সারাদেশ

মেহেন্দিগঞ্জে ইউনিয়ন তহসিলদারের বিরুদ্ধে নামজারি আটকে রাখার অভিযোগ

  প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩০:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের তহশিলদার সাইফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং সেবা গ্রহীতা হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হানিফ ভান্ডারী।

ভুক্তভোগী হানিফ ভান্ডারী জানান,তিনি কালিকাপুর মৌজা, খতিয়ান ৬০৪,দাগ ৬, জমির পরিমাণ ৬ শতাংশ জমি তার চাচা দলিল উদ্দিন দুলাল রাঢ়ী থেকে ১ নভেম্বর ২০২৪ সালে বায়নাপত্রের মাধ্যমে ক্রয় করেন।২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জমি হানিফ ভান্ডারীর নামে সাব কবলা দলিল হয়।এরপর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মেহেন্দিগঞ্জ ভূমি অফিসে খতিয়ান খোলার জন্য আবেদন করেন (আবেদন নং ৩৯৪১/২৫-২৬)।

কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও তহশিলদার হানিফকে জানিয়ে দেন যে তার নামে বরিশাল ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মামলা রয়েছে (৩৬৫/২০২৫ নং),এবং সেই মামলার ভিত্তিতে নামজারি আটকে দেওয়া হয়েছে।

হানিফ ভান্ডারী বলেন, “মামলাটি ১১ মাস আগে করা হয়েছে এবং আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। একই খতিয়ানে অন্যদের নামে নামজারি করা হয়েছে,তাহলে আমার নামে কেন আইনি বাধা?” অভিযোগে বলা হয়েছে,তহশিলদার ব্যক্তিগত প্রভাব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে হয়রানি করছেন।

স্থানীয়রা জানান,মামলার বাদী ইয়াসিন বেপারী ও মিলন বেপারি,সাবেক এমপি পংকজ নাথ এর অনুসারী ছিলেন।

মৌজা ও খতিয়ান সংক্রান্ত তথ্য

মৌজা: কালিকাপুর

খতিয়ান নং: ৬০৪

দাগ নং: ৬

জমির পরিমাণ: ৬ শতাংশ

আবেদন নং: ৩৯৪১/২৫-২৬

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়,একই বিএস খতিয়ানের আওতাভুক্ত জমিতে তহশিলদার পূর্বে একাধিক নামজারি খতিয়ান খুলে দিয়েছেন—যেমন

২৫-১৭৭৩ (২৪/০৭/২০২৫)

২৫-১৭৯৪ (০৮/১০/২০২৫)

২৫-১৬০৬ ও ২৫-১৭৬৭ (২২/০৭/২০২৫)

তাহলে শুধুমাত্র অভিযোগকারীর ক্ষেত্রেই বাধা কেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তহশিলদার সাইফুল ইসলাম বলেন, “মামলার কারণে হানিফের নামে খতিয়ান খোলা যায়নি,তবে অন্যান্য খতিয়ানও আদালতের মামলা চলাকালীন সময়ে কেউ অভিযোগ না করলে খোলা হয়েছে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিম হাসান জানান,বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।পূর্বে তহশিলদার সম্ভবত মামলার বিষয়ে অবগত ছিলেন না।এখন যেহেতু মামলার বিষয়টি জানা গেছে, নতুন কোন খতিয়ান খোলা হবে না।তবে পূর্বে খোলা খতিয়ানের রিভিউ করা সম্ভব।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এলটি নোটিশ নির্দেশনা

ভূমি মন্ত্রণালয়, আইন অধিশাখা-০১ ২৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে প্রেরিত স্মারক নং ৩১.০০.০০০০.০৪২.৬৭.০২৬.১৬.৯৪৩ অনুযায়ী:

“সাব-রেজিস্ট্রার অফিস হতে প্রাপ্ত এলটি নোটিশের ভিত্তিতে নামজারি কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন না হলে জনগণ হস্তান্তরজনিত নামজারির কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
এমতাবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) যথানিয়মে নামজারি কেইস রুজু করে বিধি অনুসরণপূর্বক স্বল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট জমির মিউটেশন সম্পন্ন করবেন।”

নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে,যে কোন জমি নামজারি করতে ব্যর্থ হলে,এলটি নোটিশ প্রাপ্তি মাত্রই দ্রুত মিউটেশন সম্পন্ন করতে হবে,যাতে জনসাধারণ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

ভুক্তভোগী হানিফ ভান্ডারীর আবেদন অনুযায়ী,বিষয়টি উর্ধ্বতন ভূমি কর্মকর্তাদের কাছে তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৫ অক্টোবর ২০১৬ সালের পরিপত্র অনুযায়ী,সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে এলটি নোটিশ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করতে বাধ্য।

আরও খবর

Sponsered content