আরও অন্যান্য সংবাদ

১৪২ বছর বয়সে সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিকের ইন্তেকাল

  প্রতিনিধি ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:১৬:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

১৪২ বছর বয়সে সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিকের ইন্তেকাল

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সময়ের চাকা ঘুরেছে প্রায় দেড়শ বছর। চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন গোটা পৃথিবীকে—মরুভূমির বালুচর থেকে আধুনিক সৌদি আরবের উত্থান পর্যন্ত সব কিছুরই জীবন্ত সাক্ষী ছিলেন তিনি।অবশেষে দীর্ঘ জীবনযাত্রার ইতি টেনে চিরবিদায় নিলেন সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিক শেখ নাসের বিন রাদ্দান আল রশিদ আল ওয়াদাই।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী,মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১৪২ বছর। গত ১১ জানুয়ারি সৌদি আরবের দাহরান আল এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।যদি পরিবারের দাবি সঠিক হয়,তবে তাঁর জন্ম হয়েছিল ঊনবিংশ শতকে—১৯৩২ সালে আধুনিক সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগেই।
শেখ নাসের আল রশিদ প্রত্যক্ষ করেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা।মরুপ্রদেশের সাধারণ জীবন থেকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সৌদি সমাজে রূপান্তরের ইতিহাস তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন।তাঁর দীর্ঘ জীবনে একাধিক সৌদি শাসকের শাসনকাল অতিক্রান্ত হয়েছে,যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য।

পরিচিতজনদের মতে,তাঁর জীবনের দুটি প্রধান স্তম্ভ ছিল—গভীর ধর্মবিশ্বাস ও পরিবার।জীবদ্দশায় তিনি ৪০ বারেরও বেশি পবিত্র হজ পালন করেছেন।বার্ধক্য কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাঁর ধর্মীয় নিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।

মৃত্যুকালে তিনি ১৩৪ জন সন্তান,নাতি-নাতনি ও তাঁদের বংশধরদের নিয়ে এক বিশাল পরিবার রেখে গেছেন।তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিস্ময়কর দিক হলো—১১০ বছর বয়সে তিনি শেষবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়,যা সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

দাহরান আল এলাকায় তাঁর ইন্তেকালে শোকের ছায়া নেমে আসে।শেষকৃত্যে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শেখ নাসের আল রশিদ চলে গেলেও রেখে গেছেন এক শতাব্দীরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত ইতিহাসের পদচিহ্ন।এক জীবনে সঞ্চিত তাঁর অভিজ্ঞতা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content