা ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের জানান বলে দাবি করা হয়েছে।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়,এরপর তারা নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে কয়েকটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং জমা দেন।
পরিবারের দাবি,তারা কখনোই ওই প্রসিকিউটরকে কোনো অর্থ প্রদান করেননি।বরং দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, “এটি সত্য নয়।” তাঁর দাবি,কোনো একক প্রসিকিউটরের পক্ষে কাউকে জামিন পাইয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; সবকিছু প্রধান প্রসিকিউটরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য,চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী।২০২৪ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি বলে জানা গেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান ও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পথচলা তাঁর পারিবারিক ইতিহাস,জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র সাত বছর,তখন তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।শেখ হাসিনার বয়স নয় বছর হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সে সময় শেখ হাসিনার বয়স ছিল প্রায় ২৩ বছর।তবে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়নি। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি ক্রমে মুক্তিযুদ্ধের দিকে গড়ায় এবং ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। বিভিন্ন গবেষণা ও ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী,তিনি তাঁর জীবনের প্রায় ৪ হাজার ৬০০ দিনেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন,যা প্রায় ১৩ বছরের সমান।স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে আন্দোলনের সময় এই কারাবাস তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।ওইদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন।ওই সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় তারা প্রাণে রক্ষা পান। ঘটনার পর শেখ হাসিনাকে প্রায় ছয় বছর বিদেশে অবস্থান করতে হয়।১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফিরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।সে সময় দেশে সামরিক শাসনের প্রভাব ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থির। পরবর্তীতে দীর্ঘ আন্দোলন ও…
মাজহারুল ইসলাম।।রাজনীতির ইতিহাসে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে,যেখানে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতারাই নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ভারে শেষ পর্যন্ত বিপর্যস্ত হয়েছেন।বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিসরে শেখ হাসিনার শাসনকালও এমন কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সাক্ষী,যেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ পরবর্তীকালে নানা বিতর্ক ও সংকটের জন্ম দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে।তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তখন সরকারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হয়েছিল।তবে রাজনীতির বাস্তবতা সব সময় ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না।নিরপেক্ষতার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান অনেক সময় সরকারের রাজনৈতিক প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।ফলে সেই নিয়োগ পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে ২০১৫ সালে এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।জ্যেষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিয়োগ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।এই সংঘাত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ২০২৪ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নিয়োগকে অনেক বিশ্লেষক শেখ হাসিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন।সমালোচকদের মতে,এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত আস্থা ও রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা রেখেছিল।পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়,তা দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। সবশেষে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজনীতির ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—ক্ষমতার দাবার বোর্ডে সবচেয়ে শক্তিশালী খেলোয়াড়ও কখনো নিজের সাজানো চালেই পরাজিত হন।বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার শাসনকালেও এমন কয়েকটি সিদ্ধান্ত রয়েছে,যা তখন কৌশলগতভাবে নিরাপদ মনে হলেও সময়ের পরিক্রমায় তা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গভীর সংকট তৈরি করেছে।বিশেষ করে রাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চার ব্যক্তিকে বসানোর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে এক কঠিন রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির উপাখ্যান। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে।তখন ধারণা করা হয়েছিল,তাঁর নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি সরকারের জন্য একটি নিরাপদ ভারসাম্য তৈরি করবে।কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন পথ দেখায়।নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেওয়ায় তিনি সরকারের অনেক রাজনৈতিক প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাননি।২০০১ সালের নির্বাচনের সময় তাঁর ভূমিকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দেয় এবং দলীয় মহলে সেই নিয়োগকে পরে অনেকেই রাজনৈতিক ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে ২০১৫ সালে,যখন সরকার এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।জ্যেষ্ঠতার প্রশ্নে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা ছিল।পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়।সেই রায়ে সরকারের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ উঠে আসে,তা রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।অনেক বিশ্লেষক একে বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে অভূতপূর্ব দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেছেন। তৃতীয় এবং সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয় ২০২৪ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নিয়োগ।সমালোচকদের মতে,রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিগত আস্থার ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পরে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়।বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়।অনেক বিশ্লেষক মনে করেন,…
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীসহ আশেপাশের নদী এলাকায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে পাঙ্গাস ও ইলিশের পোনা নিধনের ঘটনা মহোৎসবের রূপ নিয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নদী চাষীদের প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ মাছের পোনা শিকার করা হচ্ছে। সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী,গভীর রাতে মেঘনা, মাছকাটা,বাগরজা,বউ ডুবাচর,দরিচর খাজুরিয়া ও ভাষানচর এলাকায় সক্রিয় হয় এই অসাধু চক্র।সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বাধাজাল ও পাইজাল ব্যবহার করে ছোট পাঙ্গাস ও ইলিশ (চাপিলা ও টেংরা) নিধন করা হচ্ছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাতের আঁধারে ধরা এই পোনা মাছগুলো পরদিন সকালে স্থানীয় বাজারে প্রশাসনের চোখের সামনেই বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি,ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণ করছে।জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘদিন ধরে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছ।ফলে কোস্ট গার্ড বা মৎস্য বিভাগের অভিযান থাকলেও তা কার্যত লোক দেখানো হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে,এভাবে পোনা নিধন চলতে থাকলে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন কমবে এবং পাঙ্গাস ও অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে।এছাড়া সরকারের মৎস্য সম্পদ রক্ষার যাবতীয় প্রকল্পও ব্যর্থ হওয়ার পথে যেতে পারে। এলাকাবাসী দাবি করছে,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোর সামরিক বা নৌ-অভিযানের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভেঙে নদীর সম্পদ রক্ষা করা হোক।
পেকুয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি।।কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে,ঘটনার পর নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে একের পর এক নাটক সাজানো হয় এবং তড়িঘড়ি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি,জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।কিন্তু পরবর্তীতে সেই রিপোর্ট প্রত্যাশিতভাবে না হওয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি তাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী,নির্যাতনের ফলে তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়।কিন্তু সেই অবস্থাতেই ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ডেকে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।ভুক্তভোগীদের শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,এই ঘটনা সত্য হলে তা বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের একাধিক ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন করা বা জোরপূর্বক শাস্তি প্রদান করা সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়া দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৩০ ও ৩৩১ ধারায় স্বীকারোক্তি আদায় বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী শ্লীলতাহানির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আইনজীবীরা আরও বলছেন,ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অপরাধ সংঘটিত হলে এবং তা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায়।কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি আগে থেকেই পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হন,সেই অবস্থায়…
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।খাগড়াছড়িতে প্রেম ও বিয়ের আড়ালে মানবপাচারের অভিযোগে সুনি চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে,তিনি নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতেন এবং স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের বিদেশে,বিশেষ করে চীনে নিয়ে যেতেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,বিদেশে নেওয়ার পর তারা প্রতারণা ও মানবপাচারের শিকার হন।এভাবে একাধিক নারীকে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,পাচারের চেষ্টা করার সময় সুনি চাকমাকে আটক করা হয়েছে।বিষয়টি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে।এর সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত আছে কি না,সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন,বিদেশে বিয়ে বা স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রস্তাব পেলে অবশ্যই যথাযথ যাচাই-বাছাই করা জরুরি।সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ।সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের প্রধান উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ সংবাদদাতা।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালাবদর নদীতে জেলে হাবীব মাঝির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ঘিরে এক সংবাদকর্মীকে কোস্টগার্ড ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) আছরের নামাজের সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ড ক্যাম্পের সদস্যরা যুগান্তর বার্তা নিউজ পোর্টালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক,লেখক-কলামিস্ট এম মাজহারুল ইসলাম-কে খবর দিয়ে ডেকে নেন। সাংবাদিকের দাবি,তিনি গ্রামের বাড়ির মসজিদে আছরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে মোটরসাইকেলে তুলে শ্রীপুরের চরফেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী কোস্টগার্ড ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রায় মাগরিব পর্যন্ত আটকে রেখে প্রকাশিত সংবাদের উৎস,তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন,জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ভিডিও বক্তব্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সংবাদের তথ্যসূত্র জানতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সাংবাদিক এম মাজহারুল ইসলাম জানান,তিনি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ ও গণমাধ্যম আইনের আলোকে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে সব প্রশ্নের উত্তর দেন।পাশাপাশি কোস্টগার্ডের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র,তথ্যপ্রমাণ এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পেপার কাটিংও জমা দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন,কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রশ্ন করেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কেন কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত,কালাবদর নদীতে জেলে হাবীব মাঝির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর থেকেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।তিনি বলেন,নদীতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের হয়নি।বরং সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে অপরাধী বানানোর অপচেষ্টা চলছে। আইনি বিশ্লেষণ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোনো সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ফৌজদারি কার্যবিধির…
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ এবং সামুদ্রিক সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই আধাসামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য “Guardian at Sea” বা সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উপকূলীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা,জলদস্যুতা দমন,মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ,অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান (SAR), প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা—এসবই কোস্ট গার্ডের মৌলিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন,২০১৬–এ বাহিনীর কার্যক্রম ও ক্ষমতার স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী কোস্ট গার্ডের প্রধান দায়িত্ব হলো উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা,চোরাচালান প্রতিরোধ, জলদস্যুতা দমন এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ।একই আইনের ধারা ৮-এ বলা হয়েছে,প্রয়োজনবোধে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সন্দেহভাজন জাহাজ,নৌযান বা ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে এবং আটক করতে পারবেন,তবে তা অবশ্যই আইনের নির্ধারিত পদ্ধতি ও এখতিয়ারের মধ্যে থাকতে হবে। আইনের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট যে,কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম মূলত উপকূলীয় এলাকা,সমুদ্রসীমা ও নদীপথকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়ার কথা।স্থলভাগে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা বা কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে সাধারণত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং আইনগত অনুমোদন জরুরি বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দেন।এ কারণে যখন কোনো বাহিনী তাদের নির্ধারিত কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে,তখন তা স্বাভাবিকভাবেই আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের কিছু অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে,সন্ত্রাস দমন বা বিশেষ অভিযানের নামে স্থলপথে শহর ও গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ,আটক বা হয়রানি করা হচ্ছে।এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই অবশ্যই রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম যদি আইনের সীমা অতিক্রম করে,তবে তা নাগরিক অধিকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করেছে।সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,আইনের আশ্রয় পাওয়া এবং…
বিশেষ সংবাদদাতা।।দেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ এবং সামুদ্রিক সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই আধাসামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য “Guardian at Sea” বা সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। কোস্ট গার্ড আইন অনুযায়ী বাহিনীটি মূলত উপকূলীয় নিরাপত্তা,জলদস্যুতা দমন,চোরাচালান প্রতিরোধ,অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম (SAR), প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা,সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত থাকে। কোস্ট গার্ডের প্রধান দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে,কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম প্রধানত সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ।তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে— উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জলদস্যুতা দমন সমুদ্রপথে মাদক,অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধ দুর্ঘটনায় পড়া জাহাজ বা নৌযানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা সুন্দরবনসহ উপকূলীয় সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ চট্টগ্রাম,মোংলা ও পায়রা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচনী দায়িত্বে সীমাবদ্ধতা আইনজ্ঞদের মতে,নির্বাচনী সময় বা বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে দায়িত্ব পালন করলেও কোস্ট গার্ড সরাসরি কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারে না,যদি না একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন এবং আইনগত অনুমোদন দেন। ভোলা–বরিশাল এলাকায় অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে স্থলপথে অভিযান পরিচালনার নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,সন্ত্রাস দমন বা বিশেষ অভিযানের নামে শহর ও গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ,আটক বা মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে,কোস্ট গার্ডের আইনগত দায়িত্ব মূলত উপকূলীয় ও জলপথকেন্দ্রিক হওয়ায় স্থলভাগে এ ধরনের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি,কিছু ক্ষেত্রে এসব অভিযানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বাদী হওয়ার ঘটনাও ঘটছে,যা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে হাইকোর্টের রায় এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় উল্লেখযোগ্য।২০২২…
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের রাজধানী তেহরানে সম্প্রতি হওয়া হামলায় অন্তত একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন, জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ মাধ্যমে বলেন,মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। মাও নিং আরও বলেন,“সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।এর সমাধান কেবল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।”
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মুসল্লিদের নামাজ ও তারাবি আদায় করতে দেওয়া হচ্ছে না। মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেছেন,ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক।এর মাধ্যমে দখলদাররা মসজিদে তাদের আধিপত্য চাপানোর চেষ্টা করছে। শায়খ সাবরি আরও জানান,শনিবার থেকে মুসল্লি,শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে; ভেতরে কেবল প্রহরীরা রয়েছেন।তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ বন্ধ রাখার কারণে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষেতলাল(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি।।জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এক অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।মুন্দাইল গ্রামের আজমাদ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২) অভিযোগ অনুসারে একই গ্রামের এক গৃহবধূর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী আত্মরক্ষার্থে ধারালো বস্তু ব্যবহার করে নজরুল ইসলামের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।আহত নজরুলকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী মুকুল হোসেন জানিয়েছেন,অভিযুক্তের কাছে আগে থেকে তার স্ত্রীর প্রতি উত্ত্যক্তির ইতিহাস ছিল,কিন্তু সামাজিক সম্মানের কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন,ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সাম্প্রতিক মিলিটারি সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার কারণে অঞ্চলটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সোমবার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।বৈঠকে আলোচনা হবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি,আন্তর্জাতিক আইন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা বিষয়ে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী,নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূত,ফার্স্ট লেডি বা সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিবারের কেউ এটি করতে পারেন না। জাতিসংঘ মুখপাত্র জানিয়েছেন,বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বলা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন ও নেতাকর্মীরা উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন খাল,লেক ও নালা পরিষ্কার করেন।প্রায় দুই মাসের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ৫ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার হয়। পরবর্তীতে খালের কিছু অংশে পুনরায় ময়লা জমলে রবিবার (২ মার্চ) আফাজ উদ্দিন আবারও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেমে পড়েন।স্থানীয়রা তার উদ্যোগকে দায়িত্বশীল ও মানবিক উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে দুই বছরের চুক্তিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে,সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।তবে সংবিধান সংশোধন করে ভবিষ্যতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা যেতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,সংবিধানে নেই এমন কোনো পদক্ষেপ সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।তিনি বলেন,রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে কেউ প্রস্তাব দিতে পারলেও সবকিছু সাংবিধানিক রীতির মধ্যে হতে হবে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ সাংবিধানিক কার্যক্রমে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,বিরোধী দল যদি ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবে রাজি হন,তবে প্রথম অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান,ইরাক,কুয়েত,সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন,কাতার ও জর্দান গত শনিবার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।এর ফলে পুরো অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিস্তারিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার,ফ্লাইদুবাই,এয়ার অ্যারাবিয়া, ইউএস-বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত। ১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এয়ারলাইন্সের। ২ মার্চ (এ পর্যন্ত): ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। বিমান যাত্রীরা এ নিয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন সংসদ কয়েকদিন পর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য নয়,বরং বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। চিঠিটি সোমবার (২ মার্চ) দেওয়া হয়।এতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে বাধ্য না করার অনুরোধ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে,সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার নির্বাচন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে,অথবা প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব সুবিধামত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুয়েত থেকে: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশেপাশের এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স ও এএফপি।ঘটনা স্থলে ফায়ার ফাইটার্স ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে,দূতাবাসের এলাকায় কেউ যাওয়া থেকে বিরত থাকুক এবং বাসায় আশ্রয় নিক। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “আপনার বাসস্থানের সবচেয়ে নিচতলায় থাকুন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন। বাইরে যাবেন না।” কুয়েতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করুন এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হামলার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
সৈয়দপুর(নীলফামারী)প্রতিনিধি।।সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঢাকা ব্যাংকের শাখায় আগুন লেগেছে।আগুনের সূত্রপাত এখনও জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা বা গ্রাহক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন।ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ সংবাদ :———