প্রতিনিধি ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:০৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগর একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গুগদ) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়,শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদ গ্রামে উঠান বৈঠক করছিলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ সেখানে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হাসান খান।এ সময় বৈঠকস্থলের পাশে রুমিন ফারহানা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়,‘আপনি পারলে থামাই দেন। আজকে আপনাকে ভদ্রতার সঙ্গে বলছি।নেক্সট টাইম কিন্তু ভদ্রতা দেখাব না।’ এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়,‘আপনাদের তারা বুইড়া আঙুল দেখায়,আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’এরপর রুমিন ফারহানাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের তারা এই রকম দেখায়।’
ভিডিওতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়,‘কে এমন করে?’জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন,‘খোঁজ নেন, প্রশাসনে বইসা আছেন।আমি যদি না বলি,এখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না।এক্সকিউজ মি স্যার,দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম,আই ওয়ার্নিং ইউ।’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ হলে আমাদের তো আসতে হবেই।’ এর উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গাতেই হচ্ছে। আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’ এ সময় তাঁর অনুসারীরা ‘ঠিক, ঠিক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।জুয়েল মিয়া নামের তাঁর এক অনুসারী জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন,‘আমার প্রতিপক্ষের জোটের প্রার্থী ও তাঁর লোকজন প্রতিদিন স্টেজ করে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আইন ভঙ্গ করছে। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।আমাকে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিস্যু পেপার বলছে,নর্তকী বলছে।আমি এসব বিষয়ে অভিযোগ করেছি। তার জবাবে তারা প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।প্রশাসন আমার প্রতিটি উঠান বৈঠকে আইনের অপপ্রয়োগ করছে।আমি কোনো স্টেজ করি না,শুধু হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি।এরপরও বারবার বাধা ও জরিমানা করা হচ্ছে।’
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার বলেন,আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাঁকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আইন সবার জন্য সমান।তাঁর যদি কোনো অভিযোগ থাকে,তাহলে লিখিতভাবে জানাতে পারেন।’
উল্লেখ্য,রুমিন ফারহানা বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দলটির নেতৃত্বাধীন জোট এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী করে।দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
















