অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তানের সুলাইমান ও কিরথার পর্বতমালায় আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রদেশটিতে এক ডজনের বেশি স্থানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমন্বিত হামলায় টানা ৪০ ঘণ্টা লড়াই চলে।
সরকারি কর্মকর্তারা হামলাকে ‘বেপরোয়া’ কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী,এতে প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে ৩১ জন বেসামরিক,১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৪৫ জন বিএলএ যোদ্ধা। শুধু গত শনিবারই ১০০-এর বেশি মৃত্যু ঘটেছে।
প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার পুলিশ একাডেমি,আদালত ও বাজারগুলোতে সংঘাতের ক্ষত এখনও স্পষ্ট।তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার বলেছেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে’ এবং বিএলএর হামলাকে ‘শত্রুর শেষ নিশ্বাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
পাকিস্তান অভিযোগ করেছে,বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত,অর্থাৎ ভারতের উসকানি; তবে নয়াদিল্লি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে জনরোষ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিচ্ছিন্নতাবাদকে জিইয়ে রাখছে।খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ প্রদেশটিতে দারিদ্র্য,দুর্নীতি ও মৌলিক সেবার অভাব বিদ্রোহের মূল কারণ হিসেবে সামনে আসে।গোয়াদর বন্দর কেন্দ্রিক চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের সুবিধা স্থানীয়দের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
প্রদেশটির দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা,ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত এবং বিদ্রোহীদের কৌশলগত সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীর চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে।সাম্প্রতিক সেনা অভিযান ও ড্রোন নজরদারির পরও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বেলুচিস্তানে স্থায়ী শান্তি আনতে রাজনৈতিক সমঝোতা,অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতি এবং কার্যকর আঞ্চলিক কূটনীতি প্রয়োজন।
![]()



















































সর্বশেষ সংবাদ :———