মাজহারুল ইসলাম।।১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হলো। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০.২৬% এবং হ্যাঁ ভোট পেয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি,যা মোট কাস্ট হওয়া ভোটের ৬৮.০১%। superficially এটি প্রমাণ হিসাবে দেখানো হচ্ছে যে জনগণ সাংবিধানিক “জুলাই সনদ”-এর পক্ষে।কিন্তু ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যায়,এটি সত্যের প্রতিফলন নয়; বরং এটি কৌশলী রাজনৈতিক তৎপরতা,ভোটার বিভ্রান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল।
১. আইনি ও সাংবিধানিক অসঙ্গতি
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী,কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী বা জাতীয় সিদ্ধান্ত গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা পেতে হলে তার জন্য অবশ্যই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের উপস্থিতি ও অধিকাংশ সমর্থন থাকা আবশ্যক।এই গণভোটে যদিও হ্যাঁ ভোট মোট কাস্ট হওয়া ভোটের ৬৮% পেয়েছে,তবে এটি সর্বমোট ভোটারের মাত্র ৩৭.৬%।অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ সংবিধানিক সমর্থন মোট ভোটারের মধ্যে নিশ্চিত হয়নি।এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, জুলাই সনদ আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা থেকে বঞ্চিত।
২. সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
গণভোটের সময় ভোটার উপস্থিতি কম,এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ—যেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের আশঙ্কায় ভোট দিতে পারেননি—এর কারণে ফলাফল সামাজিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ নয়।উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩২%-৫০% আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও তারা বাঁচার আশঙ্কায় বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন।অর্থাৎ ভোটটি রাজনৈতিক ভয়ভীতি ও প্রভাবের অধীনে কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
৩. অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
যদি একটি সাংবিধানিক সংস্কার জনসমর্থনহীনভাবে চালু করা হয়,তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হয়।বিদেশী বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর গুরুত্বারোপ করেন।গণভোটে প্রমাণিত অনুপস্থিতি ও বৈধতার প্রশ্ন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের নীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হয়।
৪. ভোটপ্রক্রিয়া ও জালিয়াতির আশঙ্কা
বাংলাদেশে ব্যালট সিস্টেমে নির্দিষ্ট সিলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।তবে ভোটারদের টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়ার সুযোগ থাকায় গণনা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও ভোট বাতিলের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।এ ধরনের অনিয়ম এবং অস্পষ্টতার মধ্য দিয়ে গৃহীত গণভোটের ফলাফল প্রকৃত জনগণকে প্রতিফলিত করে না।
৫. উপসংহার: জুলাই সনদ জনসমর্থনহীন
গণভোটের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ভোটার উপস্থিতি পুরো জনগণের মাত্র ৬০%।
উপস্থিত ভোটারদের এক-তৃতীয়াংশ প্রভাবিত বা ভীত হয়ে ভোট দিয়েছে।
সর্বমোট ভোটারের মধ্যে জুলাই সনদ পক্ষে ভোটের হার কেবল ৩৭.৬%।
এ সমস্ত প্রমাণ নির্দেশ করে যে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক, আইনি এবং সাংবিধানিকভাবে ভিত্তিহীন।এই প্রক্রিয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক,অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।জনসমর্থনহীন এই সিদ্ধান্তকে মান্য করা সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি অগ্রহণযোগ্য আঘাত।
![]()













































সর্বশেষ সংবাদ :———