নিজস্ব প্রতিবেদক।।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের এক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।নির্বাচনকালীন ৯৬ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বলছেন—কালোটাকা ও অনিয়ম ঠেকানোর নামে সাধারণ মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ।
নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত সরকার ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখালেও বাস্তবে এর প্রভাব পড়বে সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও জরুরি সেবায়—এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
হাসপাতালে রোগী,কিন্তু টাকা পাঠানো যাবে না?
দেশের বাস্তবতায় একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে মুহূর্তে মুহূর্তে পরীক্ষানিরীক্ষা,ওষুধ,রক্ত,এমনকি অপারেশনের জন্য হাজার হাজার থেকে লাখ টাকা প্রয়োজন হয়।বহু পরিবার স্বজনদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা চালিয়ে যান।
কিন্তু এই ৯৬ ঘণ্টার বিধিনিষেধ কার্যকর হলে—
জরুরি চিকিৎসার টাকা পাঠানো বাধাগ্রস্ত হবে
গ্রাম থেকে শহরে দ্রুত অর্থ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে
মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে
একজন বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত রোগীর জীবনঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসা অপেক্ষা করে না, কিন্তু লেনদেন থেমে গেলে চিকিৎসাই থেমে যাবে।”
কালোটাকা রোধে প্রযুক্তি বন্ধ?
সরকারের যুক্তি—নির্বাচনে কালোটাকার ব্যবহার,ভোট কেনাবেচা ও অবৈধ অর্থ লেনদেন ঠেকানো।কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন,কালোটাকা সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ছোট অঙ্কের লেনদেনে নয়,বরং নগদ অর্থ,হুন্ডি,কিংবা প্রভাবশালী ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন হয়।
একজন অর্থনীতি বিশ্লেষকের ভাষায়,“এটা অনেকটা মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত। কালোটাকা রুখতে হলে নজরদারি বাড়াতে হয়,প্রযুক্তি বন্ধ করতে হয় না।”
নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কী বার্তা?
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যেও এক ধরনের বার্তা বহন করে—লেনদেনের প্রতিটি ধাপে নজরদারি।তবে বাস্তবে এতে তাদের দৈনন্দিন খরচ, যাতায়াত,থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
জনদুর্ভোগ ও হতাশা চরমে
দেশে যখন ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে,তখন হঠাৎ করে এমন কঠোর সীমাবদ্ধতা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—
নির্বাচনের দায় কেন সাধারণ মানুষের কাঁধে?
বিশেষজ্ঞদের মতে,কালোটাকা ও পেশিশক্তি রোধে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।অথচ নেওয়া হলো এমন এক সিদ্ধান্ত,যা সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে অসুস্থ মানুষ,দরিদ্র পরিবার ও জরুরি সেবার ওপর।
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া যেমন জরুরি,তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সচল রাখাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব—এ কথা ভুলে গেলে জনআস্থা আরও সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———