নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে এবার বিদেশি ঋণের দিকে ঝুঁকছে সরকার।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলেও নতুন সরকার এখন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে আইডিবির কাছে ১০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে,যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,ঋণের সুদহার ও অন্যান্য শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আইডিবির অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।তবে শর্তে একমত না হলে বিকল্প হিসেবে চীনের এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আইডিবি প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।বর্তমানে আইডিবির ঋণের সুদহার প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ হলেও সরকার তা দেড় শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ৩ থেকে ৫ বছর এবং পরিশোধকাল ২০ থেকে ২৫ বছর হতে পারে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) আবদুল মান্নান বলেন,আইডিবি প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল-২’ নামে প্রকল্পটি প্রথম নেওয়া হয় ২০১২ সালে।এরপর অন্তত ১১ বার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।অবশেষে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধনক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন।দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এই ক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পরিশোধন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে,পরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং ডলার সাশ্রয় হবে।পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন এবং মজুত সক্ষমতাও বাড়বে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিদেশি ঋণের প্রক্রিয়ায় গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।ইতিমধ্যে এক যুগের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———