রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জ রিসোর্ট কাণ্ড থেকে জাতীয় রাজনীতি: মামুনুল হক ইস্যু ঘিরে ধারাবাহিক ঘটনা ও বিতর্ক

  প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:০১:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।হেফাজত ইসলামের নেতা মোঃ মামুনুল হক–কে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে সংঘটিত একটি ঘটনার রেশ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আলেম সমাজ,রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়।

ঘটনার সূত্রপাত: রিসোর্টে আটক
২০২১ সালের মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে মোঃ মামুনুল হক এক নারীসহ অবস্থানকালে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন।ওই নারীর নাম ঝর্ণা বলে তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির আশঙ্কায় মামুনুল হক নিজেই পুলিশকে ফোন করে সহায়তা চান—এমন তথ্য তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে আসে।
তৎকালীন সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বর্তমানে সদ্য সাবেক ডিএমপির ডিবি প্রধান মোঃ হারুন অর রশীদ।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মামুনুল হককে হেফাজতে নেয়।

বৈবাহিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
ঘটনার পরপরই প্রশ্ন ওঠে—রিসোর্টে আটক হওয়া নারী ঝর্ণার সঙ্গে মামুনুল হকের সম্পর্ক কী? মামুনুল হকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়,ঝর্ণা তাঁর স্ত্রী।অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনে ও অন্যান্য দাপ্তরিক নথিতে তাঁর স্ত্রীর নাম হিসেবে আমিনা তাইয়েবা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় একাধিক মামলা হয়,যার মধ্যে ধর্ষণ মামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।মামলাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

আলেম সমাজের প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলন
ঘটনার পর হেফাজত ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও আলেম সমাজের একটি বড় অংশ মামুনুল হককে নির্দোষ দাবি করে দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করে।তাদের অভিযোগ ছিল,এটি একটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি।
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আলেম সমাজের বড় একটি অংশ তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার ও রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেয়।বিভিন্ন কর্মসূচি,বিবৃতি ও সমাবেশে সরকারবিরোধী ভাষ্য জোরালো হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকার পতনের দাবি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,মামুনুল হক ইস্যু এককভাবে নয়,বরং অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে মিলিত হয়ে সরকারবিরোধী জনঅসন্তোষ তীব্রতর করে। আলেম সমাজের একটি বড় অংশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়।
এর প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে—এমন দাবি সরকারের সমালোচক ও আন্দোলনকারীদের একটি অংশের।

পরবর্তী সময়ের বিতর্কিত বক্তব্য
সরকার পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়—একাত্তরের পরাজিত শক্তি বা পাকিস্তানপন্থী মতাদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে এবং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রচারণা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বর্তমান অবস্থা
বিশ্লেষকরা বলছেন,মামুনুল হক ইস্যুটি এখন আর শুধু একটি ব্যক্তি বা একটি মামলা নয়—এটি বাংলাদেশের ধর্ম, রাজনীতি,রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও জনমত–এর জটিল সম্পর্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে।তবে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে চূড়ান্ত সত্য উদঘাটন ছাড়া এই বিতর্কের অবসান হবে না বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

আরও খবর

Sponsered content

আরও খবর: রাজনীতি

বাংলাদেশে জামায়াত–সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও দখলবাজির অভিযোগ: একটি সংকলিত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন

নারায়ণগঞ্জ রিসোর্ট কাণ্ড থেকে জাতীয় রাজনীতি: মামুনুল হক ইস্যু ঘিরে ধারাবাহিক ঘটনা ও বিতর্ক

পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ,কারণ দর্শানোর নোটিশ

ঢাকা-৯ আসনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও যোগ্য নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা: সাবের হোসেন চৌধুরী থেকে ডা. তাসনিম জারা

লন্ডন থেকে আসা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ

দেড় বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৩৮ জন নিহত: আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত রক্তাক্ত রাজনীতির পূর্ণ ঘটনাপঞ্জি