সম্পাদকীয়

শিশু-কিশোর উগ্রপন্থা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যর্থতা

  প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:৫৫:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

মাজহারুল ইসলাম।।গত কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শিশু অধিকার—এই তিনটি স্তম্ভকে গভীর সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।নাবালক ও কিশোরদের জড়িয়ে সহিংস হুমকি,থানায় হামলা,অগ্নিসংযোগ এবং জাতীয় গণমাধ্যমকে ‘পুড়িয়ে বন্ধ করার’ প্রকাশ্য হুমকি—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতার শূন্যতা প্রমাণিত করছে।

আইনি পরিস্থিতি ও অভিযোগ

তাহরিমা জান্নাত সুরভী (১৭) যৌন হয়রানির অভিযোগ দিতে গেলে পাল্টা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও রিমান্ডের মুখোমুখি হন। এরপর জামিন মঞ্জুর হয়।অন্যদিকে,মাহাদী হাসান (হবিগঞ্জ সমন্বয়ক) থানায় পুলিশের উপর হামলা,লুটপাট,অগ্নিসংযোগ এবং মৃত্যুর দায় স্বীকার—এগুলো সকলেই বাংলাদেশ Penal Code 1860 (Sections 302,307,436,427) এবং Children Act 2013-এর সরাসরি লঙ্ঘন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতি এবং দমনমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া এই অপরাধীদের সাহস বাড়াচ্ছে।

শিশু-কিশোরদের রাজনৈতিক প্ররোচনা

১৭–২২ বছর বয়সী ছাত্ররা ‘জুলাইযোদ্ধা’ বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচিত। Children Act 2013-এর Section 5 & 7 অনুযায়ী,নাবালককে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানো নিষিদ্ধ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের পুনর্বাসন।কিন্তু দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এদের মব হিসেবে প্ররোচিত করছে,যা সুস্পষ্টভাবে জাতীয় নিরাপত্তা আইন 2018-এর Section 3(1) ও 4(1) লঙ্ঘন।

গণমাধ্যমের উপর হুমকি ও আইনি প্রতিক্রিয়া

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা Bangladesh Constitution Article 39(1) দ্বারা সুরক্ষিত।দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো—কালের কণ্ঠ,বাংলাদেশ প্রতিদিন,সময় টিভি,প্রথম আলো,ডেইলি স্টার—হুমকির মুখে।কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে Criminal Procedure Code 1898 অনুসরণ করা হবে,কিন্তু হুমকি, আগুন বা মব দিয়ে দমন করা অপরাধ,Section 506, Penal Code 1860-এর আওতায়।

রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা

পুলিশ,প্রশাসন,বিচার বিভাগ ও নির্বাহী—সবেই দায়িত্বহীনতার প্রমাণ।দ্রুত জামিন,দায়মুক্তি ও অমিলযুক্ত আইন প্রয়োগ দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে।আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

করণীয়

১. নাবালক ও কিশোরদের সহিংস রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা,পুনর্বাসন ও মনোবিজ্ঞানিক সহায়তা প্রদান।

২. গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা।হুমকির বিরুদ্ধে শুধু Section 506,Penal Code 1860 অনুযায়ী জিরো টলারেন্স।

৩. সহিংসতার অভিযোগ স্বাধীন তদন্তে উন্মুক্তভাবে আনতে হবে; দায় কার,তা আইনের আলোকে নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা প্রমাণ করবে।

উপসংহার

রাষ্ট্র মব বা হুমকিতে চলে না; চলে আইনে।শিশু-কিশোরদের হাতে আগুন নয়,কলম ও বই তুলে দিতে হবে।গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে নয়,আইনের মধ্যেই গণতন্ত্রের শক্তি নিশ্চিত হয়। দায়িত্বশীলতা না এলে ইতিহাস কোনো দয়া দেখাবে না।

আরও খবর

Sponsered content