ফেনী প্রতিনিধি।।ফেনীতে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী ও তাঁর এক বান্ধবীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ সুজন (২৭) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।শুক্রবার (গতকাল) রাতে শহরের আদালতপাড়া খাজুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ অভিযুক্ত সুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আহত দুজন হলেন ফিরোজা আক্তার (২৩) ও আফসানা আক্তার (৩০)।ফিরোজা অভিযুক্ত সুজনের স্ত্রী। হামলায় ফিরোজার বাঁ হাতের চারটি আঙুল এবং আফসানার বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার সুজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ফিরোজা ও আফসানা দুজনই ফেনী শহরের হাজারী রোড এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করেন।দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে ফিরোজা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বান্ধবী আফসানার সঙ্গে ফেনী শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
শুক্রবার রাতে রামদা হাতে নিয়ে হঠাৎ ওই বাসায় প্রবেশ করেন সুজন।এ সময় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে স্ত্রী ফিরোজাকে এলোপাতাড়ি কুপাতে শুরু করেন।ফিরোজার চিৎকার শুনে আফসানা এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সুজনকে আটক করে ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আফসানার বোন আয়েশা আক্তার বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় আমরা বাসায় ছিলাম। সুজন হঠাৎ রামদা নিয়ে ঢুকে ফিরোজাকে কোপাতে শুরু করেন। আমার বোন বাধা দিতে গেলে তাকেও উপর্যুপরি কোপানো হয়। আমি ভয়ে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিই।’
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপ থেকে হামলায় ব্যবহৃত রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় আফসানার বোন আয়েশা আক্তার বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। ওই মামলায় সুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———