প্রতিনিধি ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৪৬:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র ১৫ দিন থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা কোনো বক্তব্য না দিলেও তাঁর পরিবর্তে কথা বলেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।
ফাওজুল কবির খান বলেন,নতুন বেতনকাঠামো–সংক্রান্ত বেতন কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে।এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আর্থিক সংস্থানসহ সব দিক বিবেচনা করে এই কমিটি সুপারিশ করবে।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।
তিনি আরও বলেন,দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বেতন কমিশন গঠনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কমিশন গঠন করা হয় এবং তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।তবে এই প্রতিবেদন হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে—এমন সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নেয়নি।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা জানান,বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করা হলে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।তবে বাস্তবে সাধারণত একসঙ্গে সব স্তরে বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হয় না; ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হয়,যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।
বর্তমান সরকারের সীমিত মেয়াদের কথা উল্লেখ করে ফাওজুল কবির খান বলেন,অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো বেতন কমিশনের বিষয়টিও সেই প্রস্তুতির অংশ।
সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা বা আন্দোলনের সম্ভাবনা এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয়—সে বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বেতন কমিশনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন,এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেখেননি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে এমন কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়নি।

















