অর্থনীতি

শেখ হাসিনার সময়ে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অন্তর্বর্তী সরকার আমলে মাথাপিছু ঋণের চাপ

  প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:০৮:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ডেস্ক রিপোর্ট।।বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গত দেড় দশকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দুটি সূচকে স্পষ্ট—একদিকে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মানুষের মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে,অন্যদিকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মাথাপিছু ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে।সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে এই বৈপরীত্যপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনার সময়: মাথাপিছু আয়ের উত্থান

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল আনুমানিক ৭০০ মার্কিন ডলার।অবকাঠামো উন্নয়ন,বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং রপ্তানিনির্ভর শিল্প সম্প্রসারণের ফলে পরবর্তী ১৫ বছরে অর্থনীতির আকার দ্রুত বড় হয়।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্য অনুযায়ী,২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২,৭০০ মার্কিন ডলার।অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মাথাপিছু আয় প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পায়।

অন্তর্বর্তী সরকার আমল: মাথাপিছু ঋণের রেকর্ড বৃদ্ধি

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি পড়ে যায় তীব্র চাপের মধ্যে।বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট,উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং পূর্বের ঋণের কিস্তি পরিশোধের কারণে সরকার নতুন করে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,২০২৪ সালে মাথাপিছু সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৪ টাকা।তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এই অঙ্ক বেড়ে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী,২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে দেশের মোট সরকারি ঋণ ২২.৫ থেকে ২৩.৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে,যা সরাসরি মাথাপিছু ঋণের বোঝা আরও বাড়াবে।

তুলনামূলক চিত্র: আয় বনাম ঋণ

সূচক শেখ হাসিনা সরকারের শুরু শেখ হাসিনা সরকারের শেষ অন্তর্বর্তী সরকার আমল

মাথাপিছু আয় ~৭০০ ডলার ~২,৭০০ ডলার স্থবির/চাপে
মাথাপিছু সরকারি ঋণ ~১৫,০০০ টাকা ১,০৬,৯৭৪ টাকা ~১,২৬,০০০ টাকা

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ

অর্থনীতিবিদদের মতে,শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ঋণ বাড়লেও তা বড় অংশে উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় হওয়ায় আয়ের প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল।তবে বর্তমান সময়ে নতুন ঋণের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে পুরোনো ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ এবং বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে।ফলে এর সরাসরি উৎপাদনমুখী প্রভাব তুলনামূলক কম।

বর্তমান সরকার আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার শর্ত অনুযায়ী রাজস্ব সংস্কার,ভর্তুকি যৌক্তিককরণ ও ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।তবে এসব সংস্কারের সুফল পেতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপসংহার

একদিকে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মানুষের আয় বেড়েছে,অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানুষের কাঁধে বাড়ছে ঋণের ভার।এই বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—মাথাপিছু ঋণের চাপ কমিয়ে আবারও আয় ও কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধিতে ফেরা।

আরও খবর

Sponsered content