প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৪১:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা প্রতিনিধি।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লায় ব্যক্তিমালিকানাধীন যানবাহন হুকুমদখল (রিকুইজিশন) করায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গাড়ির মালিক অভিযোগ করছেন,নিজেদের টাকায় কেনা ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ নির্বাচন ডিউটির কথা বলে তাদের গাড়ির কাগজ জব্দ করেছে।

ভুক্তভোগী এক গাড়ির মালিক জানান,তার পিকআপ ভ্যানের সব কাগজপত্র বৈধ ও হালনাগাদ থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক পুলিশ কাগজগুলো নিয়ে যায় এবং জানায়—গাড়িটি নির্বাচনের ডিউটিতে ব্যবহার করা হবে।এতে তিনি আইনগত নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখল আইন,১৯৮৮–এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কুমিল্লা জেলায় ব্যাপক সংখ্যক যানবাহন অধিযাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নেজারত শাখা থেকে জারি করা স্মারক (নম্বর: ০৫.২০.১৯০০.০১৪.২৬.০০৩.২৫-৭৬৯, তারিখ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী আগামী ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচ দিনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে মোট—
পিকআপ: ১৫৯১টি
ছোট ও বড় বাস: ২৩০টি
মাইক্রোবাস/হাইচ: ৪০৫টি
নৌকা: ৩০টি
সিএনজি: ২০টি
স্পিডবোট: ২টি
রেকার: ২টি
হুকুমদখলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে,সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকদের আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে চালকসহ কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইনের যানবাহন শাখায় হাজির হতে হবে।কাজ শেষে যানবাহন ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
তবে ক্ষুব্ধ মালিকরা বলছেন,“নির্বাচন কমিশনের কি নিজস্ব গাড়ি নেই? কেন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে? গাড়ির কাগজ জব্দ করার আইনগত ভিত্তি কোথায়?”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,হুকুমদখল আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রয়োজনে যানবাহন অধিযাচন করতে পারে,তবে এতে মালিকের ক্ষতিপূরণ,নিরাপত্তা ও কাগজপত্র জব্দ না করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অন্যথায় এটি নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


















