নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার দাবি করে এবং কৌশলগত কারণে ছাত্রলীগের ছদ্মবেশ ধারণের কথা উল্লেখ করে দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন,২০১৩ সালের পর বিরোধী মতাদর্শের কর্মীদের জন্য প্রকাশ্যে রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়ে।সে প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে ছাত্রলীগের আশ্রয়ে থেকে সংগঠনের ভেতরে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তার দাবি,এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে ছাত্রলীগকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেটি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালের পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায় বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ছিল।এ সময় অনেক কর্মী নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন—এমন দাবিও মাঝেমধ্যে উঠে এসেছে।তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সীমিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ভেতর থেকে সংগঠন দুর্বল করার কৌশল বা ‘সাবভার্সন’ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন নয়। ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে দমন-পীড়নের সময় এ ধরনের কৌশল দেখা গেছে।তবে এ ধরনের কর্মকৌশল নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।
‘২৪-এর অভ্যুত্থান’ প্রসঙ্গ
সাদিক কায়েমের বক্তব্যে ‘২৪-এর অভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু অংশের আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন,সে সময়কার সহিংসতা ও সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
তবে আন্দোলনের সাফল্য একক কোনো কৌশলের ফল নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ,রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং সামাজিক ক্ষোভ—সব মিলিয়েই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
জনমনে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমে এ বক্তব্য নিয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একদল সমর্থক বলছেন,এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও সাহসী রাজনৈতিক কৌশল,যা ছাড়া বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে,এ ধরনের অনুপ্রবেশের দাবি আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের ত্যাগের প্রশ্ন তুলতে পারে। তারা রাজনৈতিক নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ ছাত্ররাজনীতিতে আস্থার সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে সাদিক কায়েমের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণও প্রকাশিত হয়নি।
বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———