নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একযোগে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হবে।প্রার্থী মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।এখন ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগই একমাত্র বাকি কাজ।তিনি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।তবে বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে,যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ইসির এক পরিপত্রে জানানো হয়,ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে।ভোট শেষে প্রিজাইডিং অফিসারদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে ফল প্রকাশ করা হবে।কেন্দ্রটির কার্যক্রম ভোটের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেসরকারি ফল ঘোষণা পর্যন্ত চলবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন,নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।
নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন,এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন।সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।এছাড়া প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ইসি ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।একই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ,১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা,মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ থাকবে।
![]()















সর্বশেষ সংবাদ :———